১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিবন্ধীদের জন্য ভোটকেন্দ্রের নিচতলায় ভোটকক্ষ রাখার দাবি বি-স্ক্যানের

সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ভোটার বলেন, তাদের অনেককে দ্বিতীয় বা তৃতীয় তলায় গিয়ে ভোট দিতে হয়েছে, যা তাদের জন্য কষ্টকর ছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2026, 08:27 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

নির্বাচনে প্রতিবন্ধী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সব ভোটকেন্দ্রের নিচতলায় তাদের জন্য ভোটকক্ষ রাখাসহ নয় দফা সুপারিশ দিয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেইঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান)।

রোববার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সংগঠনটি এসব সুপারিশ তুলে ধরে।

বি-স্ক্যানের নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ ফলাফল ও নীতিগত সুপারিশ অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করেন।

সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ভোটার বলেন, তাদের অনেককে দ্বিতীয় বা তৃতীয় তলায় গিয়ে ভোট দিতে হয়েছে। অধিকাংশ কেন্দ্রে লিফট না থাকায় অন্যের সহায়তা নিয়ে ভোটকক্ষে যেতে হয়েছে, যা তাদের জন্য কষ্টকর ছিল।

বি-স্ক্যানের পরিচালক ইফতেখার মাহমুদ ও সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান জানান, সংস্থাটির ৭১ জন প্রতিবন্ধী নির্বাচন পর্যবেক্ষক ঢাকা, দিনাজপুর, ফরিদপুর ও মেহেরপুর জেলার আটটি সংসদীয় আসনের ১০০টি ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি ২৮টি ভোটকেন্দ্রের প্রবেশগম্যতার মূল্যায়ন করা হয়।

এসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ৯ দফা সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

১. রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তত ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় সংসদে তাদের জন্য অন্তত পাঁচটি সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করা।

২. জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকারবিষয়ক সনদ সিআরপিডি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রবেশগম্যতা, প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা, স্বাধীনভাবে ভোটদান, প্রতিকার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

৩. সব ভোটকেন্দ্র প্রবেশগম্য করা এবং প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য নিচতলায় আলাদা ভোটকক্ষের ব্যবস্থা রাখা।

৪. নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণার্থী ও অন্যান্য দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করা।

৫. ব্রেইল, সহজপাঠ, বড় অক্ষর, অডিও ও ইশারা ভাষায় ভোটার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা।

৬. নির্বাচন কমিশন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোর (ওপিডি) মধ্যে স্থায়ী সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলা।

৭. প্রার্থী, রাজনৈতিক নেতা, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো।

৮. যারা ভোটকেন্দ্রে যেতে অক্ষম, তাদের জন্য ডাকযোগে (পোস্টাল ব্যালট) বা বিকল্প ভোটদানের ব্যবস্থা বিবেচনা করা। 

৯. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিবন্ধন ও তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।

এসব দাবির সবগুলোই যৌক্তিক বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন “আপনাদের অনুরোধ করব, আপনারা যদি দাবিগুলো আরও প্রিসাইজ আকারে লিখিতভাবে আমাদেরকে অবহিত করেন, সেটা অবশ্যই গ্রহণযোগ্যভাবে বা যদি গ্রহণযোগ্য মনে করি, অবশ্যই নেব। সামনের নির্বাচনে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় আমরা তা আলোচনা করে দেখব।”

অন্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, নুসরাত তাবাসসুম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক সোনামনি চাকমা এবং ইপিডি প্রকল্পের পরিচালক আনাস্থা এস উইবাওয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।