১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ছিনতাই করতে গিয়ে মারা গেছে সেও জুলাই যোদ্ধার তালিকায়: নুর

“এই তালিকা করার মধ্য দিয়ে জুলাই শহীদদের প্রতি অবমাননা করা হয়েছে; জুলাইয়ের প্রতি অশ্রদ্ধা করা হয়েছে,” বলেন তিনি।

ছিনতাই করতে গিয়ে মারা গেছে সেও জুলাই যোদ্ধার তালিকায়: নুর
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে মঙ্গলবার ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় কথা বলেন নুরুল হক নুর।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jul 2025, 05:46 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:18 PM

মুক্তিযোদ্ধা তালিকার মত জুলাই যোদ্ধার তালিকাতেও ভুয়া লোকজনের নাম উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

জুলাই যোদ্ধার তালিকা কীভাবে হল, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, “মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমরা দেখতে পেয়েছি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ করেনি তারাও মুক্তিযোদ্ধা। ভুয়া ভাতা নেয়, সুযোগ সুবিধা নেয়।

“আজকে আমাদের জন্য লজ্জাজনক, আজকে জুলাইয়েও জুলাই যোদ্ধা নামে আছে যারা জুলাই আন্দোলনে ছিল না। পত্রপত্রিকায় দেখলাম ছিনতাই করতে গিয়ে মারা গেছে তার নাম এই তালিকায়। কিংবা এই আন্দোলন সংগ্রামে ছিল না তার নাম এই তালিকায়।”

জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি করে নুর বলেছেন, “এই তালিকা করার মধ্য দিয়ে জুলাই শহীদদের প্রতি অবমাননা করা হয়েছে। জুলাইয়ের প্রতি অশ্রদ্ধা করা হয়েছে। এই প্রতারণার সঙ্গে যারা জড়িত, আমরা অনুরোধ করব তাদেরকেও বিচারে আওতায় আনার জন্য। সে যেই হোক।”

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় কথা বলছিলেন নূর।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০১৮ সালের আন্দোলন থেকে পর্যায়ক্রমে আমরা এগিয়ে গেছি। এই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সেই ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনেরই ধারাবাহিকতা। জুলাই আমাদের ঐক্যের প্রতীক সংহতির প্রতীক।”

জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে নুর বলেন, “জুলাইকে নিয়ে আমাদের ক্ষোভ আছে। গত এক বছরে এই সরকারের প্রতি আমাদের যে বড় রকমের প্রত্যাশা ছিল সেখানে আমরা বড় ধাক্কা খেয়েছি।

“সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মাধ্যমে জেনেছি, একটি বড় রাজনৈতিক দল জাতীয় সরকার চায়নি। কারণ তারা মনে করে ক্ষমতায় তো আমরা এসেই গেছি, কেন দীর্ঘায়িত করব। একটা ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে কার্যকর করার জন্য দরকার ছিল একটা জাতীয় সরকার। সেটা আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি।”

‘ক্ষমতায় বইসা পরছি এমন মনোভাব করছে কেউ কেউ’

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অনৈক্যের সূর দেখতে পাচ্ছেন গণ অধিকার পরিষদ সভাপতি নুর।

তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশনের নাম ঐকমত্য, কিন্তু সেখানের বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দের আলোচনায় অনৈক্যের সুর। কারণ সবাই যার যার দলীয় অবস্থান কী, কার দলের অ্যাজেন্ডা কী তা নিয়ে টেলিভিশনের লাইভ দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ মনে করে, সংস্কারের প্রশ্নে যদি ওই দলের সমালোচনা করে, তাহলে তো তার মনোনয়ন ছুটে যাবে।

“এইটা যদি ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার বিষয়বস্তু হয়, তাহলে আমি ঐকমত্য কমিশনকে বলেছি, এখনও বলব, ৩৪-৩৫ দল যাদের রাজনৈতিক কোনো অবস্থান নাই তাদের কথায় ঐকমত্য কমিশন জাতীয় সনদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সাংবাদিক শিক্ষক প্রত্যেকটি পেশাজীবী সংগঠনের মতামত নিতে হবে। তারপরে  যেটা ফাইনাল হবে সেটা নিয়ে গণভোট দিতে হবে। ক্ষমতায় বইসা পরছি এমন মনোভাব করছে কেউ কেউ। একটি দলকে বিবেচনা করে তো ঐকমত্যের আলোচনার সিদ্ধান্ত হয় না।”

তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই, আমরা জাতীয় ঐক্য ও সংহতি ধরে রাখতে চাই। যেই কারণে আমরা অনেক কিছু এড়িয়ে যাই। বিভেদ তৈরি হয়, বিভাজন তৈরি হয় এমন বক্তব্য থেকে দূরে সরে থাকি। তার মানে এই নয় আমরা নিয়মের ব্যতিরেক মেনে নেব।”

জাতীয় পার্টি ও চৌদ্দ দলের কার্যক্রম স্থগিত চান নূর

নুরুল হক নুর বলেন, “এই গণঅভ্যুত্থানের পরে আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টির এবং ১৪ দল জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের উপর পাড়া দিয়ে এই দেশে রাজনীতি করতে পারে না। আমরা দেখতে পাচ্ছি জাতীয় পার্টিকে প্রটেকশন দেওয়া হচ্ছে। গণ অধিকার পরিষদ লুটপাট গুম-খুনের সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ চৌদ্দ দলের প্রশ্নে আপস করবে না।

“আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলব, জাতীয় পার্টিসহ চৌদ্দ দলের কার্যক্রম এই বাংলার মাটিতে নিষিদ্ধ করুন। জাতীয় পার্টির মাধ্যমে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের লোকজনকে পুনর্বাসনের সুযোগ আমরা হতে দেব না। জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলের সাইনবোর্ডে সুযোগ দেওয়ার চক্রান্ত আমরা রুখে দিব। এই চক্রান্তের সাথে যারা থাকবে তাদেরকেও আমরা ছাড় দেব না। সে উপদেষ্টা হোক রাজনৈতিক দলের নেতারা হোক।”

সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠন চেয়ে তিনি বলেন, “আমি প্রধান উপদেষ্টাকে বলতে চাই, আপনি উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করুন। উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠন করে অনতিবিলম্বে রাষ্ট্র সংস্কারের জুলাই সনদের ঘোষণা দিন।”

গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানও আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন।