এভাবে গুলি চললে নিষেধাজ্ঞা আরও আসবে: ফখরুল

ইসি পরিবর্তনের আওয়াজও তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Sept 2022, 02:00 PM
Updated : 11 Sept 2022, 02:00 PM

‌র‌্যাবের উপর যেমন নিষেধাজ্ঞা এসেছে, সংযত না হলে পুলিশের উপরও তেমন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, “কথায় কথায় গুলি করবেন না বেআইনি নির্দেশ নিয়ে। ওই যেমন র‌্যাবের উপরে স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) এসেছে। ঠিক তেমনি যে কোনো বাহিনীর উপরও স্যাংশন আসতে পারে। যদি না আইন না মেনে মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে থাকে।”

রোববার ঢাকার উত্তরায় এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এই হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দিতে সরকারকে আহ্বান জানান।

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত বছর র‌্যাব এবং বাহিনীর সাবেক-বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আসে।

র‌্যাব-পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী গুম-খুনের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে বলে বিএনপির অভিযোগ।

উত্তরায় ‘গুম হওয়া’ ছাত্রদলের সাজেদুল ইসলাম মুন্না ও ঝন্টু হোসেনের পরিবারের কান্নার কথা সমাবেশে তুলে ধরে ফখরুল বলেন, আজকে দেশে মানবাধিকার নেই, গুলি করে হত্যা করা হয়, গুম করে নিয়ে যায় সাদা পোশাকধারীরা।

বিএনপির আন্দোলন ‘শান্তিপূর্ণ’ দাবি করে তিনি বলেন, “দেশের মানুষ গর্জে উঠেছে। নুরে আলমরা (ভোলায় নিহত) প্রাণ দিতে দ্বিধা করে নাই। আজকে আমি ঘোষণা করতে চাই, আমরা কেউ প্রাণ দিতে দ্বিধা করবে না। আমরা এই চোর-ডাকাত আওয়ামী লীগ, তাদের হাত থেকে মুক্তি চাই।”

উত্তরায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দেখিয়ে ফখরুল বলেন, “১০ বছর ধরে এর নির্মাণ কাজ চলছে। ক্রেইনে মানুষ মেরে ফেলছে, তারপরও কাজ শেষ হয় না।

“কারণ কী? কারণ একটাই। এই যে রাস্তাটা প্রতি কিলোমিটারে নির্মাণ খরচ হচ্ছে ২১৩ কোটি টাকা। পৃথিবীর কোনো দেশে প্রতি কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করতে এত খরচ হয় না। এভাবে তারা সারাদেশে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি চলছে।”

এই ইসির অধীনে ‘নির্বাচন নয়’

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির সঙ্গে ইসি পরিবর্তনের আওয়াজও সমাবেশে তোলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, “আমাদের দাবি একটাই, এই দেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা। সরকারকে পদত্যাগ করে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

“এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে সব দলের অংশগ্রহণে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন আমরা চাই।”

চলমান সংসদের কার্যক্রম নিয়ে ফখরুল বলেন, “এখন একটা রবার স্ট্যাম্প পার্লামেন্ট। এটাকে আমরা বলি গৃহপালিত পার্লামেন্ট। এখানে কোনো বিরোধী দল কাজ করে না, এখানে দেশের মানুষের সমস্যা নিয়ে আলাপ হয় না। জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, তেলের দাম বাড়ে, করোনার চিকিতসা-এসব নিয়ে এই পার্লামেন্টে আলোচনা হয় না।

“আলোচনা হয় কী? তোষামোদি, একজনের তোষামোদি, এক ব্যক্তির তোষামোদি।”

‘খালেদা জিয়াকে ওরা ভয় পায়’

মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে, তার প্রতি অন্যায়-অবিচার করা হয়েছে। তাকে যে মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে,এটা কোনো মামলাই নয়। ২ কোটির মামলা- সেই টাকা এখন ব্যাংকে বেড়ে ৮ কোটি টাকা হয়েছে।

“আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে সব ডাক্তারা বলেছেন। কিন্তু এরা তাকে বাইরে চিকিৎসা করতে দিতে চায় না। কারণ দেশনেত্রীকে তারা ভয় পায়। যদি উনি আবার বেরিয়ে আসেন, আবার রাজপথে নামেন, তাহলে হামিলনের বংশীবাদকের মতো লক্ষ্ লক্ষ মানুষ নামবে, তখন তাদের তখতে তাউস উড়ে চলে যাবে।”

ফখরুল বলেন, “তারেক রহমান তাহেবকেও মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে দেশে আসতে দিচ্ছে না।

“আমাদের এই উত্তরায় হাজী জাহাঙ্গীরসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা। এখানে এমন কোনো নেতা নেই, যার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয় নাই। সারাদেশে এভাবে আমাদের প্রায় ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গায়েবী মামলা দেওয়া হয়েছে।”

উত্তরার পলওয়েল কনভেনশন সড়কে বিএনপি মহানগর উত্তর পূর্ব জোনের উদ্যোগে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং পুলিশের গুলিতে ভোলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম ও নারায়ণগঞ্জে শাওন প্রধান হত্যার প্রতিবাদে এই সমাবেশ হয়।

শনিবার থেকে রাজধানীতে শুরু হওয়া ১৪ দিনের ঘোষিত কর্মসূচির এটি দ্বিতীয় সমাবেশ।

সমাবেশের সভাপতি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেন, “এই সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। আমি নেতা-কর্মীদের বলব, আপনারা সকলে আন্দোলনের জন্য প্রস্ততি নিন। আমরা রাজপথেই সরকার পতনের ফয়সাল করে দেশে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।”

উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম আজাদ, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নাজিম উদ্দিন আলম, কামরুজ্জামান রতন, কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, মহানগর দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, তাবিথ আউয়াল, এস এম জাহাঙ্গীর, কফিল উদ্দিন, যুবদলের শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াছিন আলী, মহিলা দলের নায়েবা ইউসুফ, শ্রমিক দলের মুস্তাফিজুল করীম মজুমদার, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, ছাত্রদলের রাসেল বাবু।

মহানগর বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, আতাউর রহমান চেয়ারম্যান, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, আফাজউদ্দিন আফাজ, মোহাম্মদ মোস্তফা জামান, সালাম সরকার, মোয়াজ্জেম হোসেন মিটু, আকবর আলী, টিপু সরকার উপস্থিত ছিলেন সমাবেশে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক