৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান: ‘বিস্মিত' শফিকুর বললেন আমাকে সম্পৃক্ত করা যেত

ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ যেন সমন্বিতভাবে নেওয়া হয়, বলেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 03:56 PM

Updated : 30 Sep 2026, 04:06 PM

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, যিনি এ এলাকার সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, “এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছে।

“এ বিষয়ে আমারও দায়িত্ব রয়েছে এবং আমাকে সম্পৃক্ত করা যেত। পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে একটি উত্তম ও কার্যকর পথ বের করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি।”

বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে জামায়াতের আমির তার ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন।

এদিন সকাল ১০টার পরে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে।

এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ ও সাংবাদিকদের গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। বেশ কয়েকজন আহতও হন।

শফিকুর রহমান ফেইসবুকে লিখেছেন, এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হলে আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না, সেটিও ভেবে দেখা দরকার।”

বিরোধীদলীয় নেতা সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন।

ঢাকা-১৫ আসনের এই সংসদ সদস্য লিখেছেন, “এই আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন, যেখানে জনগণ তাঁদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং জনগণের সুবিধা-অসুবিধা-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি হয়তো আরও সমন্বিত ও ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।

“এ ক্ষেত্রে সংঘাতের পরিবর্তে বাস্তবতা উপলব্ধি করে এমন একটি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের চলাচলের পথও নির্বিঘ্ন ও ব্যবহারোপযোগী থাকে। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ।”

তিনি লিখেছেন, “দুর্ভাগ্যের বিষয়, মাসের পর মাস ধরে একদল অসাধু ও চাঁদাবাজ ব্যক্তি এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিয়ে তাদের এখানে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

“তারা দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করে থাকে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড। এর ফলে শেষ পর্যন্ত এর আর্থিক বোঝা গিয়ে পড়ে সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ওপর।”

তাই বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য কল্যাণকর হবে বলে মনে করেন তিনি।

শফিকুর রহমানের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি। ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ যেন সমন্বিতভাবে নেওয়া হয় এবং সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করা হয়, এটাই হতে পারে সমস্যার সমাধানের অন্যতম পথ।

তিনি আশা করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিষয়টি ‘গুরুত্বের’ সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

ফেইসবুক পোস্টে সবাইকে আপাতত শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এ সংসদ সদস্য বলেন, “যেখানেই সমস্যা রয়েছে, সেখানেই সমাধানের পথও রয়েছে। তবে সেই সমাধান হতে হবে নিরপেক্ষ, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক-কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়। তবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো জায়গা নেই।”