‘না’ ভোটের সুযোগ রাখার দাবি সিপিবির

নির্বাচনকালীন তদারকি সরকার ও ওই সরকারের কাজ সুনির্দিষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 July 2022, 05:28 PM
Updated : 28 July 2022, 05:28 PM

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে না গিয়ে আগামী নির্বাচনে ‘না’ ভোটের সুযোগ রাখাসহ বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি।

বৃহস্পতিবার পল্টনের মুক্তি ভবনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দলটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এসব দাবি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “এ ধরনের মতবিনিময়ে সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো যুক্তিযুক্ত হতো বলে আমরা মনে করি। নির্বাচন কমিশন এটা করেনি। এ ধরনের মতবিনিময় সভায় সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা না থাকায় মতবিনিময় বিশেষ কোনো ফল আনবে বলে আমরা মনে করি না।"

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে এই বৈঠক শেষ করার কথা।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আমন্ত্রণপত্রের কিছু অংশ উদ্ধৃত করে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক বলেন, "সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা রয়েছে, যা সময়ের সাথে সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হয়েছে।

"এছাড়াও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনসহ (ইভিএম) বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনের এই মতবিনিময় নিছক অন্যদের কথা শোনা ও নিজেদের কথা গেলানোর চেষ্টা ছাড়া কিছুই করবে না।

"তাই এই মতবিনিময়ে অংশগ্রহণের প্রয়োজন আমরা মনে করিনি।”

নির্বাচনে ‘না’ ভোট রাখার দাবি তুলে প্রিন্স বলেন, “প্রার্থী বা দলের কেউ সমর্থনযোগ্য নয় বলে কারও কাছে বিবেচিত হলে, সেক্ষেত্রে 'না' ভোট প্রদানের বিধান ও ব্যবস্থা রাখতে হবে।”

নির্বাচনকালীন তদারকি সরকার এবং ওই সরকারের কাজ সুনির্দিষ্ট করারও দাবি করেন তিনি।

ইভিএমের বিরোধিতা

সংবাদ সম্মেলনে ইভিএম নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে প্রিন্স বলেন, “কমিউনিস্ট পার্টি মনে করে ইভিএম ছিনতাই বা টেমপার করা সম্ভব। সারা পৃথিবীতে এ পদ্ধতি এখনও অনুসৃত হচ্ছে না।

"যদি কোনো কারণে ইভিএম মেশিন নষ্ট হয়, তাহলে পুরো তথ্য মুছে যায়; যা ফেরত আনার কোনো সুযোগ থাকে না।"

বাংলাদেশে এর ব্যবহার উপযোগিতা 'সীমাবদ্ধ' দাবি করে বিষয়টি ব্যখ্যা করে তিনি বলেন, "বিরাট সংখ্যক ভোটার এ ধরনের কারিগরি ইলেট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়।"

এছাড়া ইভিএমে কোনো ধরনের ইন্টারনেট, ব্লুটুথ বা ওয়াইফাই সংযোগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ উল্লেখ করে সিপিবির কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, "কিন্তু বাংলাদেশে সে ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই।”

এসময় ইভিএম মেশিনে 'ভোট ছিনতাইয়ের' কারিগরি ঝুঁকির দিকটি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন রুহিন হোসেন প্রিন্স।

“মাইক্রোকন্ট্রোলারের প্রোগ্রাম পরিবর্তনের সুযোগে কোনো কেন্দ্রে সকল প্রার্থী একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক (২০ বা ৫০ বা ১০০) ভোট পাবার পর যে কোনো ব্যালট বাটনে চাপলেই অতিরিক্ত ভোট দখলকারী প্রার্থীর প্রতীকে যুক্ত হবে, এমন প্রোগ্রামও লিখে ব্যালট ছিনতাই সম্ভব।

“যদি নির্বাচনী কর্মকর্তার স্মার্ট কার্ডের নকল কার্ড তৈরি করা হয় এবং তা যদি ইভিএমের প্রোগ্রামকে বিভ্রান্ত করে একবারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট কাস্ট করে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন হয়। তাহলে তা নির্বাচনের ফলাফলকে সম্পুর্ণরূপে পাল্টে দেবে।”

সংখ্যানুপতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন, প্রার্থীর প্রচারের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নেওয়া, জনপ্রতিনিধি প্রত্যাহারের বিধান এবং নির্বাচনকে টাকা-পেশি শক্তি, প্রশাসনিক কারসাজি, সাম্প্রদায়িক প্রচার-প্রচারণা মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সিপিবি। এছাড়া নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র সভাপতি মোহাম্মদ শাহ্ আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শামসুজ্জামান সেলিম, এ এন রাশেদা, শাহীন রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, অনিরুদ্ধ দাশ, ফজলুর রহমান, আহসান হাবীব, রুহুল আমিন, সাজেদুল হক, লুনা নূর, আবিদ হোসেন, মানবেন্দ্র দেব, লাকী আক্তার।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক