১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পুলিশের বাধায় গণসংযোগ করতে পারেনি গণতন্ত্র মঞ্চ

এসময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এসময় মঞ্চের কয়েকজন কর্মী আহত হন।

পুলিশের বাধায় গণসংযোগ করতে পারেনি গণতন্ত্র মঞ্চ

সমাবেশ করতে পারলেও পুলিশের বাধায় মঙ্গলবার গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করতে পারেনি গণতন্ত্র মঞ্চ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Dec 2023, 05:23 PM

Updated : 26 Dec 2023, 05:23 PM

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জনে গণতন্ত্র মঞ্চ তাদের গণসংযোগ কর্মসূচি শেষ করতে পারেনি পুলিশের বাধার কারণে। 

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে মঞ্চের মিছিল হাটখোলার দিকে যাত্রা শুরুর পর কিছুদূর এগোলেই পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এসময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। 

জোটের নেতা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘‘ আমরা শান্তিপূর্ণ গণসংযোগের জন্য মিছিল নিয়ে হাটখোলার দিকে যাত্রা শুরু করলে পুলিশ যে মারমুখী অবস্থার সৃষ্টি করল সেটা আপনারা (সাংবাদিকরা) দেখেছেন। এই হচ্ছে ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ বাহিনীর আচরণ। আমরা পুলিশের এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। 

“এভাবে জনগণের কণ্ঠকে ওরা বন্ধ করে রাখতে চায়। কিন্তু কোনো লাভ হবে না। জনগণ রাস্তায় নেমে গেছে, জনস্রোতে ওরা ভেসে যাবে।” 

পরে বেলা ১টা দিকে সেখানেই গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করে  কর্মসূচির সমাপ্তি টানেন। 

বেলা ১১টার দিকে মতিঝিলের টয়েনবি সার্কুলার রোডের মোড় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক অভিমুখে জেএসডির মিছিলেও পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ মিছিলকারীদের ব্যানার কেড়ে নেয় এবং কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা শুরু করে। এনিয়ে নেতাদের সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডাও হয়। 

জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল নিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলাম। পুলিশ কোনো কিছু না বলে আমাদের ব্যানার কেড়ে নেয় এবং নেতা-কর্মীদের মারধর করতে থাকে। একটা দেশের পুলিশ বাহিনী শান্তিপ্রিয় মানুষের ওপর এভাবে নির্মমতা প্রদর্শন করছে, আমাদের নেতৃবৃন্দের সাথে অসাদাচরণ করেছে, যার নিন্দার ভাষা আমার জানা নেই।” 

পরে তানিয়া রব, দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন অন্যান্য নেতাদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে চলে যান। 

গণসংযোগ শুরু করার আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে  মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে সমাবেশ করে গণতন্ত্র মঞ্চ। 

সমাবেশে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “সরকার একটা ডামি নির্বাচন আয়োজন করতে পুলিশ, প্রশাসনকে দলীয় অঙ্গসংগঠনের মতো ব্যবহার করছে। পুলিশ-গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন বাহিনীকে দিয়ে আওয়ামী লীগ এখন জনগণকে জোর করে ভোট কেন্দ্রে নিতে চায়। স্বৈরাচারের ঐতিহাসিক পরিণতির জন্য আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে।”

জোনায়েদ সাকি বলেন, “অবৈধ সরকারের ৭ জানুয়ারির ভোটে কেউ ভোটকেন্দ্রে যাবে না। সেজন্য তারা কেন্দ্রে ভোটার হাজির করাতে নানারকমের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এসব করে তারা ভোটকেন্দ্রে ভোটার আনতে পারবে না।” 

নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সারের সভাপতিত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ারের সঞ্চালনায় সমাবেশে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ইউসুফ সেলিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।