দুদকের ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসিফ মাহমুদের মামলা কার্যতালিকা থেকে বাদ
আসিফ মাহমুদের আইনজীবী বলেন, “নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে মামলাটি নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।”
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুটি প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার করা রিট আবেদন হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর অবকাশকালীন
বেঞ্চে ওই রিট আবেদনের ওপর শুনানি শুরুর পর সেটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
আসিফ মাহমুদের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা সাংবাদিকদের বলেন, “অবকাশকালীন বেঞ্চের শেষ কার্যদিবস হওয়ায় অনেকগুলো মামলাই কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে কোনোটিই খারিজ করা হয়নি।
“নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে মামলাটি নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।”
দুদকের ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের দুই ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত রোববার রিট আবেদনটি করেন আসিফ মাহমুদ।
তার আবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়েই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দুদক ওই দুই ব্রিফিং করেছে। এটি সংস্থাটির ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা-২০১১’ এবং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে থাকা নাগরিকের মর্যাদা ও সুনাম সুরক্ষার বিধানের পরিপন্থি।
ওই নীতিমালার ছক অনুযায়ী, কেবল দায়ের হওয়া মামলার বর্তমান অবস্থা এবং সাজার পরিসংখ্যান ছাড়া অন্য কোনো তথ্য প্রেস ব্রিফিংয়ে অবমুক্ত করার সুযোগ নেই বলে রিট মামলায় দাবি করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, ২ সেপ্টেম্বরের ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানানো হয়। পরে সংশ্লিষ্ট এক দুদক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ বললেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়নি।
এরপর ১৩ সেপ্টেম্বরের ব্রিফিংয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ৩৬ জন জেলা প্রশাসক নিয়োগ, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে শত কোটি টাকা ‘কমিশন বাণিজ্য’ এবং বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয় বলে তুলে ধরা হয় রিট আবেদনে।
ওই দুই ব্রিফিংকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয় আবেদনে।
একইসঙ্গে চলমান অনুসন্ধান বা তদন্ত নিয়ে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো প্রেস ব্রিফিং না করতে দুদকের প্রতি নির্দেশনা চান আসিফ মাহমুদ।
পাশাপাশি আগের ব্রিফিংয়ের বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশের অন্তর্বর্তী নির্দেশনা চাওয়া হয় তার আবেদনে।
