১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বিপ্লবকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখাতে জামায়াত নিষিদ্ধ করা হয়: আইন উপদেষ্টা

“যে ন্যারেটিভ দিয়ে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তা সত্যি না। সেটা ছাত্র-জনতার বিপ্লব ছিল।”

বিপ্লবকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখাতে জামায়াত নিষিদ্ধ করা হয়: আইন উপদেষ্টা
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Aug 2024, 08:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:21 AM

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, নীতিগত অবস্থান থেকে নয়, ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে দমন করার জন্য ‘রাজনৈতিক অপকৌশলের’ অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল।

বুধবার  সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে জামায়াত শিবিরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

আইনের শিক্ষক আসিফ নজরুল বলেন, “আমাদের সমাজে কিছু মহল থেকে বহু বছর যাবত জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠত। আওয়ামী লীগ এটা কখনোই করে নাই। ১৫ বছর ক্ষমতায় আছে, কিন্তু কখনোই করে নাই। তারপর এমন একটা বিশেষ মুহূর্তে তারা এটা করেছে, তখন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলছিল। 

“স্বরাষ্ট্র  মন্ত্রণালয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা  করে দেখেছে, তারা (আওয়ামী লীগ) জামায়াত-বিএনপিকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল এবং ওই ন্যারেটিভের অংশ হিসেবে হঠাৎ করে জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। যে ন্যারেটিভ দিয়ে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তা সত্যি না। সেটা ছাত্র-জনতার বিপ্লব ছিল। 

“ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে একটি দলের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তাকে নিষিদ্ধ করা- আমরা এই মিথ্যা ন্যারেটিভের অংশ হতে পারি না। আমরা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত ও প্রত্যাখ্যাত একটি দলের অন্যায় ন্যারেটিভের অংশ হতে পারি না।”

আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ চালানোর অভিযোগে গত ১ অগাস্ট জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র শিবির এবং তাদের সহ অঙ্গ সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

২৮ দিনের মাথায় বুধবার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী, এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির বা এর কোনো অঙ্গ সংগঠনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও সহিংসতায় সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রমাণ সরকার ‘পায়নি’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা মনে করি, আওয়ামী লীগ কোনো নীতিগত অবস্থান থেকে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে নাই। তারা রাজনৈতিক অপকৌশলের জন্য, আন্দোলনেক নির্মমভাবে দমন করার জন্য এই ইস্যুটাকে এভাবে ব্যবহার করেছে।”

আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এলে ২২ অগাস্ট জামায়াতে ইসলামী নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন পাওয়ার পর রিভিউ প্যানেল গঠন করা হয়। সেই প্যানেলের মতামতের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনের পর বুধবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। 

আসিফ নজরুল বলেন, জামায়াতে ইসলামী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত এসেছে। আইন মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি পাঠানো হয়েছিল কেবল ভেটিংয়ের জন্য। 

“ভেটিং মানে টেকনিক্যালিটিস দেখা। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের যে কাগজটি এসেছে, তাতে শব্দ চয়ন ঠিক আছে কি-না, ভাষা চয়ন ঠিক আছে কি-না, আইন অনুযায়ী হয়েছে কি-না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। আইন মন্ত্রণালয়ের এক্ষেত্রে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া বা না নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।"

আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সমীচীন হবে না বলেই তিনি মনে করেন।

“যখন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে, তখন আপনি দেখেছেন আমাদের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে প্রতিবাদ করা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে আমি না, যদি না কোনো জঙ্গিবাদী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় তারা লিপ্ত থাকে।"

উপদেষ্টা বলেন, "সত্যিকার অর্থে যদি কোনো রাজনৈতিক দল জঙ্গিবাদী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় জড়িত থাকে, তাহলে প্রচণ্ড সততার সঙ্গে তদন্ত করে এমন কিছু (নিষিদ্ধ) করা যেতে পারে।’