Published : 21 Aug 2026, 04:07 PM
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকারের পক্ষ থেকে ‘সংকীর্ণভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে’ বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
তার ভাষ্য, ভোটের ফল কী হবে, তা জানা সত্বেও জনগণের সামনে বিরোধী দলের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং গণতন্ত্রের দাবি জোরালো করতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারা।
শুক্রবার দুপুরে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আযাদ এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
আগের দিন বৃহস্পতিবার বিএনপির প্রার্থী দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ‘১১ দলীয় ঐক্য’ এর প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
ভোটের হিসাবে বিএনপির প্রার্থীই জিতবেন, তা আগে থেকে জানা ছিল। বিরোধী দল প্রার্থী দেওয়ায় প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হল।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে না দেখে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে।
“একজন মন্ত্রিসভার সদস্য বলেছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বিরোধীদলের সংবিধান সংস্কার পরিষদে নেওয়া শপথ আর টেকে না। আমরা জানতে চাই, এই যুক্তি যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথ কীভাবে বৈধ থাকে? কারণ ২০২৬ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।”
সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একইদিন গণভোট হয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে এখনো সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়নি।
জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণ ছিল সরকারের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন উদ্যোগ।
“নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা আমরা আগেই জানতাম। তবুও আমরা অংশ নিয়েছি জনগণের সামনে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং গণতন্ত্রের দাবি জোরালো করতে।”
তিনি বলেন, “জনগণ নতুন করে উপলব্ধি করেছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই করতে সংবিধান সংস্কার কেন অপরিহার্য।”
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা না করে এর অন্তর্নিহিত গণতান্ত্রিক বার্তা উপলব্ধি করার আহ্বান জানাই।
“জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না।”