এই লড়াই আপনাদের একার না, ঢাকা থেকে পাশে আছি: নাহিদ
ভারতে ছড়িয়ে পড়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে গণগ্রেপ্তারের পর তাদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন বাংলাদেশে চব্বিশের আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আন্দোলনরত ভারতের তরুণদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঢাকা থেকে তাদের পাশে থাকার কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বাংলাদেশে চব্বিশের আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা এই নেতা শনিবার ফেইসবুক পোস্টে বলেন, ‘‘এই লড়াই আপনাদের একার না। ঢাকা থেকে আমরাও আপনাদের পাশে আছি। ক্ষমতার জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ।’’
ভারতে চলমান ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে গণগ্রেপ্তারের দিনে তিনি লেখেন, ‘‘ইন্টারনেট বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও নেতাদের আটক করা মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। সুষ্ঠু নির্বাচনি ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি জানানো ছাত্র-নাগরিকদের ওপর এমন দমনপীড়ন চলতে পারে না।’’
ফেইসবুক পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ লেখেন, ‘‘আপনাদের এই লড়াই আমাদের পরিচিত। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এক দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জবাবে ফ্যাসিস্ট বাহিনী ছাত্র জনতার ওপর নির্বিচার গুলি চালায়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সেসময় প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আমাদের সেই অভ্যুত্থানের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরগুলো যে সংহতি দেখিয়েছিল, তা আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ ও সম্মান করি।
‘‘ভারতের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। শাহীনবাগের নারী সমাজ, জেএনইউ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলা সংগ্রাম আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমাদের জুলাইয়ের মত ভারতেও নারীরা আন্দোলনের সম্মুখ সারথি হয়ে উঠেছেন।’’
পোস্টে তিনি ভারতের শারজিল ইমাম ও উমর খালিদের মুক্তি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, “তাদের বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটকে রেখেছে ভারত সরকার। আজ তরুণ নেতৃত্বসহ আরও কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। ভারতের এসব তরুণ আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক বন্দিরা আমাদের সহযোদ্ধা। তাদের সাহস পুরো দক্ষিণ এশিয়ার যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করে। আমরা অবিলম্বে আটক নেতাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি লেখেন, ‘‘ভারতের গণতান্ত্রিক জনগণের উদ্দেশে আমাদের বার্তা: বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম আপনাদের পাশে আছে। শক্ত হোন, একে অপরকে রক্ষা করুন, সাম্প্রদায়িক ঘৃণাকে প্রত্যাখ্যান করুন এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে বিভাজন ও ফ্যাসিবাদ থেকে রক্ষা করুন।’’
