১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বৈছাআর সাবেক সমন্বয়ক রিয়াদকে রিমান্ডে চায় পুলিশ

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এই হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন।

বৈছাআর সাবেক সমন্বয়ক রিয়াদকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদ, ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Mar 2026, 03:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:03 PM

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) সাবেক সমন্বয় ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদসহ চারজনকে গুলশান থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আরমান আলী রোববার এ রিমান্ড আবেদন করেন। 

প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন বলেন, "ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেছেন।"

রিয়াদ ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার।

রিমান্ড আবেদন বলা হয়েছে, “জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে এবং প্রাথমিক তদন্তেও মামলার ঘটনার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। আসামিদের নাম ঠিকানা পিসি/পিআর যাচাই করা হয়নি। 

“মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের পূর্ণ নাম-ঠিকানা ও আসামিদের অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ এবং অভিযান পরিচালনার জন্য তাদের পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের একান্ত প্রয়োজন।”

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে রিয়াদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এই হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। অজ্ঞাতনামা ১০/২২ জনকে সেখানে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের সঙ্গে নির্জন ও তার বন্ধুদের ‘পূর্ব শত্রুতা’ ছিল। 

“বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চতুর্থ তলায় ৪১২ নম্বর কক্ষে সাক্ষাৎ হলে আসামিরা তাকে (নির্জন) সমাবর্তনে অংশগ্রহণের কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আনিসুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করার সময়ে রিয়াদের হুকুমে আসামি রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে নির্জনকে আঘাত করেন। তাতে তিনি পিঠে ও বুকে আঘাত পান।”

এজাহারে বলা হয়, “রিয়াদ সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে নির্জনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুখমণ্ডলে আঘাত করে। এতে তার নাকে লেগে উপরিভাগ কেটে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তাকে এলোপাথারি মারধর করা হয়। তখন তার বন্ধুবান্ধব ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শিক্ষকরা এগিয়ে এলে আসামিরা নির্জনকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। পরে গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের আটক করে নিয়ে যায়।”

এর আগে গত বছরের ২৬ জুলাই গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির মামলা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রিয়াদ। ওই মামলায় জামিনে কারামুক্ত হয়ে তিনি হত্যাচেষ্টা মামলায় নাম জড়ালেন।