১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পারিবারিক কলহ: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীর ‘আত্মহত্যা’

বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে টানাপোড়েন চলছিল তার।

পারিবারিক কলহ: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীর ‘আত্মহত্যা’
নিহত মো. রাকিব হোসেন (২৬)

বিডিনিউজ২৪

রফিক আহমদ খান, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Apr 2026, 12:26 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:17 PM

পারিবারিক কলহের জেরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। 

নিহত মো. রাকিব হোসেনের বাড়ি (২৬) হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নজরপুর গ্রামে, পিতা মো. মোবারক হোসেন। তিনি তার বাবার সঙ্গেই মালয়েশিয়ায় ঘর-বাড়ি মেরামতের কাজ করতেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে শহরের বুকিত বিনতাং এলাকার জালান ইম্বির একটি ভাড়া বাসা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত মোবারক হোসেন ৩ বছর আগে কলিং ভিসায় ছেলে রাকিবকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। 

গত বছরের নভেম্বরে বানিয়াচংয়ের দুর্গাপুর গ্রামে বিয়ে করেন রাকিব। বিয়ের মাত্র ৩ মাস পর তিনি পুনরায় কর্মস্থল মালয়েশিয়ায় ফিরে আসেন।

মোবারক হোসেনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে টানাপোড়েন চলছিল। স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে ছেলে রাকিব আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে মোবারক জানান, রাকিব তাকে ফোন করে তার অবস্থান জানতে চান এবং একটি কোমল পানীয় নিয়ে বাসায় ফিরতে বলেন। মোবারক বাসায় ফিরে কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। 

দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রাকিবকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

রাকিবের জেঠাতো ভাই আরেক প্রবাসী সেলিম মিয়া জানান, বেশকিছু দিন ধরেই রাকিব মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। 

তিনি বলেন, “রাকিব আমাকে ফোন করে তার কষ্টের কথা বলতে ডেকেছিল। আমি তার স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকেই সে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ বা সংশ্লিষ্ট পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।

বর্তমানে রাকিবের লাশ কুয়ালালামপুর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মালয়েশিয়া পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। 

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মোবারক হোসেন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ছেলের লাশ দেশে পাঠাতে মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছেন।