খালেদা জিয়া বানভাসিদের পাশে থাকতে বলেছেন: ফখরুল
বানভাসিদের ‘কষ্ট লাঘব না হওয়া’ পর্যন্ত তাদের পাশে থাকতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব।
কোরবানির ঈদের রাতে গুলশানে বিএনপিনেত্রীর বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার পর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণায় যেখানে বন্যায় মানুষ প্লাবিত হয়েছে, এই দুর্গত মানুষের খবর আমাদের কাছ থেকে তিনি নিয়েছেন।
“তিনি আমাদেরকে বলেছেন, তোমরা যেভাবে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছ, ঠিক সেভাবেই তোমরা বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে থাকবে তাদের কষ্ট লাঘব না হওয়া পর্যন্ত। তিনি মনে করেন, বন্যার্তদের সেবা করা মানে হচ্ছে মানুষের সেবা করা এবং এটাই রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।”
অসুস্থ খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানিয়ে ফখরুল বলেন, “তিনি এখন যে অসুস্থতায় আছেন, সেই অবস্থায় তার ইমিডিয়েন্ট কোনো বিপদ না থাকলেও তিনি কিন্তু এখনও অসুস্থ আছেন। আমরা যে কথা বারবার বলে আসছি যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাইরে চিকিৎসা এজন্য না যে- তিনি বাইরে যাবেন, সেই জন্য।
“এখনকার ডাক্তাররা যারা তার চিকিৎসা করছেন, তারা সবাই বার বার করে বলেছেন যে, উন্নত চিকিৎসা তার (খালেদা জিয়া) দরকার, সেই উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র এখানে নেই। যে কারণে তারা (চিকিৎসকরা) মনে করেন যে, ম্যাডামের যদি সত্যিকার অর্থে সম্পূর্ণ রোগমুক্ত করার জন্য চিকিৎসা করা দরকার তাহলে সেটা অবশ্যই দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া প্রয়োজন।”
সাক্ষাতে দেশের রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “উনি আমাদের দলের প্রধান, দলের চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিনি তিন বার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এখনও তিনি দেশের চলমান যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন তার খোঁজ-খবর রাখছেন।
“তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ- তারা নিশ্চয় গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবে।”
বিএনপি চেয়ারপারসন দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও জানান দলের মহাসচিব।
রাত সাড়ে ৮টায় মহাসচিবের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটি সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান গুলশানের ‘ফিরোজা’য় প্রবেশ করেন। দেড় ঘণ্টা সাক্ষাত শেষে রাত ১০টায় তারা বেরিয়ে আসেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান যুক্তরাষ্ট্রে এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নিজ নির্বাচনী এলাকায় থাকায় এ সাক্ষাতে তারা অংশ নিতে পারেননি। এর আগে গত রোজার ঈদে বিএনপির নীতিনির্ধারক ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’র সদস্যদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাক্ষাৎ হয়।
ঈদের দিন সকালে খালেদা জিয়ার বোন সেলিনা ইসলাম, ছোট ভাই প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দারসহ কয়েকজন নিকট আত্মীয় গুলশানে বাসায় যান। খালেদা জিয়া তাদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছেন।
কোভিডের প্রকোপ আবার বৃদ্ধি পাওয়ার অসুস্থ খালেদা জিয়া আইসোলেশন থাকছেন। সেজন্য আত্মীয়-স্বজনদের ফিরোজায় যেতে চিকিৎসকদের বারণ রয়েছে।
দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুই বছরে চারটি ঈদ কারাগারের কাটাতে হয়েছে।
২০২০ সালে ২৫ মার্চ পরিবারের আবেদনে খালেদা জিয়াকে সরকার নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয়। তখন থেকে গুলশানের বাসা ফিরোজায় থাকছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এর মধ্যে অসুস্থতার কারণে কয়েক দফা হাসপাতালে যেতে হয়েছে তাকে।
