১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘অবৈধ সম্পদের’ মামলায় খালাস পেলেন বিএনপির এ্যানি

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৪ সালে এ মামলা দায়ের করেছিল দুদক।

‘অবৈধ সম্পদের’ মামলায় খালাস পেলেন বিএনপির এ্যানি
রায়ের পর কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jul 2025, 01:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:26 PM

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় খালাস পেয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন বুধবার এ রায় দেন। 

রায়ে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে’। 

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মহি উদ্দিন চৌধুরী, জামাল হোসেন, তানজীম চৌধুরী ও খায়রুল ইসলাম লিটন।

গত ১৬ জুলাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য ২৩ জুলাই দিন ধার্য করে আদালত। 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় এ মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য ‘গোপন’ করেছেন। এছাড়া দুদকের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ ৪২ হাজার ৬৭০ টাকার ‘জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের’ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়। 

তথ্য গোপনের অভিযোগে বলা হয়, জমি রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকা এবং লক্ষ্মীপুরের কুশখালীতে তার নামে স্কুলে অনুদান বাবদ ১০ লাখ টাকা, অর্থাৎ মোট ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এ্যানি। 

অন্যদিকে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বলা হয়, স্থাবর-অস্থাবর ও অপ্রদর্শিত অর্থ মিলিয়ে এ্যনির মোট ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৬ টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। ৫০ লাখ টাকা দায় বাদ দিলে তার নিট সম্পদের পরিমাণ হয় ৩ কোটি ২৫ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৭ টাকা। কিন্তু ২০১৩ সালের ৩০ জুন দেয়া সম্পদ বিবরণীতে তার ১ কোটি ৭৬ লাখ ৯১ হাজার ৫৮৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। 

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ২০১৬ সালের ২৪ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলায় এ্যানির বিচার শুরুর আদেশ দেয়। 

ওই বছর ১ সেপ্টেম্বর এ্যানির আবেদনে হাই কোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে। পাশাপাশি মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না–তা জানতে রুল জারি করে। 

পরে ২০১৯ সালের ১৪ মে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে ছয় মাসের মধ্যে মামলাটি শেষ করতে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। বিচার চলাকালে ১২ সাক্ষীর মধ্যে নয়জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। 

অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বুধবার যে রায় হল, তাতে বেকসুর খালাস পেটলেন এ্যানি।