এক মাসের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শুরুর আশা আলী রীয়াজের
আলী রীয়াজ বলেছেন, বিশেষজ্ঞ প্যানেল গণভোট কিংবা বিশেষ সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে।
এক মাসের মধ্যে জুলাই সনদ প্রকাশের পাশাপাশি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় শুরু করার আশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি আলী রীয়াজ।
বুধবার দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, "কমিশনের মেয়াদ এক মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমরা কোনো অবস্থাতেই এক মাস সময় নিয়ে এই আলোচনা অব্যাহত রাখতে উৎসাহী নই। আমরা মনে করি না যে আগামী এক মাস ধরে এ বিষয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে। আমরা খুব দ্রুত একটা ঐকমত্যের জায়গায় উপনীত হতে পারব।”
১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করা এ কমিশনের মেয়াদ ছিল ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত। এরপর প্রথমবার এক মাস সময় বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর করা হয়। গত সোমবার দ্বিতীয় দফা মেয়াদ বাড়ানো হয় আরো একমাস।
সময় বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “যে কোনো কার্যালয় যদি প্রায় এক বছর ধরে অব্যাহত থাকে, সেটা গুটিয়ে তুলতেও খানিকটা সময় লাগে। আমরা যেন মেয়াদের মধ্যেই সেটা গুটিয়ে তুলতে পারি, সেটাও সরকারের পক্ষ থেকে বিবেচনা করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই আমরা এখানে আজকে উপস্থিত হয়েছি।"
এতদিনের আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে (নোট অব ডিসেন্টসহ) একমত হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট মতবিরোধ রয়েছে রয়েছে এনসিপি, জামায়াত এবং বিএনপির মধ্যে।
এনসিপি ও জামায়াত নির্বাচনের আগেই সংবিধান সংশোধন সেরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে। অন্যদিকে বিএনপি বলে আসছে, নির্বাচিত সংসদ ছাড়া কেউ সংবিধানে হাত দিতে পারবে না।
ঐকমত্য কমিশন এ বিষয়ে যে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মতামত নিয়েছিল, তারা গণভোট কিংবা বিশেষ সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে বলে আলী রীয়াজ জানিয়েছেন।
৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব এবং সেগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকারসহ জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠিয়েছে ঐকমত্য কমিশন। এখন সনদ বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আলী রীয়াজ বলেন, "১১ সেপ্টেম্বরের পরে আপনাদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছিল, আপনারা নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে আরো সুনির্দিষ্ট করে কিছু প্রস্তাব দিতে পারেন কিনা। যাতে বিকল্পগুলো কমিয়ে আনা সম্ভব হয় এবং সম্ভব হলে ঐকমত্যের জায়গায় যেন আমরা আসতে পারি।
“আপনাদের পক্ষ থেকে আমরা সর্বশেষ যখন মিলিত হয়েছিলাম, তখন আপনারা আপনাদের দলীয় অবস্থান এবং দলীয় অবস্থানের বাইরেও আপনাদের অবস্থানগুলো ব্যাখ্যা করেছেন। বিস্তারিতভাবে তার আগে আপনারা লিখিতভাবে দিয়েছেন। তার সারাংশ আমরা উপস্থাপন করেছি। পাশাপাশি আমরা বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলেছি, এমনকি যেদিন সর্বশেষ আমরা এখানে সকলে মিলিত হই, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা এখানে উপস্থিত ছিলেন।"
আলী রীয়াজ বলেন, "আমাদের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট মতামত সুপারিশ হিসেবে আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে। আপনাদের পক্ষ থেকে যে সমস্ত বক্তব্য ছিল, সেগুলোকে আমরা ছয় ভাগে ভাগ করেছিলাম। আপনারা বলেছিলেন বেশ কিছু বিষয় অধ্যাদেশ এবং নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যায়।
"আমরাও কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারকে অনুরোধ করেছি, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে যেন বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যে সমস্ত বিষয় অধ্যাদেশ এবং নির্বাহী আদেশে করা যায় সেগুলো যেন তারা দ্রুত করেন।"
তিনি বলেন, "সংবিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আমাদের যেই বিশেষজ্ঞ প্যানেল আছে তারা দুটো কথা বলেছিলেন, একটি হচ্ছে গণভোট, আরেকটি বিশেষ সাংবিধানিক আদেশের কথা। সমস্ত কিছু বিবেচনা করে প্যানেলের পক্ষ থেকে আমাদেরকে একটি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেটি আপনাদের সামনে আমরা উপস্থাপন করেছি।
"আমরা সরকারকে একাধিক পরামর্শ দিতে পারি বাস্তবায়নের জন্য, সেটা তুলনামূলকভাবে সরকারের জন্য সহজতর হবে, বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংবিধানিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে তারা পদক্ষেপ নিতে পারবেন।"
আলী রীয়াজ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে থাকবেন। তিনি ফিরবেন ২ অক্টোবর।
“আমরা এই প্রক্রিয়াটির পরিণতির জায়গা, অর্থাৎ আমাদের দিক থেকে যে সুপারিশ সেটা পেলে প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে তার সাথে আলোচনা করে দিতে চাই। ২১ তারিখের আগে যদি আমরা একমত হতে পারি বা বিকল্পগুলো নিশ্চিত হতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে সেটা তাকে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। অন্যথায় আমাদেরকে কিছুটা সময় নিতে হবে।"
ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি বলেন, “ইতোমধ্যে আপনাদের কাছে সনদের চূড়ান্ত ভাষ্য দেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছি যদি তথ্যগত ত্রুটি থাকে, তাহলে আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করুন। কারণ তথ্যগত ত্রুটি থাকতেই পারে দুয়েকটা ক্ষেত্রে এবং আমরা সেগুলো অবশ্যই সংশোধন করব।
"বাইরে মূল বক্তব্যের জায়গায় আসলে আমরা বলেছিলাম যে সকলের মতামতের সমন্বয়ের কারণে ওই টেক্সটটার মূল জায়গাটায় আমরা পরিবর্তন করতে চাচ্ছি না।”
তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম যে আপনারা আপনাদের দুজন প্রতিনিধির নাম পাঠান, যাতে করে আপনাদের দলের পক্ষ থেকে কে বা কারা সনদে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর দেবেন সেটা আমাদের জানা থাকা দরকার।
"আমরা আশা করছি, খুব স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতেই যাতে আমরা এই ধরনের একটা স্বাক্ষরের জায়গায় যেতে পারি। আমি আবারও বলি, কোনো অবস্থাতেই এক মাস ধরে এটা নিয়ে আলোচনার কোনো উদ্দেশ্য, আগ্রহ আমাদের নেই।”
আলী রীয়াজ বলেন, " আপনাদের পুরনো বক্তব্য, সেপ্টেম্বরের বৈঠকে গৃহীত ঐক্যমত্য, পূর্বে বিশেষজ্ঞদের যে চারটি বিকল্প এবং সর্বশেষ তাদের যে একক পরামর্শ, সেটি আপনাদের সামনে আছে। সেগুলো সামনে রেখেই আমরা আজকে আলোচনা করব।"
