এই সরকারের মত ‘খল’ ভারত পাকিস্তানেও দেখিনি: মান্না
জামায়াত ইসলামী সরকারের পক্ষে কাজ করবে বলে মনে করেন না নুরুল হক নুর।
নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে যে নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে, তা বিশ্বাস করছেন না তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে থাকা রাজনীতিকরা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক আলোচনায় দাবি করা হয়েছে, দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সবাই এ সরকারকে ‘ভোট ডাকাত’ হিসেবে চেনে।
জাতীয় প্রেসক্লাবে এই আলোচনা সভা হয় বিরোধীদলীয় সাবেক প্রধান হুইপ জয়নুল আবেদিন ফারুকের ওপর ‘পুলিশের হামলার’ প্রতিবাদে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের প্রতিবাদে ২০১১ সালের ৬ জুলাই ডাকা হরতালে সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন ফারুক। এক যুগ পর এই দিনটিতে আলোচনা সভায় এসে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপি এবং তাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা কয়েকজন রাজনীতিক।
অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে বসা ছিলেন জয়নুল আবদিন ফারুক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘‘পুলিশের কিছু সদস্য সেদিন আসলে সংসদকে পিটিয়েছে, গণতন্ত্রকে পিটিয়েছে। সারা জাতি, গোটা গণতান্ত্রিক বিশ্ব একে ধিক্কার জানিয়েছে।”
তিনি বলেন, “এই সরকার গণতন্ত্রবিরোধী, অবৈধ দখলদার। তাদের হটাতে না পারলে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।”
সরকার ‘ভোট ধবংসের চক্রান্ত করছে’ বলে অভিযোগ করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘‘এমন একট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, দেশের ৯০ ভাগ লোক তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। আন্তর্জাতিকভাবে এই সরকারকে সবাই মনে করে ভোট চোর-ভোট ডাকাত। এজন্য ওরা (যুক্তরাষ্ট্র) বলছে, বারবার আর ডাকাতি করতে পারবে না, আর চুরি করতে পারবে না। আর ও (সরকার) বলছে, এবার দেখেন, সবচাইতে ভালো ভোট করব।”
সরকারের এই বক্তব্যে আস্থা নেই মান্নার। তিনি বলেন, “কথায় বলে খলে… শয়তান লোক, খলের-ছলের অভাব নাই। এই সরকারের মত খল সরকার… আমরা আমাদের দেশে তো দেখিনি, পাকিস্তানে দেখিনি, ভারত জুড়ে এতগুলো বছর আমরা ছিলাম, সেখানে দেখিনি। পৃথিবীর মধ্যে এরকম দুশ্চরিত্র মিথ্যাবাদ, মিথ্যুক সরকার কম আছে।”
তিনি বলেন, “কোনো চোর-বাটপারের ক্ষমা নাই। লড়াইটা হবে। আমি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো বিদ্বেষ ছড়াচ্ছি না, আওয়ামী লীগের কোনো নেতার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নাই। কিন্তু আওয়ামী লীগের হোক, আমার পার্টি নাগরিক ঐক্যের লোক হোক, বিএনপির হোক. কেউ যদি জনগণের দুর্ভোগের কারণ হয়, তাকে কেউ যদি অত্যাচার করে থাকে, অপরাধ করে থাকে তাহলে তাকে ক্ষমা করা যাবে না।”
গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সদস্য সচিব নুরুল হক নূর বলেন, “নানা ধরনের কথা তুলে আন্দোলনের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, নিজেদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করছে। দয়া করে আমরা যারা যুগপৎ আন্দোলনে আছি, আন্দোলনে মানুষ বিভ্রান্ত হয়, আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আমাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, বিরোধ তৈরি হয়, এমন কোনো কথা কেউ বলবেন না।”
তিনি বলেন, ‘‘জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন রাজপথে আছে। জামায়াতের নেতাদের অনেককে যেভাবে ফাঁসি দিয়েছে, অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, তাতে আমার মনে হয় না জামায়াত সরকারের পক্ষে কাজ করবে। তারপরেও যদি জামায়াত করে… জামায়াতের কর্মীরা তাদের ক্ষমা করবে না। এই তাদের মৃত নেতাদের, অত্যাচারিত নেতাদের প্রতিশোধের শপথ তারা নিয়েছে।
“আমার কথা হচ্ছে কারা এই আন্দোলনে বন্ধু সেটা প্রমাণিত হবে রাজপথে।”
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার সঞ্চালনায় আলোচনায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও বক্তব্য রাখেন।
