১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪ কার্তিক ১৪৩৩

দুর্গাপূজার বার্তা সার্বজনীন, রাষ্ট্রে সবার অধিকার সমান: রিজভী

“কেউ ষড়যন্ত্র করতে পারে, তবে দেশের অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মপ্রাণ মানুষ তা বাস্তবায়িত হতে দেবে না।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Oct 2026, 01:00 PM

Updated : 19 Oct 2026, 01:00 PM

দুর্গাপূজার বার্তা কোনো একক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য বলে মন্তব্য করেছেন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার মহাঅষ্টমীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “অসত্যের বিনাশ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাই দুর্গাপূজার মূল বার্তা। উৎসব সাম্প্রদায়িক সীমারেখা অতিক্রম করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সংহতি তৈরি করে। রাষ্ট্রের সব নাগরিকের অধিকার সমান।”

প্রত্যেকের ধর্ম ও বিশ্বাস নিজস্ব বিষয় হলেও সবার অধিকার সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “যার যার ধর্ম থাকতে পারে, বিশ্বাস থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের কাছে সবার অধিকার সমান রয়েছে।”

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দুই দিনের ছুটি চাওয়া হলেও সরকার তিন দিনের ছুটি দিয়েছে। ফলে এবার পাঁচ দিনের ছুটি পেয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের জন্য চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে।’

এ ছাড়া প্রত্যেক মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েতদের মাসিক সম্মানী দেওয়ার ঘোষণা সরকার বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি।

এসব পদক্ষেপ তারেক রহমানের নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন বলেও জানিয়েছেন রিজভী।

বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছেন এবং একে অন্যের উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। ধর্মীয় বিশ্বাস আলাদা হলেও ভাষা, সংস্কৃতি, খাবার ও পোশাকের মিলের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের অভিন্ন জাতীয় সত্তার পরিচয় ফুটে ওঠে।

এই ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে রিজভী বলেন, “কেউ ষড়যন্ত্র করতে পারে, তবে দেশের অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মপ্রাণ মানুষ তা বাস্তবায়িত হতে দেবে না।”

সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় অধিকার প্রয়োগ, উৎসব পালন ও বিশ্বাসের চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি আরও বিস্তৃত হওয়ার কামনা করেন।