Published : 02 Feb 2026, 09:53 PM
নারীদের নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের (মার্কসবাদী) মনোনীত ১০ নারী প্রার্থী।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছেন, "বাস্তবে জামায়াতের আমিরের বক্তব্যে বোঝা যায়, তাদের প্রচার করা লিফলেটে আর ইশতেহারে যাই লেখা থাকুক না কেন, তারা বাস্তবে নারীদের সম্পর্কে গণতান্ত্রিক মনোভাব ধারণ করেন না।"
রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী প্রগতি বর্মণ তমা, গাইবান্ধা-৫ আসনের রাহেলা খাতুন, জয়পুরহাট-১ আসনের তৌফিকা দেওয়ান লিজা, ঢাকা-৫ আসনের শাহিনুর আক্তার সুমি, ঢাকা-৭ আসনের সীমা দত্ত, গাজীপুর-১ আসনের তসলিমা আক্তার বিউটি, মৌলভীবাজার-২ আসনের সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, নোয়াখালী-৫ আসনের মুনতাহার প্রীতি, চট্টগ্রাম-১০ আসনের আসমা আক্তার ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের দীপা মজুমদার বিবৃতিতে সেই করেছেন।
গত ২৯ জানুয়ারি, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি সাক্ষাৎকার তাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করে। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে ‘কোন নারী জামায়াতে ইসলামীর প্রধান হতে পারে কি না’- এই প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমীর বলেন, “তা সম্ভব নয়।”
এরপর গত ৩১ জানুয়ারি বিকালে জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটা পোস্ট করা হয়। এই পোস্টের প্রথম অংশে আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারের কথার পুনরাবৃত্তি করে শেষে বলা হয়- “...আমরা বিশ্বাস করি যে, আধুনিকতার নামে যখন নারীদের ঘর থেকে বের করা হয়- তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়। এটি পতিতাবৃত্তির আরেকটি রূপ ছাড়া আর কিছুই নয়।”
ওই বক্তব্য নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, একাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল। এ বিষয়ে তারা থানায় জিডিও করে।
রোববার সকালে শফিকুর রহমানের এক ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়, “...আমাদের ইশতেহার প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট।... আমরা রাজনীতি এবং স্থানীয় সরকারে নারীর নেতৃত্ব, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক সম্মানকে সমর্থন করি।”
বিবৃতিতে বাসদের (মার্কসবাদী) ১০ নারী প্রার্থী বলেন, "জামায়াত আমীরের আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বক্তব্য ও পরবর্তীতে ফেইসবুক স্ট্যাটাসে রাখা বক্তব্য একটি আরেকটির বিপরীত। রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বে যদি তারা সমর্থনই করেন, এটাই যদি তাদের ইশতেহার হয়, যদি তারা এটাই বিশ্বাস করেন, তাহলে তাদের দলের প্রধান কোনো নারী হতে পারেন না, অর্থাৎ জৈবিক কারণেই নারীদের শীর্ষ নেতৃত্বে আসা সম্ভব নয়–এই বক্তব্য তিনি আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারে কেন রাখলেন? তার মানে কি এই যে, ইশতেহারে যেসব বক্তব্য তারা রেখেছেন, সেসব বিষয় তারা নিজেরাই বিশ্বাস করেন না?
"তারা কি ভোট পাওয়ার জন্য ইশতেহারে যেমন করে বলতে হয়, তেমনটাই বলেছেন? তারা কি ক্ষমতায় গেলে তারা যা বিশ্বাস করেন সেটাই করবেন, বাস্তবে ভোটের জন্য গণতান্ত্রিক সাজার চেষ্টা করছেন? আমরা মনে করি, জামায়াতের আমীরের পরস্পরবিরোধী এই বক্তব্য স্পষ্ট করা উচিত।"
১০ নারী প্রার্থী বলছেন, শুধু জামায়াতের আমিরের বক্তব্য নয়, জামায়াতের বিভিন্ন নেতা বিভিন্ন সময় নারীদের প্রতি ‘অবমাননাকর’ বক্তব্য দিয়েছেন ও পরবর্তীতে ‘চাপে পড়ে ক্ষমাও চেয়েছেন’।
জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুসারে প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও জামায়াতে ইসলামী যে একজনও নারী প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয়নি, সে কথাও তুলে ধরেন তারা।
বাসদের (মার্কসবাদী) ১০ নারী প্রার্থী বলেন, "আমরা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, এই ধরনের চিন্তা কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একটি রাজনৈতিক দলের কাছে কাম্য হতে পারে না।
"জামায়াতের মতো বৃহৎ একটি দল এই ধরনের চিন্তার দ্বারা পরিচালিত হলে, সেই চিন্তা সমাজে প্রচার করলে- সমাজে নারীদের প্রতি চলমান অমর্যাদা-অবমাননা আরও বৃদ্ধি পাবে।"