১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

৬ মাসে একটি ‘রাজনৈতিক নিপীড়নও’ ঘটেনি: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ মুখপাত্রের দাবি, ‘‘দেশজুড়ে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে তারেক রহমান যেখানেই গিয়েছেন, জনগণের ঢল নেমে এসেছে।”

৬ মাসে একটি ‘রাজনৈতিক নিপীড়নও’ ঘটেনি: মাহদী আমিন
মাহদী আমিন। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেইসবুক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 06:35 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:57 PM

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাসে দেশে ‘একটি বারের জন্য কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন’ ঘটেনি বলে দাবি করেছেন মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ উপদেষ্টা বলেছেন, ‘‘গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ মানবিকতা দেখেছি। একটি বারের জন্য কখনো কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন ঘটেনি।

“আমরা দেখেছি, কীভাবে উসকানি দেওয়া হয়েছে, অশোভন আচরণ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য এবং সহনশীলতার মাধ্যমে, ঠিক যেভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।”

বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের বড় সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে সোমবার এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন, যিনি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্রের দায়িত্বেও আছেন।

এদিন তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় এ অনুষ্ঠান হয়। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।

তিনি বলেন, ‘‘গত ছয় মাসে অজস্র জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে যেখানেই গিয়েছেন, ঠিক জনগণের ঢল নেমে এসেছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ধারণ করে বর্তমানে আমাদের যে সরকার, সেটি বারবার জনগণের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

“সরকারের এই ছয় মাসের সবচেয়ে যেটা ‘ডিফারেন্ট’ একটা বিষয় চোখে করার মতো, সেটা হচ্ছে, নির্বাচন ইশতিহারকে ধারণ করে সেখানকার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য অবিরত কাজ করে চলেছে। আমরা দেখেছি, এই ছয় মাসে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কীভাবে সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমে অনুমোদিত হয়েছে।”

বর্তমান সরকারের সময় সংসদ অধিবেশনও অন্যান্যবারের চেয়ে ‘প্রাণবন্ত’ ছিল বলে মনে করেন মাহদী আমিন। 

তিনি বলেন, ‘‘গত ছয় মাসে আমরা দেখেছি, অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং স্বতস্ফূর্ত জাতীয় সংসদ, যেখানে সংসদ সদস্যরা একে অপরের সমালোচনা করেছেন, যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেছেন। 

“দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন যে, সরকারের গঠনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে।”

আওয়ামী লীগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত যে অধ্যাদেশ, সেটিকে সংসদে আইনে রূপান্তরের মাধ্যমে সন্ত্রাসী একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

‘১৮০ দিন : মানুষের মর্যাদা ও সন্মান প্রতিষ্ঠা’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার গত ছয় মাসে কী কাজ করেছে, আমি বলি সেটি হচ্ছে, এই রাষ্ট্র-সমাজে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা, মানুষের সম্মান প্রতিষ্ঠা করা। এগুলো আমরা দেখিনি; আগে ছিল না। আপনারা দেখেছেন, মিরপুরে যখন শিশু রামিসা হত্যা হত্যা হলো, সেই শিশু রামিসার ঘরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে গিয়েছেন। এর মানে হচ্ছে মজলুমের ঘরে যখন সরকারপ্রধান যান, তখন বুঝতে হবে যে আসলে এমন বাংলাদেশে আমরা প্রত্যাশা করি, যেখানে জনগণের কাছে রাষ্ট্র বা সরকার দায়বদ্ধ।”

প্রেস সচিব বলেন, ‘‘গতকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (কিশোরগঞ্জ) গিয়েছিলেন। আপনারা দেখবেন, আমাদের একটা বাস আছে। আমরা বাসে যাওয়ার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন যাচ্ছেন, তখন বাস থেকে প্রধানমন্ত্রী খেয়াল করেছেন যে, কিছু সময় সম্ভবত রাস্তাটা খুব ক্লিয়ার।

“উনি সঙ্গে সঙ্গে নোটিস করলেন এবং কনসারন অথরিটিকে বললেন যে, সামনের দিকে যেন আর কখনো না হয়। সাধারণ মানুষ যেভাবে যাবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেভাবে যাবেন। এই যে নিজেকে আলাদা করে না রেখে জনগণের সঙ্গে মিশে যাওয়া, জনগণের একজন হয়ে যাওয়া, এমন বাংলাদেশ কিন্তু আমাদের প্রত্যাশার জায়গায় ছিল এবং আমরা সেই বাংলাদেশটা পেয়েছি।”

মাহদী আমিন সরকারের ১৮০ দিনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে বলেন, “১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যে বাংলাদেশকে আমরা নতুন করে পুনর্গঠন করছি, সেখানে মাত্র ছয় মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা হয়ত কিছুটা দুরূহ। তবে একটি বিষয় আজ নিশ্চিতভাবে বলা যায়, প্রতিটি ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই নির্বাচিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের রয়েছে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা।”

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী এবং  প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র  বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারি এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারি সাইমুম পারভেজ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এসএম আব্দুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারি রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারি প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ উপস্থিত ছিলেন।