Published : 17 Jul 2025, 09:43 PM
সারাদেশে ‘মবের রাজত্ব’ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয়বাদী যু্বদলের বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করেছিলাম ডেমোক্রেসির জন্য। আমরা এখন দেখতে পারছি সারা বাংলাদেশে মবোক্রেসির রাজত্ব হচ্ছে। চেয়েছিলাম ডেমোক্রেসি হয়ে যাচ্ছে মবোক্রেসি। কিন্তু কেন?”
গণঅভ্যুত্থানকে সবচাইতে চ্যালেঞ্জ কারা করছে, কেন করছে এই প্রশ্ন তুলে সালাহউদ্দিন বলেন, এর জবাব হচ্ছে, সরকারের ‘নির্লিপ্ততা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের ‘ব্যর্থতা’।
বিএনপির তরফে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “কিন্তু আজকে গণঅভ্যুত্থানকে সব দিকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে, বিভিন্নভাবে পরিকল্পিতভাবে ইস্যু সৃষ্টি করে, সেই ইস্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ঐহিত্যবাহী সংগঠন বিএনপিকে কলঙ্কিত করার একটি অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
“কারা এগুলো করছে? কারা ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের পথটা পুনরায় সুগম করতে যাচ্ছে, সেই প্রশ্নের জবাব আমরা দিতে পারি। যারা ফ্যাসিবাদের আগমন চায়, যারা বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবাসন চায়, যারা বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন চায়, বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ এবং বিভিন্ন ইস্যু সৃষ্টি করে গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে কলঙ্কিত করছে তারা”
‘সরকারের নির্লিপ্ততায় সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির’ বিক্ষোভ মিছিল করে যুবদল।
মিছিল শুরুর আগে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। পরে নয়া পল্টন থেকে মিছিল বের হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।
‘নির্বাচনের তারিখ কেন দিচ্ছেন না’
লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকের পর আসা যৌথ ঘোষণায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের যে আভাস দেওয়া হয়েছে সে লক্ষ্যে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সালাহউদ্দিন।
তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ্য করলাম আপনি (প্রধান উপদেষ্টা) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথা বলছেন, প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে আপনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এখনো কোনো যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্দেশনা দেন নাই।
“আশা করব, এই জাতিকে আশ্বস্ত করবেন, জনগণকে আশ্বস্ত করবেন, অতি শিগগিরই যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সেই বার্তা আপনি নির্বাচন কমিশনে প্রদান করবেন।”
বিএনপির এই নেতা আশা করেন, এই ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হবে তা যেন বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত হয়, এটা অবাধ ও সুষ্ঠু-নিরপেক্ষতায় যেন একটি ‘জলন্ত প্রমাণ’ হয়। স্বচ্ছতা নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না উঠে।
এ জন্য সকলে মিলে সরকারকে সহযোগিতার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “আমরা সহযোগিতা করার জন্য অঙ্গীকার করেছি, কিন্তু সরকারের পদক্ষেপ দেখে মানুষ যেন আশ্বস্ত হয় যে তারা, আমাদের সহযোগিতা নিতে চায়।”
যারা ‘পরিকল্পিতভাবে’ নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য, বানচাল করার জন্য চেষ্টা করছে তারা যেন ‘আশ্রয়-প্রশ্রয়’ না পায়, সে নিশ্চয়তাও চেয়েছেন সালাহউদ্দিন।
গোপালগঞ্জে হামলা প্রসঙ্গে
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে গোপালগঞ্জে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে বর্ণনা করেন সালাহউদ্দিন।
এনসিপির নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি বলেন, “বাবারা রাজনীতির ময়দানে আরও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার জন্য আমরা পরামর্শ সবসময় দিয়েছিলাম, আজকেও দিচ্ছি… নসিহত করছি।”
তবে তাদের কর্মসূচির ধরনে ‘নেতিবাচক’ বার্তা পাচ্ছেন মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “যেভাবে তোমরা যাচ্ছো, যেভাবে আমরা এই কর্মসূচির ধরন দেখছি, তাতে করে আমরা একটা ম্যাসেজ পাচ্ছি যে, কোনো না কোনো বাহানায় এমন কোনো অবস্থার সৃষ্টি করা, যাতে করে বলতে পারে যে, সরকার কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, এই সরকার নির্বাচন কীভাবে দেবে?”
নির্বাচন কমিশন ‘নিরপেক্ষ নয়’ বলে এনসিপির বক্তব্য এবং শাপলাকে নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে তাদের বরাদ্দ দেওয়ার জন্য দাবি তোলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জাতীয় প্রতীক ছাড়া কি বাংলাদেশে আর কোনো মার্কা ছিল না? এই প্রশ্ন তো আমরাও করতে পারি। যারা বলছেন, ধানের শীষও তো জাতীয় প্রতীকে আছে। কিন্তু ধানের শীষের মার্কাটা যেটা আছে, সেটা নির্বাচন কমিশনের তফসিলে আছে। সেই তফসিল অনুযায়ী বহু আগে, ১৯৭৮ সালের আগে সেই মার্কা বিদ্যমান ছিল, সেই মার্কা নিয়ে আজ পর্যন্ত কেউ প্রশ্ন তোলে নাই।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনতি’ হচ্ছে বলে বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, “সরকারের তো আপনারাই (এনসিপি) অংশ। কাদের আপনারা উদ্দেশ্য করে বলছেন? সরকারের যে অংশ আপনারা, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাংলাদেশের মানুষ সবই জানে।
“আপনাদের দুইজন উপদেষ্টা বসে আছেন, দুই দিন পর তারা আপনাদের সাথে যোগ দেবেন। তারপরে আপনাদের সাথে নির্বাচন করবেন। এই দৃশ্য তো দেখার জন্য অপেক্ষা করছি… বাংলাদেশের জনগণ সবই বুঝে, সবই জানে।”
যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্নার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করীম পল বক্তব্য রাখেন।