Published : 21 Jan 2026, 07:11 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের নারী-পুরুষ, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল সাধারণ জনগণ যাতে স্বেচ্ছায় ও সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।
বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে তাদের এ দাবি জানিয়েছে।
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে প্রার্থীদের ভোটের প্রচার।
দেশের ৭১টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি বলেছে, “আমরা সকলেই চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের সরকার গঠিত হোক; যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মতামতের প্রতিফলন ঘটে। শুধু রাজনৈতিক দলের জন্য নয় নারী, আদিবাসী, দরিদ্র ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এবং ভীতি-সন্ত্রাস-নির্যাতনমুক্ত এবং জেন্ডার সংবেদনশীল পরিবেশ চাই।”
নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, নারীর মানবাধিকার অর্জন ও রক্ষার লক্ষ্যে বহুমুখী প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা সংগঠনটি বলেছে, “আমরা চাই, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি সমতাভিত্তিক, জনপ্রতিনিধিত্বশীল, জবাবদিহিমূলক স্থায়ী কার্যকরী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠুক।”
নির্বাচন কমিশনে তাদের তরফে যেসব দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো হল-
>> দেশের সকল প্রান্তের সকল নাগরিক যাতে নির্বিঘ্নে, স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
>> নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নারীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক নারী-পুরুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
>> সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের প্রতি হয়রানি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সহিংস আচরণ প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
>> নির্বাচনি ব্যায় সংকোচ করে ন্যূনতম নির্বাচনি ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে এবং এ বিষয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে।
>> স্বতন্ত্র নারী প্রর্থীসহ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
>> নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে দিকে দৃষ্টি রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুবিধাজনক স্থানে ভোট কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
>> জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য নিরপেক্ষভাবে সকল ধরণের সহায়তা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
>> নির্বাচনি প্রচারে ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।
>> সকল জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
>> যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
>> নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মীয় সখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষদের হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
>> ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।