১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জনগণ ভোট দিলেই নির্বাচন ‘অংশগ্রহণমূলক’: শেখ হাসিনা

“তারা (বিএনপি) অংশগ্রহণ করলেই বৈধ হবে, অন্য কেউ করলে হবে না– এটা তো হতে পারে না,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

জনগণ ভোট দিলেই নির্বাচন ‘অংশগ্রহণমূলক’: শেখ হাসিনা

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Aug 2023, 07:17 PM

Updated : 29 Aug 2023, 07:17 PM

বিএনপি নির্বাচনে না এলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, “অংশগ্রহণটা কার অংশগ্রহণ। আমার কাছে অংশগ্রহণটা জনগণের অংশগ্রহণ। জনগণ ভোট দেবে, সেই ভোটে যারা নির্বাচতি হবে, জয়ী হবে, তারা সরকারে আসবে।”

দক্ষিণ আফ্রিকায় পঞ্চদশ ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা জানাতে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন সরকারপ্রধান। সেখানেই আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ আসে।

এক দফা আন্দোলনে থাকা বিএনপি সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে এবং ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই। এ অবস্থায় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে সরকার কী উদ্যোগ নেবে তা জানতে চান একজন সাংবাদিক।

উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, “এখন অংশগ্রহণ বলতে কাদের অংশগ্রহণ? ভোট চোরদের? ভোট ডাকাতদের? দুর্নীতিবাজ, মানিলন্ডারিং, খুনি, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী, জাতির পিতার হত্যাকারী, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, তাদের অংশগ্রহণ? এটা কি জনগণ চায়? তারা (বিএনপি) অংশগ্রহণ করলেই বৈধ হবে, অন্য কেউ করলে হবে না– এটা তো হতে পারে না। তাদের প্রতি মানুষের ঘৃণা, এটা মাথায় রাখতে হবে।”

গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের সময়ে সব নির্বাচনেই ‘জনগণ অংশগ্রহণ করছে’ মন্তব্য করে দলের সভাপতি বলেন, “তা না হলে ২০০৮ সালে নির্বাচনে বিএনপি তো ৩০টা আসন পেয়েছিলে। তারপর থেকে আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না। তারা বাণিজ্য করে নমিনেশন বেচে। হয়ত তারা আসবে নমিনেশন বেচবে, বাণিজ্য করবে।

“কিছু টাকা নয়াপল্টন অফিস পাবে, কিছু টাকা গুলশান অফিস পাবে, আর মোটা অংক যাবে লন্ডনে। এই তো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে! তারপর নিজেরাই মারামারি করবে পরে নির্বাচন উইথড্রো করবে। সব নির্বাচনেই জনগণ অংশগ্রহণ করেছে।”

নির্বাচনী ডামাঢোলের মধ্যে সিঙ্গাপুরে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি নেতাদের কথিত বৈঠকের বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে কয়টা নির্বাচন এই পর্যন্ত হয়ে গেল, সেটাতে কি জনগণ নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণ করতে পারেনি? হ্যাঁ, কেউ কেউ চেষ্টা করেছে, সেখানে নিজেরাই একটা গোলমাল সৃষ্টি করে সেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার, কিন্তু সেটাতে সফল হয়নি। যেহেতু জনগণ ভোটে গিয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী হাসতে হাসতে বলেন, “এখন দেশে জায়গা না পেয়ে বিদেশে গিয়ে কার শিং গজালো, সেটাতো আমি খোঁজ নিতে পারব না। বলে যে সিঙ্গাপুর, আমি বললাম যে, কোথায় যেয়ে কার শিং গজালো, সেটা আমি দেখব কোত্থেকে বলেন?

“তারা কোথাও শিং ধার করতে গেছে নাকি, যে গুঁতাটুতা মারবে, বাংলাদেশের জনগণকে ইলেকশন করতে দেবে না।”

প্রশ্নকর্তার উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “আপনি বলছেন, যে গোয়েন্দা সংস্থার খোঁজ নিতে হবে। এটা খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করব কে গেল, কে কোথায় গেল, কী করল? ওটা নিয়ে আমি চিন্তা করি না।

“শিং নাই তবু সিংহ। ওই নিয়ে চিন্তার কী আছে,” হাসতে হাসতে বলেন শেখ হাসিনা।