সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি জামায়াতের
“সার বিতরণ ও সার ডিলার নিয়োগে চরম দুর্নীতি, অনিয়ম ও নৈরাজ্য করা হয়েছে। বিদ্যমান সরকারি নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে এসব করা হয়েছে।”
সারের ডিলার নিয়োগে ‘রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের’ অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জামায়াতের প্রচার বিভাগের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সারাদেশে সারসংকট এবং সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির’ প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “দেশে সংকটের অভাব নেই; যেখানেই হাত দেবেন, সেখানেই সংকট। সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি ও নাগরিকদের ওপর।
“সার বিতরণ ও সার ডিলার নিয়োগে চরম দুর্নীতি, অনিয়ম ও নৈরাজ্য করা হয়েছে। বিদ্যমান সরকারি নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে এসব করা হয়েছে।”
‘সরকারের অব্যবস্থাপনা, ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি, কালোবাজারে সার বিক্রি এবং চোরাচালানকে’ সার সংকটের কারণ হিসেবে তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
তিনি বলেন, “ডিলার নিয়োগে শর্ত মানা হয়নি। কিছু এলাকায় দলীয় প্যাডে তালিকা দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো আমলে নিয়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
“টাকা নিয়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দিনাজপুর ও রংপুরের বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।”
সারের ডিলার নিয়োগে বিএনপির বিরুদ্ধে ‘দলীয়করণের’ অভিযোগ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, “বিএনপির ত্যাগী নেতাদের ডিলারশিপ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সরকারের কোনো মন্ত্রীই নীতিমালার তোয়াক্কা করছেন না। ফলে এখন ‘সবার আগে বিএনপি’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নয়। হাই কোর্টের আদেশ ভঙ্গ করে সব ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
১. সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অবিলম্বে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
২. ডিলার নিয়োগে যোগ্যতা মূল্যায়নের মানদণ্ড, তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স দেওয়ার ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করা।
৩. ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
৪. সারসংকট নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতির অসংগতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা।
৫. উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি জনগণকে জানানো।
৬. কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “সারসংকট সম্পর্কে সরকার জাতিকে অসত্য তথ্য দিয়েছে। গত ৬–৭ মাসে সরকারের সর্বস্তরে দলীয়করণ ও দুর্নীতি এবং মন্ত্রীদের মিথ্যাচারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।”
কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পরিবর্তে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক হল, একজনের দায়িত্ব থাকলেও কথা বলেন আরেকজন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কৃষিমন্ত্রীর, কিন্তু কথা বলছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
“তাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা চেপে বসেছে। জেলায় গঠিত কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনজনকে মনোনীত করা হয়েছে। এ কারণে যোগ্য ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপির নেতারা টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন। ফলে সার বিতরণে সরকার শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে।”
অন্যদের মধ্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিমসহ দলের অন্য নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
