১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রুমিন ফারহানার মধ্যে ‘শেখ হাসিনার ছায়া’ দেখেন রাশেদ

“হয়ত এ পারফরম্যান্স দেখে রুমিন ফারহানা আপাকে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশ শাখার সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব দিতে পারে শেখ হাসিনা।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 10:27 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ছায়া’ দেখতে পাওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

গেল বুধবার জাতীয় সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনার সময় রুমিন ফারহানা গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট, দুর্নীতি এবং ঋণখেলাপি বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। 

এ সময় ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা হইচই করে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে রুমিনকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগও ওঠে।

বিলের আলোচনায় রুমিন বলেন, “প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরীব কৃষক সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না, সেটাও হইতে পারে না।

“বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না।” 

এর প্রতিক্রিয়ায় একদিন পর ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, “রুমিন ফারহানা আপার মধ্যে শেখ হাসিনার ছায়া দেখা যায়। যখন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইনের ফেসবুক পোস্ট আর রুমিন ফারহানা আপার ফেসবুক পোস্টের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না, তখন বলতেই হয়, জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের একমাত্র যোগ্য প্রতিনিধি রুমিন ফারহানা আপা! 

“হয়ত এ পারফরম্যান্স দেখে রুমিন ফারহানা আপাকে আ. লীগের বাংলাদেশ শাখার সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব দিতে পারে শেখ হাসিনা।”

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জের ধরে ওই পোস্টে রাশেদ আরও বলেন, “তিনি গতকাল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার বক্তব্য তার অতীত বক্তব্যের সাংঘর্ষিক। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে নমিনেশন পাওয়ার আগে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী এমপি হয়ে সংসদ গিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্যের ফটোকপি গতকাল বিএনপির বিরুদ্ধে উত্থাপন করেছেন রুমিন ফারহানা আপা।

“আর জামায়াতের আমির তাকে বেশ উৎসাহ দিয়েছেন। কিন্তু তিনি কি ভুলে গেছেন যে, কিছুদিন আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের সময় জামায়াতের ৯০ জন এমপি কীভাবে হট্টগোল করছিল? নিজেরা যে সংস্কৃতির সূচনা করেছেন, সেই ধরনের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কথা বলা তো বেমানান।”

অতীতের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ বলেন, “আরেকজন জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে মূলত থুতু উপরের দিকে ফেলে নিজের গায়েই মাখলেন, আর স্মরণ করিয়ে দিলেন ওই সরকারের কৃষিমন্ত্রী ছিলেন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আর সেটি ছিল বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার। 

“পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, জাতীয় সংসদে জামায়াত এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানারা সবাই আওয়ামী বয়ানের পক্ষে বেঁধেছে জোট! কিন্তু জাতি কি ভুলে গেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা আপা হাসনাত আব্দুল্লাহকে ফকিন্নির বাচ্চা বলে সম্বোধন করেছিল?”