Published : 28 Oct 2023, 01:36 PM
সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে মহাসমাবেশের কার্য্ক্রম শুরু করেছে বিএনপি।
শনিবার ঢাকার নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে নয়টি বড় ট্রাক পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে তৈরি করা মঞ্চে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন।
আগের নির্ধারিত সময় দুপুর ২টার কিছু আগেই কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় মোনাজাত করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। প্রধান অতিথি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
হাজারো নেতাকর্মীদের স্লোগানের মধ্যে মহাসমাবেশে প্রথম বক্তব্য দেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।
এর আগে সমাবেশ আনুষ্ঠানিক শুরুর আগে জাসাস শিল্পীরা দেশাত্মবোধন ও আন্দোলনকে ঘিরে গান পরিবেশন করেন।
সরকার হটানোর আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ মহাসমাবেশ ডাকে বিএনপি।
এদিন সকাল থেকে নয়া পল্টন ও আশপাশের সড়ক হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মহাসমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
এতে যোগ দিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাকরাইল থেকে পায়ে হেঁটে ভিড় ঠেলে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। এর আগে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়া পল্টনে আসতে শুরু করেন সকাল থেকেই।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল ভরে ওঠে কানায় কানায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বেঁধে দেওয়া সীমানা পেরিয়ে শান্তিনগর মোড় থেকে কাকরাইল, আরামবাগ পুলিশ বক্স থেকে ফকিরেরপুল পর্যন্ত সড়কে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন।
মানুষের ভিড় থাকায় কাকরাইল থেকে বিজয়নগরমুখী ও ফকিরাপুল থেকে দৈনিক বাংলা মোড়ের দিকে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এরইমধ্যে নয়াপল্টন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, তারা সতর্ক অবস্থানে আছে।
সাদা, নীল, লাল, সবুজ ও হলুদ টুপি মাথায় হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিতি মঞ্চের আশেপাশ এলাকায় দাঁড়ানোর মতো জায়গা নেই। তাদের হাতের আছে জাতীয় ও দলীয় পতাকা। অনেকে মাথাতেও জাতীয় পতাকা জড়িয়ে এসছেন।
নেতাকর্মীরা করতালির সঙ্গে স্লোগান দিচ্ছেন ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’, ‘ফয়সালা হবে কোন পথে, রাজপথে রাজপথে’।
ট্রাকের ওপর বানানো মহাসামাবেশের মঞ্চের পেছনে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার ছবি সংবলিত বিশাল ব্যানার। উত্তরমুখী এই মঞ্চে নেতাদের জন্য রয়েছে শতাধিক চেয়ার।
সমাবেশের ব্যানারে ‘ফ্যাসিবাদী আওয়াম লীগের পদত্যাগ, অবৈধ সংসদের বিলুপ্তি, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পূনঃগঠন করে তার অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু , নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি, গায়েবী মামলা প্র্রত্যাহার, ফরমায়েসী সাজা বাতিল, অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক দফা’ দাবির কথা লেখা আছে। ব্যানোর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানে ছবিও রয়েছে বড় করে।
পুলিশ যে ২০ শর্তে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে, সেখানে ২টা থেকে ৫টার মধ্যে সমাবেশ করতে বলা হয়েছে।
মহাসমাবেশ ঘিরে আগের রাতেই সরগরম হয়ে উঠেছিল নয়া পল্টন। রাত বাড়লে বিএনপি অফিসের কাছে ভিক্টোরিয়া হোটেলের কাছেই মাদুর বিছিয়ে ঘুমিয়ে যান নেতা-কর্মীরা।
সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে গত ১২ জুলাই থেকে রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি ও সমমনারা।