১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাঙ্গায় এনসিপি নেতাকে মঞ্চে বসানোয় বিএনপিকর্মীদের তুলকালাম

হামলার মুখে এনসিপি নেতাকে বাঁচাতে গিয়ে বিএনপিকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2025, 01:12 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:34 PM

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিএনপি নেতাদের মঞ্চে না বসিয়ে এক এনসিপি নেতাকে বসানোয় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

হামলার মুখে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক ও সমন্বয়ক মো. আশরাফ হোসেনকে বাঁচাতে গিয়ে বিএনপিকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন ভাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।

মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের পশ্চিম পাতরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে স্থানীয় সৎসংঘ সামাজিক উন্নয়ন সোসাইটির বৃক্ষ রোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপি নেতা আশরাফকে মঞ্চে বসানো হলে বিএনপির উপজেলা ও ইউনিয়ন নেতাদের মঞ্চের সামনে বসতে দেওয়া হয়। ভাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এক পর্যায়ে মঞ্চের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা চরম হট্টগোল সৃষ্টি করে। এনসিপি নেতাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএনপিকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন।

অনুষ্ঠানের আয়োজকরা এ সময় সবাইকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আয়োজকদের সঙ্গে তুমুল বিতণ্ডায় লিপ্ত হন।

এ সময় পাশের আরেকটি এলাকায় একটি রাজনৈতিক জনসভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল খান। খবর পেয়ে তিনি পশ্চিম পাতরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ছুটে আসেন। 

তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর উষ্মা প্রকাশ করার পাশাপাশি এনসিপি নেতা আশরাফকে ডেকে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে সৎসংঘ সামাজিক উন্নয়ন সোসাইটির বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শহিদুল ইসলাম।

ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম বলেন, “বিএনপি নেতাকর্মীদের মঞ্চে বসানো হয়নি। এনসিপির আহ্বায়ককে মঞ্চে বসানো হয়েছে। এ ঘটনায় কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। পরে কৃষক দলের নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুল খানের নেতৃত্বে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।”

ভাঙ্গা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আশরাফ হোসেন বলেন, “আমাকে কেন মঞ্চে বসানো হল–এ নিয়ে উপজেলা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান পান্না, আইয়ুব মোল্লা, সাঈদ মুন্সিসহ নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করে। ভাগ্যক্রমে আল্লাহর ইচ্ছায় ইউএনও মহোদয় আমাকে সেইফ করায় আমি বেঁচে গেছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “এনসিপি নেতাকে মঞ্চে বসানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় বিএনপি কর্মীরা। পরে বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুল খান ও খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিমের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।”