২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

আইজিপির অপসারণ চাইল এনসিপি

বর্তমান আইজিপিকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে ‘অযোগ্য লোক’ নিয়োগের নজির বলেও মন্তব্য করেছে দলটি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Oct 2026, 10:27 PM

Updated : 26 Oct 2026, 10:27 PM

সরকারের অনুমতি পেলে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করতে পিছপা হবে না বলে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির যে মন্তব্য করেছেন তার কড়া নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

এ ধরনের বক্তব্যের জন্য আইজিপিকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

সোমবার রাতে দলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিপি অবিলম্বে আইজিপিকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছে। সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালনে পুলিশ প্রশাসন বাধ্য নয়, বাংলাদেশের পেনাল কোড ও পুলিশ আইনে পরিস্কারভাবে তা উল্লেখ রয়েছে।

পুলিশ বাহিনীকে সব ধরনের বেআইনি চর্চা থেকে মুক্ত করে জুলাই সনদে বর্ণিত পথে অবিলম্বে ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনেরও দাবি তুলেছে জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা দলটি।

পুরান ঢাকায় সোমবার দুপুরে ‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেম’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে আইজিপি বলেন, “আমাদের দায়িত্ব, আইন-সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেইটাই আমরা করব। যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাও করে, আমরা সেইটা করব।”

আইজিপি এমন বক্তব্যের পরই তার কড়া সমালোচনা করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন। যদিও পুলিশ সদর দপ্তর রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, আইন প্রয়োগে কঠোরতা বোঝাতে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে বলেছেন।

আইজিপির এ ধরনের মন্তব্যের সমালোচনা করে এনসিপি বলছে, “পুলিশ প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য কেবল আইনের শাসন ও সংবিধানের পরিপন্থিই নয়; বরং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মত ঘৃণ্য অপরাধকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার বিপজ্জনক পাঁয়তারা।

“এনসিপি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চায়, সরকারের অনুমোদন বা অনুমতি দিয়েও কখনো কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখার ১৪ নম্বর দফায় বলেছিল, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটানো হবে। কিন্তু তাদের সরকারের আমলে নিয়োগকৃত আইজিপির এমন উচ্চারণ স্পষ্টতই তাদের নিজেদের অঙ্গীকারের সাথে দ্বিচারিতা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য লোক নিয়োগের সাক্ষাৎ নজির৷”

বিগত ‘স্বৈরাচারের আমল’ থেকে শিক্ষা না নিয়ে, পুনরায় পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক ও বেআইনি বক্তব্য দেওয়া চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ বলেও মনে করছে দলটি।

এনসিপির ভাষায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ক্রসফায়ার’-এর জুজু দেখানো এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্ব। এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্ররোচনা যোগাবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ উন্মুক্ত করবে।