১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

৫ অগাস্টের পর গোয়েন্দাদের দক্ষতা ‘কোথায় যেন চলে গেছে’: নাহিদ

“ক্ষমা করে যদি ভুল করে থাকি, তাহলে আমরা প্রতিজ্ঞা নেব, আর ক্ষমা করব না,” বলেন মাহফুজ আলম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Dec 2025, 09:46 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:19 PM

ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনায় দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেছেন, “গত ১৬ বছর দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে সব বিরোধীদের দমন করতে ব্যবহার করা হয়েছে। এত অভিজ্ঞ আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যে, তারা গুম-খুন সব দক্ষতার সঙ্গে করতে পেরেছিল। কিন্তু ৫ অগাস্টের পর তাদের দক্ষতা কোথায় যেন চলে গিয়েছে!

“তারা এখন আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। তারা খুনিদের বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে পার হতে দিতে পারে। তারা ৭২ ঘণ্টা পার হলেও খুনিকে ধরতে সক্ষম হয় না।”

সোমবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ’ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

হাদির ওপর হামলার ঘটনায় কেউ কেউ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। 

নাহিদ মনে করেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও কথা বলতে হবে। 

তিনি বলেন, “শুধু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নয়, কোথা থেকে এই খেলা চলছে, সেই ডিপ স্টেটকে নিয়ে আপনাদের কথা বলতে হবে; গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে আপনাদের কথা বলতে হবে।”

হাদির ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে এ ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ’ কর্মসূচি ডাকা হয়। সেখানে ভারত নিয়েও নানা মন্তব্য করেন নাহিদ।

তিনি বলেন, “ভারতের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বাংলাদেশের উপর নির্ভরশীল। ফলে ভারতকে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে সম্পর্ক রাখতে হবে। 

“ভারত যদি মনে করে, ৫ অগাস্টের পরে তারা আগের মতো বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে, নির্বাচনে কারসাজি করবে, তাদের সে ভাবনা ভুল। আমরা সবাই মিলে সে ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিব।” 

তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি উঠেছে। নৈতিকভাবে তিনি আর এই দায়িত্বে থাকতে পারেন না। ৫ অগাস্টের পরে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ফেরত আসেনি। 

“জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের টার্গেট করা হয়েছে। শহীদ পরিবারদের টার্গেট করা হয়েছে। মামলা উইড্র করা হয়েছে। তারপরও আইন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাদের পদে বহাল রয়েছে। আমরা বারবার আপনাদের সতর্ক করেছি।” 

ওসমান হাদির ঘটনা নিয়ে সিইসির মন্তব্যের সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। 

তিনি বলেন, “হাদির ওপর গুলির ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যে ইলেকশন কমিশন এ কথা বলে, সেই ইলেকশন কমিশন আর দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার রাখে না। তাদের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব কিনা, এই প্রশ্ন আমরা গত ৬ মাস ধরে করে যাচ্ছি। আমরা আশা করব, তিনি বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন।“

বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ানো মাহফুজ আলম বলেন, “আমাদেরকে অনিরাপদ করলে, বাংলাদেশে ভারত ও ভিনদেশের স্বার্থ রক্ষাকারীদের নিরাপদে থাকতে দেওয়া হবে না। 

“আমাদের হাতে যখন মুজিববাদী, ১৪ দলীয় সন্ত্রাসীদের প্রত্যেকের বাড়ি চুরমার করে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল, তখন আমরা নিজেদের সংবরণ করার কারণে আজ তারা এটি করার (ওসমান হাদিকে গুলি) সাহস করেছে। ক্ষমা করে যদি ভুল করে থাকি, তাহলে আমরা প্রতিজ্ঞা নেব, আর ক্ষমা করব না।

তিনি বলেন, “দেশের ভেতরের রাজনৈতিক লড়াইকে যারা দেশের বাইরে নিয়ে গেছে, তাদেরকে হুঁশিয়ার করতে চাই, মুক্তির লড়াইও কিন্তু দেশের বাইরে যাবে।”

মাহফুজ বলেন, “আমাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। একটা লাশ পড়লে আমরা কিন্তু লাশ নেব। কোনো সুশীলতা করে লাভ নেই; অনেক ধৈর্য হয়েছে। অনেক রিকনসসিলিয়েশন, অনেক কথা বলেছি। 

“আমরা বলেছি, আইসিটি ট্রাইব্যুনালে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচার করুন। কিন্তু একদিকে বিচার চলছে, অন্যদিকে আইনের ফাঁক দিয়ে ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেবেন, ভারত থেকে সন্ত্রাস করবেন, ভাইয়ের উপর গুলি চালাবেন, আমরা এটা বরদাস্ত করব না।” 

তিনি বলেন, “আমরা যদি নিরাপদ না থাকি, এই দেশে আমাদের শত্রুরাও নিরাপদ থাকতে পারবে না।”

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জৈষ্ঠ্য যুগ্ন আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র আলী আহসান জুনায়েদ, আমাদের দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় ছাত্র সংসদের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসান উপস্থিত রয়েছেন।