“সাংবিধানিক পদে যারা ছিল, তারা অবশ্যই তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না।”
Published : 27 Mar 2025, 05:44 PM
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ফল নিয়ে মামলায় আদালতের রায় পক্ষে পাওয়ার পর সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেছেন, “সাংবিধানিকভাবে তাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল–তারা কোনো চাপে না পড়ে এবং কোনো কিছুর বশবর্তী না হয়ে কাজ করবে। কিন্তু সেটিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।”
সাবেক ওই তিন সিইসি হলেন কে এম নূরুল হুদা, কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ এবং কাজী হাবিবুল আউয়াল। তাদের কমিশনের অধীনেই আওয়ামী লীগের সময়ে তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয়।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় সিইসি ছিলেন কে এম নূরুল হুদা। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন ইশরাক।
সোয়া চার লাখ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফজলে নূর তাপস। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ইশরাক পান ২ লাখ ৩৬ হাজার ভোট।
নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেছিলেন ইশরাক। ক্ষমতার পালাবদলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে পাঁচ বছর পর বৃহস্পতিবার সেই মামলার রায় দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম।
সেই নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত শেখ ফজলে নূর তাপসকে মেয়র ঘোষণা করে সরকারের জারি করা গেজেট বাতিল করা হয়েছে রায়ে। সেই সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হয়েছে।
সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। আমি মেয়র হত পারব বা মেয়র হিসেবে শপথ নেব কি না সেটা সম্পূর্ণ দলীয় বিষয়।”
সেই নির্বাচন নিয়ে অভিযোগগুলো তুলে ধরে ইশরাক বলেন, “সারা বাংলাদেশ, জাতি দিনদুপুরে দেখেছেন ভোট ডাকাতি হয়েছে। প্রথম থেকে আমরা অভিযোগ করে আসছিলাম, বিভিন্নভাবে আমাদের প্রচার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তখনকার বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিনা মামলায় গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
“আমাদের মিছিলের ওপর হামলা করা হয়। বহু নেতাকর্মীদের মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনের দিন মিডিয়ার ভাইদের নিয়ে সমস্ত কেন্দ্র যাই। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তারা কেন্দ্রই খোলেনি। এরপর এক থেকে দেড় ঘণ্টার মত কয়েকটা কেন্দ্র খোলা ছিল। পরবর্তীতে সমস্ত কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়।”
ইশরাক বলেন, “ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ভোট জালিয়াতি করে আমার যে ভোট হয়েছিল, আমি যে সংখ্যক ভোট পেয়েছিলাম, সেটি থেকে বেশি ভোট দেখানোর জন্য দিনব্যাপী তারা কারচুপি করে। সেই বিষয়ে আমরা তখনই মামলা করেছিলাম। আদালত আজ রায় দিলেন।”
এই রায়ে ‘ন্যায়বিচার’ পেয়েছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ফিরে আসুক। একজন সাধারণ নাগরিকও যেন ন্যায়বিচার পায়। ন্যায়বিচারের যে ধারাটা শুরু হয়েছে খুনি, স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর সেটির ধারা অব্যাহত থাকুক। সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারি এটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।”
এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, “আমি অন্য নির্বাচনের বিষয়ে মন্তব্য করব না। এই নির্বাচন নিয়ে মামলা করেছিলাম, লড়েছি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি করে রাখা হয়েছিল। হাসিনার ভাতিজা তাপস নিজে আদালতে হস্তক্ষেপ করে মামলার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত
করে বন্ধ করে রেখেছিল।
“৫ অগাস্টের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে সমস্ত তথ্য, সাক্ষ্য, প্রমাণাদি দিয়ে এবং মামলা লড়ে জিতেছি। অন্যান্য নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করা আমার বিষয় না।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে এই বিএনপি নেতা বলেন, “অতীতে নুরু কমিশন, হুদা কমিশন এবং আউয়াল কমিশন ছিল। এই কমিশনে যারা সাংবিধানিক পোস্টে ছিল, আমি মনে করি যে অগণতান্ত্রিক ধারায় বাংলাদেশ ধ্বংস করার চক্রান্ত হয়েছিল, ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়েছিল। সাংবিধানিক পদে যারা ছিল, তারা অবশ্যই তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না।”
রায়ের দিন থাকায় এদিন দুপুর ২টার দিকে আদালতে আসেন ইশরাক হোসেন। এ সময় নেতাকর্মীরাও তার সঙ্গে ছিলেন ।
বেলা ৩টার দিকে রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের পর উল্লাসে মেতে ওঠেন ইশরাকের কর্মী-সমর্থকরা। স্লোগানে স্লোগানে ফুলের মালা দিয়ে হবু মেয়রকে বরণ করে নেন তারা।
এখন আদালতের রায় মেনে নির্বাচন কমিশন গেজেট সংশোধনের আনুষ্ঠানিকতা সারলে বাবা সাদেক হোসেন খোকার পর ছেলে ইশরাক হোসেনও ঢাকার মেয়রের চেয়ারে বসার সুযোগ পাবেন।
পুরনো খবর