১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

তৃণমূল থেকে উঠে এসে বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি হয়ে ওঠা এ ‘সজ্জন’ রাজনীতিক এবার আসীন হলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2026, 10:09 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:03 PM

বাংলাদেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তৃণমূল থেকে উঠে এসে বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি হয়ে ওঠা এ ‘সজ্জন’ রাজনীতিক এবার আসীন হলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে। 

শুক্রবার  সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেন তিনি; শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ কয়েকশ অতিথি এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। 

এ শপথের মধ্য দিয়ে মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

আওয়ামী লীগের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন গেল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। এর প্রায় চার সপ্তাহ পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান পেল বঙ্গভবন। 

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা মির্জা ফখরুল। 

দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পরে হওয়া এ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ভোট পান ২৫৫টি। তার প্রতিদ্বদ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের বাক্সে ভোট পড়ে ৮৮ ভোট।

শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে বঙ্গভবনে আসেন মির্জা ফখরুল। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ দরবার হলে প্রবেশ করেন তিনি।

দরবার হলের মঞ্চে তিনটি আসন ছিল। মাঝের আসনে বসেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার ডানে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; ডানে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। 

তারাসহ অনুষ্ঠানের অতিথিরা নিজেদের আসন থেকে উঠে দাঁড়ালে ব্যান্ডদলের সদস্যরা বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে জাতীয় সংগীত বাজান।

এরপর আসন গ্রহণ ও শপথ অনুষ্ঠান শুরুর অনুমতি প্রার্থনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিব শপথবাক্য পাঠ করানোর জন্য অনুরোধ জানান। তখন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান কায়সার কামাল। 

শপথ পাঠ শেষ হলে শপথনামায় সই করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথনামা সত্যায়িত করেন স্পিকার। 

এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ফুল দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান এবং নিজেদের আসন পরিবর্তন করে বসেন।

এরপর হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও কায়সার কামালকে অতিথিদের সারিতে নির্ধারিত আসনে গিয়ে বসার অনুরোধ জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।  

অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে চারজন নতুন মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ান নতুন রাষ্ট্রপতি। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের এমপি আবদুল মঈন খান, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, বাংলাদেশ জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। আর বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

শপথ অনুষ্ঠানে দরবার হলে অতিথিদের প্রথম সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও ছিলেন সামনের সারিতে। 

দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহলসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ছিলেন অতিথিদের কাতারে। 

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন ও নৌবাহিনীর প্রধান খোন্দকার মিজবাহ উল আজীমও আসেন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে। 

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক ও  বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকেও দেখা গেছে অতিথিদের সারিতে।

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ মির্জা, ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ, বড় মেয়ের স্বামী  ফাহাম আব্দুস সালাম, মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন ও মির্জা ইকবাল আমিনও এসেছিলেন শপথ অনুষ্ঠানে।

শপথ অনুষ্ঠানের শেষে রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারসহ অতিথিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে শপথ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সেই সঙ্গে অতিথিদের দরবার হলের উত্তর দিকে ক্রেডেনশিয়াল মাঠে চা-চক্রে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।

তৃণমূল থেকে বঙ্গভবনে

বিএনপির তৃণমূল পর্যায় থেকে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে মির্জা ফখরুল উঠে আসেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দমন-পীড়নের মধ্যে সংগ্রামে অবিচল এই নেতা ছিলেন দলের ময়দানের কান্ডারি। গণঅভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এবার তিনি ‘মহামান্য’ হয়ে যাচ্ছেন বঙ্গভবনে।

ছাত্রজীবনে বামপন্থায় আস্থা রাখা এই নেতা টানা দেড় দশক ধরে বিএনপির মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষকতা থেকে চার দশক আগে রাজনীতিতে আসা এই নেতার রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা। ‘সজ্জন রাজনীতিক’ হিসেবেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাম ধারার রাজনীতিতে নাম লেখান অর্থনীতির এই ছাত্র। তিনি ১৯৬০ এর দশকে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে উঠে আসেন এবং ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন। রাজনৈতিক কারণে সে সময় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল।

অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে শিক্ষাকতায় যোগ দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন ১৯৭২ সালে। এরপর বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক পদে এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন।

এরপর ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে নেমে পড়েন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন।

বাবার পথ ধরে রাজনীতিতে

মির্জা ফখরুলের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায়। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন এবং মা মির্জা ফাতেমা আমিন। বাবা ছিলেন আইনজীবী। তিনি দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। ছিলেন এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য।

বাবার মতো রাজনীতির পথ ধরলেও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেন আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপে। সেখান থেকে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি ছেড়ে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল ১৯৯০ সালে যোগদান করেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। তারপর ধাপে ধাপে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে উঠে আসেন।

২০১১ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। এরপর ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলটির মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবারের ভোটাভুটির আগ পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বিএনপির নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে আসার আগে মির্জা ফখরুল দলটির কৃষক সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

রাজনীতির এই দীর্ঘ যাত্রাপথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোকাবিলা করেছেন এক-এগারোর পট পরিবর্তন পরবর্তী প্রতিকূলতা।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বার বার বিপর্যয়ের মুখে পড়া বিএনপিকেও অসীম ধৈর্যে সংগ্রামে অটল রেখেছেন।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না।

দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে লন্ডন চলে যান, সেখান থেকেই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে মাঠ সামলেছেন মির্জা ফখরুল।

শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব। বহু মামলা লড়ার পাশাপাশি তাকে তিন দফা কারাগারেও যেতে হয়েছে।

দলের শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির সংকটে হাল ধরে থাকা এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে কার্যত দলটির মূল নেতৃত্বে ছিলেন মির্জা ফখরুল।

সরকারে এলেন যেভাবে

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার প্রায় এক দশক পর ২০০১ সালে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত সরকারে কৃষি এবং বিমান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হন। বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও সারাদেশে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে সংসদে যাননি তিনি, যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটিই তার।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন, বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊধর্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে গেছেন। দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ মির্জা ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে তাদের সংসার।