২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮ আশ্বিন ১৪৩৩

খালেদার কিছু হলে সরকারের সবার ‘বিচার’ করার হুঁশিয়ারি ফখরুলের

‘উন্নত চিকিৎসার অভাবে’ খালেদা জিয়ার কিছু ঘটে গেলে সরকারের প্রত্যেককে ‘হত্যা মামলার আসামি’ করে বিচারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jan 2022, 07:23 PM

Updated : 02 Aug 2022, 02:29 PM

বুধবার এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শরীরিক অবস্থা জানাতে গিয়ে এমন হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, “তারা (সরকার) জেনেশুনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটা হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশনেত্রীকে হত্যা করতে চায়।

“আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার অভাবে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে তাদের প্রত্যেককে হত্যার আসামি করে বিচার করা হবে।”

সরকার খালেদা জিয়াকে ‘রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চায়’ অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশের মানুষ যখন দল-মত নির্বিশেষে চাচ্ছে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হোক, তখনই শেখ হাসিনার সরকার এবং শেখ হাসিনা, তারা অত্যন্ত ভয়াবহভাবে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে (খালেদা জিয়া) বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে দিচ্ছে না।

বিএনপি চেয়ারপারসন এখন ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ মন্তব্য করে দলের মহাসচিব বলেন, “চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন, তখন তারা (সরকার) বিদেশে যাওয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থাই করছে না। উপরন্তু তারা আইনের কথা বলে তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

“কোনো আইন মানুষের চেয়ে বড় নয়। আজকে দেশের জন্য তার যে অবদান, এ দেশের প্রতি, এ দেশের গণতন্ত্রের প্রতি, এ দেশের উন্নয়নের জন্য তার যে অবদান, সেই অবদানকে স্বীকার তাকে এই মুহূর্তে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো দরকার।”

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখন সরকারের নির্বাহী আদেশে সাময়িকভাবে মুক্ত। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি।

পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চাওয়া হলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের যে চিকিৎসকরা আছেন, তারা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন, তারা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করছেন দেশনেত্রীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। গত পরশুও তার রক্তক্ষরণ হয়েছে।

“আমি গতকাল ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছি, তারা বলেছেন, আমাদের যে চিকিৎসা সুবিধা আছে, যে কারিগরি সাপোর্ট আছে, সেই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা এখন যা করছি তা অত্যন্ত সাময়িক। যে কোনো সময়েই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের আশঙ্কা মারাত্মক হয়ে দেখা দিতে পারে।”

খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে ‘দুর্বার আন্দোলন’ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের অষ্টম বার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এই প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন হয়। সেই নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি প্রতিবছর দিনটি পালন করে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে।

বিএনপির মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, মীর সরফত আলী সপু, আজিজুল বারী হেলাল, নাজিম উদ্দিন আলম, শামীমুর রহমান শামীম, কাজী রওনকুল ইসলাম টিপু, যুব দলের মোরতাজুল করীম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মহানগর বিএনপির নেতা নবী উল্লাহ নবী, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, উলামা দলের নজরুল ইসলাম তালুকদার, ছাত্রদলের ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তৃতা করেন।