২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

গণভোট, গুম, দুদক ও মানবাধিকার কমিশনসহ ২০ অধ্যাদেশ এখনই ‘বিল নয়’: সংসদে কমিটির প্রতিবেদন

অন্য অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ৯৮টি হুবহু, ১৫টি সংশোধন করে এবং ১৬টি আরও যাচাই করে নতুন বিল হিসেবে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে সংসদে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Apr 2026, 08:15 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:17 PM

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ২০টিকে এখনই আইনে রূপ না দেওয়ার সুপারিশ করেছে এ বিষয়ে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

আর ৯৮টি অধ্যাদেশে কোনো পরিবর্তন না এনে হুবহু এবং ১৫টি সংশোধন করে বিল আকারে তোলার সুপারিশ করে বৃহস্পতিবার সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া এখনই যে ২০টি অধ্যাদেশ বিল আকারে তোলা হবে না সেগুলোর মধ্যে চারটি বাতিল ও হেফাজতের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশেষ কমিটির এ প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেছেন, আগামী সোমবার থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা পর্যায়ক্রমে ১১৩টি বিল সংসদে উত্থাপন করবেন।

নিয়ম অনুযায়ী, ৯ এপ্রিলের মধ্যে এসব বিল পাস করতে হবে। সে হিসেবে সংসদের হাতে থাকবে চারটি কার্যদিবস। যেসব অধ্যাদেশ ৯ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে অনুমোদন হবে না সেগুলোর কার্যকারিতা লোপ পাবে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ পুনরায় বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে আইন না হলে অধ্যাদেশ ‘ল্যাপস’ হয়ে যায়। 

এদিকে সংসদে এখনই বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১টিতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিরোধী দল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এ তালিকার সব কটিতে তাদের আপত্তি নেই।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সংসদে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রহিত করার সুপারিশ পাওয়া চারটির তিনটিই বিচার বিভাগ ও আদালত প্রশাসনের কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে আছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং এর সংশোধনী। অপরটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় অধ্যাদেশ।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সংসদ না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এগুলোর মধ্যে ১১৩টিকে কোনো না কোনোভাবে সংসদে তোলার সুপারিশ করে এ বিষয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অধ্যাদেশগুলোর বড় অংশকে আইনি কাঠামোয় নেওয়ার পথ তৈরির সুপারিশ করা হয়।

তবে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গণভোট অধ্যাদেশসহ যে ২০টির তাৎক্ষণিক অগ্রগতি হচ্ছে না, সেগুলো নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মতভেদ। এগুলোই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারি দলেরও মনোভাব এসব অধ্যাদেশকে আইনে রূপ না দেওয়ার পক্ষে। বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এ নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

বিরোধী দলের আপত্তি না থাকা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আছে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ।

সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে তোলার সুপারিশ পাওয়া ১৫টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে কোথায় কী সংশোধন আনা হবে, তার বিস্তারিত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে আলাদা করে বলা হয়নি। ফলে বিল আকারে সংসদে তোলার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবেই তা স্পষ্ট হবে।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে গত ১২ মার্চ কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি অনুযায়ী চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের প্রস্তাবে জয়নুল আবেদীনকে সভাপতি করে ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। পরে ১৫ মার্চ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর প্রস্তাবে সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে যে ১৫টি সংশোধিত আকারে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশও রয়েছে। আগের আইনের সঙ্গে অধ্যাদেশটিতে নির্দিষ্ট কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যোগ করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল, মিটিং, প্রকাশনাসহ কী কী কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে, তাও যুক্ত করা হয়। অধ্যাদেশটি সংশোধন করে এবার রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পাশাপাশি শাস্তির বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।

সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয় ওই সময়কার ১৩৩টি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরুর আগে কমিটি ২৪, ২৫ ও ২৯ মার্চ বৈঠক করে অধ্যাদেশগুলোর বিষয়বস্তু যাচাই-বাছাই করে। এসময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মতামতও নেওয়া হয়।

সুপারিশে কী আছে

কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি উত্থাপিত আকারেই সংসদে বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করে।

এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন অধ্যাদেশ, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা সংশোধন অধ্যাদেশ, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স সংশোধন অধ্যাদেশ, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন রহিতের অধ্যাদেশ, ওয়াসা সংশোধন অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন অধ্যাদেশ। 

তালিকায় আছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস সংশোধন অধ্যাদেশ, দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি আইন রহিতের অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ল’ অফিসার্স সংশোধন অধ্যাদেশ, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক সংশোধন অধ্যাদেশ, দ্য এক্সাইজেস অ্যান্ড সল্ট সংশোধন অধ্যাদেশ, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন সংশোধন অধ্যাদেশ, বিভিন্ন একাডেমি, ট্রাস্ট, নভোথিয়েটার ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত একাধিক অধ্যাদেশ এবং পরিত্যক্ত বাড়ি-সংক্রান্ত সংশোধনী।

তালিকায় আরও রয়েছে- সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, কোড অব সিভিল প্রোসিডিউর সংশোধন অধ্যাদেশ, গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন অধ্যাদেশ, জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ সংশোধন অধ্যাদেশ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরি সংশোধন অধ্যাদেশ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন অধ্যাদেশ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, অর্থ অধ্যাদেশ, নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ এবং অর্থ-সংক্রান্ত কতিপয় আইন সংশোধন অধ্যাদেশ।

এ তালিকার অন্য অধ্যাদেশ হল- প্রোটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ সংশোধন অধ্যাদেশ, আইনগত সহায়তা প্রদান সংশোধন অধ্যাদেশ, কোড অব ক্রিমিনাল প্রোসিডিউর সংশোধন অধ্যাদেশ, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ভোটার তালিকা সংশোধন অধ্যাদেশ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সংশোধন অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংশোধন অধ্যাদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান সংশোধন অধ্যাদেশ, সিভিল কোর্টস সংশোধন অধ্যাদেশ, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল সংশোধন অধ্যাদেশ, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ এবং আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ।

অন্য অধ্যাদেশ হল- বরিশাল, ময়মনসিংহ, রংপুর, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার দ্বিতীয় সংশোধন অধ্যাদেশ, বৈদেশিক অনুদান স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম রেগুলেশন সংশোধন অধ্যাদেশ, বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, রেজিস্ট্রেশন সংশোধন অধ্যাদেশ, আইনগত সহায়তা প্রদান দ্বিতীয় সংশোধন অধ্যাদেশ, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ।

তালিকায় রয়েছে- জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল রহিতকরণ অধ্যাদেশ, প্রোটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন অধ্যাদেশ, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা সংশোধন অধ্যাদেশ, রেজিস্ট্রেশন দ্বিতীয় সংশোধন অধ্যাদেশ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ গ্যাস সংশোধন অধ্যাদেশ, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস সংশোধন অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন সংশোধন অধ্যাদেশ এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ।

সংশোধনের প্রস্তাব করা ১৫ অধ্যাদেশ

বিশেষ কমিটি ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংসদে বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করেছে।

এ তালিকায় আছে- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধন অধ্যাদেশ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংশোধন অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন অধ্যাদেশ, কোড অব ক্রিমিনাল প্রোসিডিউরের দ্বিতীয় সংশোধন, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশ, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা সংশোধন অধ্যাদেশ ও কল্যাণ ট্রাস্ট সংশোধন অধ্যাদেশ। 

এখনই বিল হচ্ছে না যেগুলো

বিশেষ কমিটি ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই সংসদে বিল আকারে না এনে পরে আরও যাচাই-বাছাই করে নতুন করে আনার সুপারিশ করেছে। 

কমিটির ভাষ্য, এগুলোকে ‘অধিকতর শক্তিশালী’ করে পরে বিল হিসেবে তোলার কথা বলা হয়েছে। 

এ তালিকায় আছে- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত দুই অধ্যাদেশ, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ এবং এর সংশোধনী; ভ্যাট, কাস্টমস ও আয়কর আইনের সংশোধন অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ও তার সংশোধনী, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধন অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি সংশোধন অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ ও তথ্য অধিকার সংশোধন অধ্যাদেশ। 

বাতিল ও হেফাজত হবে যে চারটি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার চারটি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে কমিটি বলেছে, এগুলো রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য সংসদে বিল আকারে তুলতে হবে।

এগুলো হল- জাতীয় সংসদ সচিবালয় অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়ের অন্তর্বর্তী বা বিশেষ কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।

বিরোধীদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’

বিশেষ কমিটিতে থানা বিরোধীদলীয় তিন সদস্য রাজশাহী-১ আসনের মো. মুজিবুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের জি এম নজরুল ইসলাম বিভিন্ন অধ্যাদেশে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।

তারা এসব অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত অবস্থায় বিল আকারে আনার দাবি করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, দুদক সংশোধন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার সংশোধন অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের মতো আইনগুলো অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস করার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরা হয়।

তারা ‘নোট অব ডিসেন্টে’ বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ‘ল্যাপস’ হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হতে পারে এবং কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে। 

গুমবিরোধী আইনের ক্ষেত্রে তারা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে সরকারি অনুমতির শর্ত কার্যকর নিরপেক্ষ তদন্তের পথে বাধা হতে পারে। 

পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে তারা আইজিপি নিয়োগ, নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তি ও পুলিশি জবাবদিহি বাড়ানোর কাঠামো হিসেবে এই আইনকে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন। 

তথ্য অধিকার সংশোধন অধ্যাদেশের ক্ষেত্রেও সরকারি সিদ্ধান্ত, চুক্তি, অডিট প্রতিবেদন ও ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য নাগরিকদের জন্য সহজলভ্য করার বিধানকে তারা সমর্থন দেন।

নোট অব ডিসেন্টে স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত কয়েকটি অধ্যাদেশ নিয়েও আপত্তি তোলা হয়। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগকে সংবিধানবিরোধী ও বেআইনি বলে তুলে ধরেন তারা।