১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কার সাথে ‘আঁতাত’, এ জবাব দিতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে: শফিকুর

“আপনারা ধোঁকাবাজ। এইজন্য এই সরকারের অনেককে দেখলে এখন জুলাইযোদ্ধারা আওয়াজ তোলে ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’।”

কার সাথে ‘আঁতাত’, এ জবাব দিতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে: শফিকুর
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 02:52 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের সুচিকিৎসা এবং ‘ফ্যাসিস্টদের’ বিচার নিশ্চিতে ‘দীর্ঘসূত্রতার’ অভিযোগ এনে বিএনপির সরকারের সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। 

‘কার সাথে আঁতাত করে জাতির দাবি উপেক্ষা করা হচ্ছে’ বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ‘জবাব’ প্রত্যাশা করেছেন তিনি।

বুধবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের এক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন শফিকুর রহমান।

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ সমাবেশে তিনি বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনের ক্রেডিট জনগণের, নেতৃত্বের ক্রেডিট তরুণদের। এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড কেউ না।”

এ সময় তিনি জুলাই শহীদদের পরিবারের পুনর্বাসন ও আহতদের দেশে-বিদেশে সুচিকিৎসার দাবি জানান।  

আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, “ফ্যাসিস্টদের বিচারের আওতায় এনে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। লক্ষণ ভালো না, একটাও দেখতে পাচ্ছি না। সব যেন চোরাবালিতে হারিয়ে যাচ্ছে। কার সাথে আঁতাত করে জাতির এই দাবিগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, আমরা জানতে চাই। এ জবাব প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হবে।

“কারণ, নির্বাচনের আগে তিনিও তো এই দাবিগুলো করেছেন। এখন কেন সেগুলা হারিয়ে যাচ্ছে?”

জাতীয় নির্বাচনের রায় মানলেও গণভোটের রায় ‘না মানায়’ সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলীয় নেতা।

তিনি বলেন, “এটা জাতির সাথে সুস্পষ্টভাবে প্রতারণা। এবং তারা সংসদে দাঁড়িয়ে এটা স্বীকার করে নিয়েছেন।

“স্বীকার করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। মনে রাখবেন, এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে আপনারা প্রতারক হিসেবে জাতির সামনে নিজেদের নাম রেজিস্ট্রেশন করে নিয়েছেন।”

২৮ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট সেশনের আলোচনায় অন্তবর্তী সরকারের সময় সংস্কার কার্যক্রমে বিএনপির নেতৃত্বদানকারী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, “হ্যাঁ, আমরা নির্বাচনের স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে রক্ষা করে জুলাই সনদে সবাই মিলে সমঝোতায় এসেছি। এবং আমরা স্বাক্ষর করেছি।

“হয়তো আমরা ওই সমস্ত পয়েন্টে একমত নাও হতে পারতাম, কিন্তু জাতির স্বার্থে আমরা সেটা আপস করেছি।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আরো বলেছিলেন, “এটা কেন মিস ইন্টারপ্রেট করা হচ্ছে? যাদের প্ল্যান ছিল নির্বাচন হবে না, পাঁচ বছরের জন্য থেকে যান, সেটাও তো আমাদের নজরে রাখতে হয়েছে।”

সে প্রসঙ্গ ধরে জামায়াতের আমির সমাবেশে বলেন, “আপনারা ধোঁকাবাজ। এইজন্য এই সরকারের অনেককে দেখলে এখন জুলাইযোদ্ধারা আওয়াজ তোলে ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’।”

এ সময় সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন। আমির আবার বলেন, “এটা জাতির জন্য লজ্জার।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “অনেক ইতিহাস স্বাক্ষী, তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকবে না। তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকবে না, পতন শুরু হয়ে গেছে। এখন তারেক রহমান পিস্তল তাক করবেন। আমরাও বলি, চৌদ্দশ লোক গেছে; বুকে গুলি চালান, সমস্যা নাই।”

জুলাইয়ের সৈনিকদের “কোনো পদ, টাকা দিয়ে কিনতে পারবেন না” মন্তব্য করে পাটওয়ারী বলেন, “কোনো নেগোসিয়েশন হবে না। একটুও হবে না। পতন হবে আপনার।”

তিনি বলেন, “বাংলার মাটিতে জনগণ আপনার পতন ঘটাবে। শেখ হাসিনার মতো উচিৎ শিক্ষা দিয়ে তবেই আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতার যে যুদ্ধ, সেটার ভবিষ্যত এগিয়ে নিয়ে যাব।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সাবধানে থাকবেন, আশপাশে খেয়াল রাখবেন, নিজেদের নিরাপদে রাখবেন। খেয়াল রাখবেন যুবদল, ছাত্রদল যেন জনগণের ওপর কোনো অত্যাচার না চালাতে পারে। কোথাও যদি বিদ্যুৎ, গ্যাস না থাকে, তাহলে থালাবাটি নিয়ে রাস্তায় নামবেন।

“যদি না পারেন, ক্ষমতা থেকে চলে যান, আমরা ক্ষমতা চালাইতে পারব। এই প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার আপনার না, এই চেয়ার জনগণের। এই চেয়ার আমাদের রক্ষা করতেই হবে।”

অন্যদের মধ্যে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জামায়াত-জোটের নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন।