১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পথে এক ধাপ এগোল জামায়াত

গত সরকারের সময় আদালত জামায়াতের আপিল খারিজ করে দিয়েছিল। এখন তা পুনরুজ্জীবিত করা হল।

নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পথে এক ধাপ এগোল জামায়াত
ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান কার্যালয়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Oct 2024, 10:56 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:21 PM

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন ফিরে পেতে জামায়াতে ইসলামীর যে আপিল আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক বছর আগে খারিজ করে দিয়েছিল, তা পুনরুজ্জীবিত করার আদেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।  

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।

এর মধ্য দিয়ে নিবন্ধন ফিরে পেতে জামায়াতে ইসলামীর আইনি লড়াইয়ের পথ খুলল। 

আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী শিশির মনির। 

পরে তিনি বলেন, “আপিল ‘রেস্টোর’ (পুনর্বহাল) হয়েছে। এরপর আপিল শুনানি হবে। শুনানির জন্য আবার লিস্টে (কার্যতালিকা) আসবে।” 

জামায়াতকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে তরীকত ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট মাওলানা জিয়াউল হাসানসহ ২৫ জন ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে একটি রিট আবেদন করেন।

নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল পুনরুজ্জীবনের আবেদন জামায়াতের

নিবন্ধন বাতিলের রায় বহালনির্বাচনে অযোগ্যই থাকল জামায়াত

২০১৩ সালের ১ অগাস্ট বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের বেঞ্চ ওই রিটের রায়ে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে।

ওই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে জামায়াতের করা আবেদন ওই বছরের ৫ অগাস্ট খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। তাতে এ দলটির দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। 

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে জামায়াতে ইসলামী আপিল করে। শুনানিতে জামায়াতের মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চ ওই আপিল খারিজ করে দেয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তনের হাওয়ায় সেই আপিল পুনরুজ্জীবনের আবেদন করা হয় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহিংসতার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাময়াতের আবেদনে সেই নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়। 

এবার নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন ফিরে পেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকারও ফিরে পাবে ২০০১-০৬ সময়ে বিএনপির সঙ্গে সরকারে থাকা দলটি।

আরও পড়ুন:

নিবন্ধন বাতিলের রায় বহালনির্বাচনে অযোগ্যই থাকল জামায়াত

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের গেজেট এলো ৫ বছর পর