র্যাবের অবকাঠামোতে ‘এসআরবি’ না করার দাবি জেএসডি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের
“সরকার প্রতিদিন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে,” বলেন হাসনাত কাইয়ুম।
র্যাব বিলুপ্ত করে তাদের অবকাঠামোতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা ‘এসআরবি’ গঠনের বিরোধিতা করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা।
মঙ্গলবার দুই দলের যৌথ আলোচনা সভায় এসআরবি গঠন বন্ধের দাবি ওঠে বলে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
‘র্যাব থেকে এসআরবি: কসাই বাহিনীর পুনর্বিন্যাস, গুম-খুনের নতুন বন্দোবস্ত’ শিরোনামে এ সভা হয়।
এতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, “সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অধীন কাজ করার কথা নয়।
“ক্ষমতা কাঠামোর কারণে এসব বাহিনী ক্রমাগত ভয়ংকর হয়ে ওঠে। গুমের শিকার যারা, তারাও আজ সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলছে না।”
জিজ্ঞাসাবাদের নামে নতুন করে বন্দিশালা স্থাপন করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সরকার প্রতিদিন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। লড়াইয়ের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করতে হবে।”
গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিল পাস হয়।
র্যাবের জনবল, সম্পদ, নথিপত্র, স্থাপনা, তহবিল ও দায়দায়িত্ব নতুন ইউনিটে হস্তান্তরের বিধান থাকায় বিরোধী দলের সদস্যরা বলছেন, কার্যত একই বাহিনীকে নতুন নামে রাখা হচ্ছে।
একই ধরনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, “বিচার বহির্ভূত হত্যার কারণে র্যাব নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত। অথচ সেই র্যাব আবার এসআরবি নামে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। বিদ্যমান বাস্তবতায় সরকার নতুন করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নতুন বাহিনী তৈরি করছে। রাষ্ট্রীয় সব ‘নিপীড়নবাহিনী’ বিলুপ্ত করতে হবে। ক্ষমতা কাঠামোর পরিবর্তন করতে হবে।”
সাবেক আইজপি বাহারুল আলম বলেন, “র্যাবের চেয়ে এসআরবিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, এমন কোনো আইন করা যাবে না।”
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভায হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শহীদুল্লাহ ফরায়জী।
তিনি সাতটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো - এসআরবি নামে র্যাব পুনপ্রতিষ্ঠা বন্ধ; প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিতর্কিত বিশেষ বাহিনীর কাঠামোতে না রাখা; গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।
