Published : 22 Jul 2025, 08:18 PM
ঢাকার মিরপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা বাদে আসিফ শিকদার নামের সাবেক এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের দাবি, আটকের পর তাকে ‘নির্যাতন করে হত্যা’ করা হয়েছে। এ অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ বলছে, ‘অসুস্থতার কারণে’ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গত সোমবার ভোরে আসিফের সঙ্গে শাকিল ও সাইফুল নামের আরো দুজনকে আটক করে যৌথবাহিনী। তখন ৩০ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়ে পুলিশ বলছে, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
২৬ বছর বয়সী আসিফ শিকদার শাহ আলী থানার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব ছিলেন। তিনি একই ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আসিফের ময়নাতদন্ত হয়। মর্গের সামনে কথা হয় তার চাচা হারুন শিকদারের সঙ্গে।তিনি বলেন, “আমার ভাতিজারে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে হারুন বলেন, রোববার রাত আড়াইটার দিকে মিরপুর ১ নম্বর সড়কে আসিফের বাসায় অভিযান চালায় যৌথবাহিনী।
“তাকে (আসিফকে) আটক করার পর এক রুমে নিয়ে মারধর করা হয়; এ সময় অন্যরুমে তার মা এবং স্ত্রীকে আটকে রাখা হয়। ভোরবেলা তাকে সুস্থভাবে বাসা থেকে বের করার পরেও রাস্তায় ফেলে আবারও মারধর করা হয়। পরে থানায় নেওয়া হয়।”
আসিফের চাচা হারুন বলেন, “ভোরবেলা প্রায় সুস্থ অবস্থায় আসিফকে থানায় নেওয়া হয়। এরপর ওসির নেতৃত্বে অত্যাচার করে তাকে মেরে ফেলা হয়।”
আসিফের মৃতদেহের আঘাতের কিছু ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, “থানায় আমরা আসিফের চিৎকার শুনতে পাই, সেই সাথে সে ‘পানি পানি’ বলেছে। কিন্তু তারা পানি দেয়নি। বারবার থানায় ঢোকার চেষ্টা করেও আমাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়, ঢুকতে দেয়নি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহ আলী থানার ওসি শফিকুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।
মর্গের সামনেই কথা হয় আসিফের ঘনিষ্ঠ, যুবদলকর্মী হিকমত আলী হিমেলের সঙ্গে।
তিনি বলেন, সোমবার বেলা ১২টার দিকে তাকে ‘প্রায় নিস্তেজ অবস্থায়’ থানা থেকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।
“আমরা সিএনজিতে করে থানা থেকে পুলিশের গাড়ি অনুসরণ করি এবং সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পৌঁছাই। পরে কাছাকাছি থাকি এবং চিকিৎসক আসিফকে পরীক্ষা করে জানায়, আগেই মারা গেছে।”
যোগাযোগ করা হলে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক শফিউর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে কেউ আমাকে অবহিত করেনি। আমার কিছু জানা নাই।”
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “থানায় অসিফ ছাড়াও শাকিল ও সাইফুলকে ৩০ রাউন্ড গুলিসহ বুঝে পাওয়ার পর অসুস্থতার কারণে তিনজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে একজনকে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।”
পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “ঠিক নয়, বরং পুলিশ সুচিকিৎসার জন্য দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।”
পুলিশের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, আসিফের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে; গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
তবে মর্গে আসা জাতীয়তাবাদী জনতা দলের সভাপতি রায়হানুল ইসলাম রাজু বলেন, “এসব মামলা সব রাজনৈতিক। আওয়ামী লীগ সরকার হয়রানির উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে এসব মামলা করে।”
গুলিসহ গ্রেপ্তারের অভিযোগের বিষয়ে আসিফের চাচা হারুন বলেন, “এটা মিথ্যা। তার কাছে কোনো গুলি পায়নি। যদি গুলি পেয়ে থাকে- অন্য জায়গা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনের কাছ থেকে পেতে পারে।”
তিনি বলেন, “আসিফকে সুস্থভাবে বাসার বাইরে এনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে দুইজন সাদা পোশাকের লোক যে মারধর করে, তার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে হত্যার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে আমরা মামলা করব।”