২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোট করা অপরাধ হলে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনও অপরাধী: জাপা

সরকার একটি দলের পৃষ্ঠপোষকতা করছে অভিযোগ করে জাপার অতিরিক্ত মহাসচিব বলেছেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না হলে তারা তফসিলের পর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন।

ভোট করা অপরাধ হলে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনও অপরাধী: জাপা
জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া বুধবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে দলের অডিট রিপোর্ট জমা দেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jul 2025, 02:37 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:28 PM

জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগের সময়ে ভোটে অংশ নেওয়া তার দলের অপরাধ হয়ে থাকলে ২০১৮ সালে নির্বাচন করা বিএনপি, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামী আন্দোলন, গণফোরামসহ সব দলের নিবন্ধন বাতিলের দাবি করা উচিত।

ওই সময় নির্বাচন করার কারণেই জাতীয় পার্টিকে এখন ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ তকমা দেওয়া হচ্ছে মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

বুধবার নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পার্টির ২০২৪ সালের অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রেজাউল।

আগের দিন মঙ্গলবার গণঅধিকার পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে আওয়ামী লীগের মত জাতীয় পার্টি এবং১৪ দলীয় জোটভুক্তদের নিবন্ধন স্থগিতের দাবি জানায়।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, “আরপিওর বিধান অনুযায়ী দল নিবন্ধন পায় নির্বাচন কমিশনে। সেক্ষেত্রে কে কী দাবি জানাল, তাতে জাপার কিছু দেখার বিষয় নয়; আমরা আইন লঙ্ঘন করিনি।”

তিনি বলেন, “নির্বাচন করার কারণে আমাদের যে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ তকমা দেওয়া হচ্ছে, এ কথার সাথে আমরা একমত নই।”

রেজাউল বলেন, “নির্বাচন কমিশন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। ইসি নির্বাচন আহ্বান করেছে, দলের ইচ্ছে স্বাধীনতা রয়েছে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে আবার বর্জনও করতে পারে। তিন নির্বাচনে অনেকে বর্জন করেছে, অনেকে অংশ নিয়েছে। বিএনপি, ইসলামী ঐক্যজোট, গণফোরামসহ অনেকে ২০১৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

“বিএনপি চার বছর ওই সংসদে ছিল। যদি সেই নির্বাচন অবৈধ হয়, বিএনপির অংশগ্রহণও অবৈধ। জাতীয় পার্টির নিবন্ধন বাতিলের দাবি যদি উঠে, তাহলে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্তত ৩২টা দল অংশ নিয়েছিল। ভোটে অংশগ্রহণ অপরাধ হলে একই অপরাধে অপরাধী এসব দল।”

সাবেক সামরিক শাসক এইচএম এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে অনেকটা বেকায়দায় রয়েছে।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিন মেয়াদে সংসদে প্রধান বিরোধী দল ছিল জাতীয় পার্টি। সেই সময়ের ভূমিকার জন্য ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে এখন দলটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা চাইছে অভ্যুত্থানের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠন।

রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে সংলাপ করছে, তাতে ডাক পায়নি জাতীয় পার্টি। প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসলেও জাতীয় পার্টির নেতারা সেখানে আমন্ত্রণ পাচ্ছেন না।

অগাস্টের পর থেকে সেভাবে আর দলীয় কর্মূসচিও করতে পারছে না এরশাদের ভাই জি এম কাদেরর নেতৃত্বে থাকা দলটি। দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে একাধিকবার হামলার মুখেও পড়তে হয়েছে তাদের।

নাম উচ্চারণ না করে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির দিকে ইঙ্গিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া।

তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলে তাহলে (অংশ) নেব। আমরা এখন পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেখছি না। আমরা দেখছি একটি অংশকে সরকার বেশি পৃষ্ঠপোষকতা করছে। ওই অবস্থা বিরাজমান যদি থাকে, তাহলে আমরা দলগতভাবে প্রেসিডিয়াম সভায় যখন সিদ্ধান্ত হবে, তফসিল ঘোষণা হলে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসির কার্যক্রম এখন পক্ষপাতহীন বা পক্ষপাতদুষ্ট কিনা– তা নিয়ে এখন কোনো মন্তব্য তারা করবেন না। 

“কারণ এখনও এ ইসির অধীনে কোনো নির্বাচন হয়নি। এ নিয়ে বলার সময় এখনও আসেনি।”

১৪ দল ও জাপার নিবন্ধন বাতিলের দাবি গণঅধিকার পরিষদের