১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে থাকবেন প্রধান উপদেষ্টাও

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কমিশনের এই বৈঠক।

দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে থাকবেন প্রধান উপদেষ্টাও
উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Sep 2025, 02:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:17 PM

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসও উপস্থিত থাকবেন। 

রোববার বিকাল ৩টায় ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে এ বৈঠক শুরু হবে বলে কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা পবন চৌধুরী জানিয়েছেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, "রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের রোববারের আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা এবং কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থাকার সানুগ্রহ সম্মতি প্রদান করেছেন৷" 

প্রধান উপদেষ্টা বিকাল ৩টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। এর পরেও কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্র সংস্কার উদ্যোগ এগিয়ে নিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছয়টি কমিশনের প্রতিবেদনের ছাপানো কপি সব রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়।

এরপর ৫ মার্চ পুলিশ সংস্কার কমিশন বাদে পাঁচটি কমিশনের প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশ স্প্রেডশিট আকারে ৩৮টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়।

এর মধ্যে সংবিধান সংস্কার বিষয়ক ৭০টি, নির্বাচন সংস্কার বিষয়ক ২৭টি, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত ২৩টি, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত ২৬টি ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়ক ২৭টি সুপারিশ ছিল। 

পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো সরাসরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাস্তবায়নযোগ্য হওয়ায় সেগুলো স্প্রেডশিটে রাখা হয়নি।

সংবিধান সংস্কার কমিশন ছাড়া অন্য পাঁচটি কমিশনের দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলোর তালিকা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মোট ৩৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট তাদের মতামত কমিশনের কাছে পাঠায়, অনেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও দেয়।

মতামত গ্রহণের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩২টি দল ও জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মোট ৪৪টি বৈঠক হয়। কিছু দলের সঙ্গে হয় একাধিক বৈঠক।

প্রথম পর্বের আলোচনায় ৬২টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

কোরবানির ঈদের আগে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা সংসদ ভবনের এলডি হলে শেষ হয়। এরপর ২ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা উদ্বোধন করে কমিশন।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ করে কমিশন অগ্রাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় মোট ২০টি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা হয়।

আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে। ৩ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ২৩ দিন চলে এ আলোচনা।

সবশেষ জুলাই সনদের চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া মতামতের জন্য ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়।

পরে দল গুলোর সাথে আরেক দফা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত সনদের কপি রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া হয়।

কিছুক্ষেত্রে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্টসহ) মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে এই চূড়ান্ত খসড়ায়। কিন্তু সেসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের কোনো রূপরেখা সেখানে দেওয়া হয়নি।

এখন বাস্তবায়নের পথ খুঁজতেই দলগুলোর সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করছে ঐকমত্য কমিশন।