Published : 18 Aug 2025, 05:50 PM
আওয়ামী লীগ আমলে যাদেরকে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, আগামী নির্বাচনে তাদের বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, “ আওয়ামী লীগের আমলে ১৬ হাজার ৩৯৯ জন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হচ্ছে- আওয়ামী লীগের খাস, তাদের দলীয় লোকজন। এরা যদি পোলিং অফিসার হয়, প্রিজাইডিং আফিসার হয়- তাহলে কী অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? হবে না।
“এরা তো গায়ের জোরে নিয়োগ পেয়েছে। এরা কোনো মেধার প্রতিযোগিতা না করে নিয়োগ পেয়েছে; একমাত্র তাদের ক্রাইটেরিয়া ছিল উত্তীর্ণ হওয়ার, চাকুরি পাওয়ার- সে ছাত্রলীগ করে কি না? সে যুবলীগ করে কি না? সে আওয়ামী লীগ করে কি না? এভাবেই তারা(আওয়ামী লীগ সরকার)প্রশাসন সাজিয়েছে। এদেরকে প্রশাসন থেকে ক্লিন করতে হবে, ভোট প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিতে হবে।”
সোমবার দুপুরে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এ দাবি জানান।
রিজভী বলেন, “আমরা চাই না- বিএনপির লোকজনকে বেছে বেছে দিতে হবে; তা না। আমরা চাই, যারা নিরপেক্ষ, যারা কোনো দিকে বায়াসড না- এরকম ব্যক্তিদেরকে পোলিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার করা উচিত।
“কারণ ১৫/১৬ বছরের প্রশাসন ছিল, পুলিশ প্রশাসন ছিল- এগুলো সব ছিল আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী। এই ক্যাডার বাহিনী দিয়ে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।”
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস নির্বাচন কমিশনের প্রতি, তারা এসব বিষয়ে মনোযোগ দিয়ে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবেন; যাতে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দসই ব্যক্তিকে ভোট দিতে পারে- সেই কাজটি তারা করবেন।”
একইসঙ্গে নেতাকর্মীদের সর্তক থাকার আহ্বান রেখে রিজভী বলেন, “এখন নানা কায়দায় দোসররা ঘাপটি মেরে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে দেশে নাশকতার চেষ্টা করছে। তাদেরকে আবার মিলিটারি ট্রেনিং দেওয়ানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। আপনারা দেখেছেন এর মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
“তাহলে তারা আরও কত ধরনের কাজ করছে! সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।”
সাবেক সাংসদ শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের নেতৃত্বে নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির (আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক ও সদস্য সচিব এএইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল) নেতৃবৃন্দকে নিয়ে দুপুরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন রিজভী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক ও আমিনুল ইসলাম।