“পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন কার্যকর না হওয়ার ফলে পাহাড়ে ভূমি সমস্যা বেড়েই চলেছে।
Published : 27 Feb 2025, 09:28 PM
দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি শাহ আলম।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন’ এর আয়োজনে সাত দফা দাবিতে এই গণসংযোগ কর্মসূচি নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে শুরু হয়ে আন্দরকিল্লা মোড় ঘুরে লালদীঘি হয়ে শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।
কর্মসূচির শুরুতে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শাহ আলম বলেন, “২৮ বছর হয়ে গেল পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি আজো বাস্তবায়ন হয়নি। আজ পাহাড়িরা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন কার্যকর না হওয়ার ফলে পাহাড়ে ভূমি সমস্যা বেড়েই চলেছে।
“দেশে সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন জরুরি। ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের ভূমি প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। সমতলের আদিবাসী ও তাদের অধিকার সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে।”
পাহাড়ে বিদ্রোহ আর রক্তক্ষয় অবসানে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) এর সঙ্গে শান্তি চুক্তি করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
এরপর প্রায় তিন দশক হতে চললেও চুক্তির অনেক বিষয় এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে পাহাড়িদের সংগঠনগুলোর অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ জাসদ এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ২৭ বছর অতিক্রান্ত হলেও আদিবাসীরা আজও আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে। আমরা চাই না পার্বত্য চট্টগ্রামে আবার শান্তিবাহিনী সৃষ্টি হোক, শান্তিবাহিনী তাদের অধিকারের জন্য অস্ত্র ধরুক।
“অন্তবর্তী সরকারের কাছে অনুরোধ, এই চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করে তাদের অধিকার নিশ্চিত করুন। বাংলাদেশে যে ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী রয়েছে সেগুলোর অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উন্নত করতে হবে।”
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুল রশিদ ফিরোজ বলেন, “জেএসএস ও রাষ্ট্রের মধ্যে ২৭ বছর আগে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। কিন্ত ২৭ বছর পরেও সেই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়নি। ভারত প্রত্যাগতদের এবং আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবাসন করা হয়নি।
“বৈষম্যবিরোধী চেতনাকে ধারণ করে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংবিধানে পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের অধিকারে কথা তুলে ধরতে হবে।”
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা বলেন, “পাহাড় ও সমতলের আদিবাসী এবং বাঙালি সবাইকে মিলে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চাই। আসুন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে পাহাড়ি বাঙালির মাঝে সুদৃঢ় বন্ধন সৃষ্টি করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”
অন্যদের মধ্যে মানবাধিকার নেতা তাপস হোড়, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুন্ম সমন্বয়ক জাকির হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের চট্টগ্রামের ইনচার্জ আল কাদেরি জয়, ঐক্য ন্যাপ এর সাধারণ সম্পাদক অজিত দাশ এবং যুগ্ম সম্পাদক পাহাড়ি ভট্টাচার্য, ন্যাপ নেতা মিটুল দাশগুপ্ত, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সুভাষ আইচ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের নেতা শরৎ জ্যোতি চাকমা, বাংলাদেশ জাসদ চট্টগ্রামের নেতা ইন্দু নন্দন দত্ত, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, দীপায়ন খীসা গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
সাত দফা দাবি হল- পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচি ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, পাহাড়ে সামরিক শাসনের স্থায়ী অবসান, আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের ক্ষমতায়ন করে স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধান, দেশে মূলস্রোতধারার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নে আদিবাসীদের অংশিধারিত্ব নিশ্চিত করা।
দাবিগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে অগ্রাধকিার তালিকায় রেখে চারটি বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় কর্মসূচি থেকে।
সেগুলো হলো- চেয়ারম্যান নিয়োগের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে সক্রিয় করা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাথে সংলাপ শুরু করা, পার্বত্য চট্টগ্রামের মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠন করা ও সমতলভূমির আদিবাসীদের রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ করা।