দিল্লিকে খুশি করতেই রাজনৈতিক ঐক্যে ফাটল ধরানো হয়েছে: পাটওয়ারী
“শেখ হাসিনার সময় ছিল কোটাপ্রথা, আর এখন তারেক রহমানের হাতে এসে তৈরি হয়েছে ভাইভা প্রথা,” বলেন আখতার হোসেন।
জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে যে ‘ঐক্য’ গড়ে উঠেছিল, নয়া দিল্লিকে ‘খুশি করতে’ বিএনপি তাতে ফাটল ধরিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, “সকল দলের ঐকমত্যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা খুনি ছিল, তাদের বিচার করা হবে। কিন্তু আমাদেরই কিছু বন্ধুপ্রতিম ভাই-বোন টাকার, পদ বা ভোটের কাছে বিক্রি হয়ে সেই খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন। এর ফলেই আজ গুলশানে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বড় বড় মিছিল দেখা যাচ্ছে।”
পাটওয়ারী বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রসমাজ, নাগরিক সমাজ, জামায়াতে ইসলামী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা ও বিএনপির মধ্যে একটি ঐক্য ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের কারণে সেই ঐক্যে ফাটল ধরানো হয়েছে।
“এই ফাটল দিল্লির দাদাবাবুদের খুশি করতেই করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে ঐক্যে প্রথম ফাটল ধরানোর অভিযোগও বিএনপির দিকেই উঠছে।”
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম কাউন্সিলে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নানা সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে পূর্বের অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে।
“বিএনপি সরকারের এই অগণতান্ত্রিক আচরণের নানা নিদর্শন ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতার দখলদারিত্ব ও গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা এখনো শেষ হয়নি।”
বিএনপির নেতাকর্মীদের চাকরি দিতে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করেন আখতার হোসেন।
এনসিপির এই সদস্য সচিব বলেন, “সরকার বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে পিএসসি সংস্কারের প্রশ্নে পশ্চাৎপদ ভূমিকা পালন করছে।
“পিএসসিতে তিনটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব এড়িয়ে এখন ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেন নিজেদের লোকজনকে চাকরি দেওয়া যায়।”
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে সংসদ সদস্য আখতার আরও বলেন, “শেখ হাসিনার সময় ছিল কোটাপ্রথা, আর এখন তারেক রহমানের হাতে এসে তৈরি হয়েছে ‘ভাইভা প্রথা’।
“আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, কোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা নতুন সরকারকে বলব, ভাইবা বিষয়ে পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে নম্বর কমিয়ে আনুন এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করুন।”
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ সমঝোতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ প্রশস্ত করা হলে আগামীতে বিএনপি পাঁচ বছর স্থিতিশীলভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে গুম, খুন, জুলুম ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, সমঝোতার রাজনীতি বেছে নিলে আগামী বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদেরও চরম হয়রানি ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। এর পরিণতির দায়ভার বিএনপিকেই নিতে হবে এবং এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।”
