বিএনপি আবার ‘আগুন সন্ত্রাস’ শুরু করেছে: কাদের

তিনি বলেছেন, ২০১৫ সালের মত আবারও দেশে ‘আগুন সন্ত্রাস’ শুরু হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ ‘সমুচিত জবাব’ দেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Dec 2022, 11:35 AM
Updated : 2 Dec 2022, 11:35 AM

বিএনপি ১০ ডিসেম্বরের সামবেশ সামনে রেখে রাজধানীতে ‘গাড়ি পোড়ানোর’ মাধ্যমে আবারও ‘আগুন সন্ত্রাস’ শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ছাত্রলীগের সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের মত আবারও দেশে ‘আগুন সন্ত্রাস’ শুরু হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ ‘সমুচিত জবাব’ দেবে।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার মতিঝিলে বিআরটিসির একটি দোতলা বাস ‘পুড়িয়ে দেওয়া হয়’ জানিয়ে কাদের বলেন, "শুরু হয়ে গেছে... তারা আগাম জানান দিচ্ছে যে, তারা সন্ত্রাস করবে। ১০ ডিসেমম্বর সামনে রেখে তারা জানান দিল, তারা সন্ত্রাস করবে। আবারও আগুন সন্ত্রাস ফিরে আসছে।"

বিএনপি নেতাদের হুঁশিয়ার করে কাদের বলেন, "খেলা হবে। আমাদের কর্মীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ খাবে এটা মনে করবেন না। সারা বাংলায় নেত্রী বলে দিয়েছেন, প্রত্যেক ওয়ার্ডে সতর্ক পাহারা দেবে নেতা-কর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল ক্যাম্পাসে... সারা বাংলাদেশে... জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম, সব জায়গায় সতর্ক পাহারা থাকবে।”

বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও নয়া পল্টনের দাবিতে তারা অনড় থাকায় দলটির নেতাদের সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “বললাম ছাত্রলীগের সম্মেলন ৬ তারিখে নিয়ে আসছি। আপনাদের যাতে ডিস্টার্ব না হয়। শুনবে না… স্বাধীনতার ঘোষণাস্থল, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাস্থল... সেই জায়গা আপনাদের পছন্দ হয় না। পাক হানাদার বাহিনী, মুক্তিবাহিনী, মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমার্পণ করল, এই জায়গা আপনাদের পছন্দ না।

“বিএনপি ৩৫ হাজার স্কয়ার ফিটের পার্টি অফিসের সামনে থাকতে চায়। অনুমতি না দিলে আইন মানবেন না? রাস্তা অবরোধ করে জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়ে সমাবেশ কতোদিন ধরে করছেন মনে আছে?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমি এই সমাবেশ থেকে বলতে চাই, বিএনপির বিআরটিসির গাড়ি পুড়িয়েছে। আর যদি আগুন নিয়ে আসেন, সন্ত্রাস করেন সমুচিত জবাব দেওয়া হবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে।”

বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশগুলোর আগে পরিবহন ধর্মঘট এবং নেতাকর্মীদের আগেভাগে সমাবেশস্থলে জড়ো হওয়া নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “বলেছি পরিবহন চলবে। এরপরও কাথা-বালিশ লেপ-তোশক, কম্বল-মশার কয়েল সব নিয়ে এসে পল্টন এলাকা তাবু খাটিয়ে সেই ফখরুলের নেতারা এসে বসেছেন। আমরা বলেছি পরিবহন ধর্মঘট হবে না নেতারা আমাদের অনুরোধ রেখেছেন।”

অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, দক্ষিনের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, হুমায়ুন কবির কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ছাত্রলীগের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক