মির্জা ফখরুল বলেন, “বর্তমানে একটা অস্বস্তিকর কঠিন পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর দেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
Published : 30 Oct 2022, 04:53 PM
সাতই নভেম্বর ঘিরে ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনে এক দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি।
রোববার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, “বর্তমানে একটা অস্বস্তিকর কঠিন পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর দেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই চেতনার মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে।
“প্রতিটি মানুষের কাছে আমরা আহ্বান জানাই, সব পেশার মানুষকে আহ্বান জানাই, আজকে আসুন আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে আবার রক্ষা করার জন্য, আবার মুক্ত করবার জন্য, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবার জন্য…। আমরা আরও শক্তি সঞ্চয় করে এদেরকে পরাজিত করি। এটাই হবে ৭ নভেম্বরের প্রতি সবচেয়ে বড় সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো।”
সেদিন ভোরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়সহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। পরে বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলটির শীর্ষ নেতারা।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান সপরিবারের নিহত হওয়ার পর সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান হয়, জিয়া হন গৃহবন্দি।
৭ নভেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সঙ্গে যুক্ত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়া। এর মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন, পরে দেশের প্রথম সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
জিয়া মুক্ত হওয়ার পর সামরিক আদালতের কথিত বিচারে তাহেরকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। খালেদ মোশাররফ ও তার সঙ্গী মেজর হায়দারসহ অনেককে হত্যা করা হয়, যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।
বিএনপি এই দিনকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’, আওয়ামী লীগ ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ এবং জাসদ ‘সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালন করে।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির পক্ষে পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে এবং জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
সারাদেশে জেলা, মহানগর, উপজেলা পর্যায়েও জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।
অন্যদের মধ্যে আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন,শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর নেওয়াজ আলী, এবিএম মোশাররফ হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, আবদুস সাত্তার পাটোয়োরি, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, মহানগর বিএনপির রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, যুব দলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানী, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, উলামা দলের শাহ নেছারুল হক, নজরুল ইসলাম তালুকদার, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মজিবুর রহমান, মতস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আবদুর রহিম, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, লিয়াকত আলী, ছাত্র দলের রাকিবুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।