০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাত নেই, পায়ে লিখে শত শিশুর স্বপ্ন গড়ছেন দুখু মিয়া

জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই; চলার পথে বঞ্চনা আর উপহাস হয়েছে নিত্যসঙ্গী। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কিংবা ঠাট্টা-তামাশা হার মেনেছে তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে। একটা সময় সমাজের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত এ ব্যক্তি এখন শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন সেই সমাজেই। পা দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে গড়ে তুলছেন শত শিশুর ভবিষ্যৎ। শারীরিক সীমাবদ্ধতা জয়ী আলতাফ হোসেন দুখু মিয়ার বাড়ি নরসিংদীর পাঁচদোনায়।

মোস্তাফিজুর রহমান

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Oct 2026, 12:20 PM

Updated : 05 Oct 2026, 12:41 PM

Image

ছয় দশক আগে ১৯৬২ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আলতাফ হোসেন, যিনি ‘দুখু মিয়া’ নামেই বেশি পরিচিত। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই। তবে মা-বাবার অসীম ভালোবাসা ও প্রেরণায় তিনি কখনোই নিজেকে সমাজের বোঝা ভাবেননি।

Image

মা-বাবার কাছ থেকেই পা দিয়ে দৈনন্দিন জীবনের সব কাজ করতে শেখেন দুখু মিয়া, হয়ে ওঠেন আত্মবিশ্বাসী।

Image

পড়াশোনার প্রতি দুখু মিয়ার আগ্রহ দেখে শৈশবে তাকে ভর্তির জন্য মাদ্রাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন বাবা। পা দিয়ে আরবি বই ধরা বারণ—এমন যুক্তি দিয়ে তাকে সেখানে ভর্তি নেননি শিক্ষকরা। বাধ্য হয়ে বাবা দুখুকে ভর্তি করান সাধারণ স্কুলে।

Image

উচ্চশিক্ষা অর্জন করলেও কেবল শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বারবার নিয়োগ বঞ্চিত হন তিনি। তার দিক থেকে সমাজ মুখ ফেরালেও তিনি সমাজ বিমুখ হননি। চাকরি না পাওয়ার হতাশা তাকে গ্রাস করেনি, অর্জিত জ্ঞান তিনি বিলাচ্ছেন শিশুদের মাঝে।

Image

স্কুলে পড়ার সময়ও সহপাঠীদের উপহাস আর নানা প্রতিকূলতার শিকার হতে হয়েছে দুখু মিয়াকে; কিন্তু হাল ছাড়েননি। সব বাধা জয় করে এসএসসি, এইচএসসি এবং পরে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।

Image

উচ্চশিক্ষা অর্জন করলেও কেবল শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বারবার নিয়োগ বঞ্চিত হন তিনি। তার দিক থেকে সমাজ মুখ ফেরালেও তিনি সমাজ বিমুখ হননি। চাকরি না পাওয়ার হতাশা তাকে গ্রাস করেনি, অর্জিত জ্ঞান তিনি বিলাচ্ছেন শিশুদের মাঝে।

Image

দুখু মিয়া ২০০৭ সালে পৈতৃক সম্পত্তিতে গড়েন ‘প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন’। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি এ স্কুল গড়লেও দ্রুতই তা কোমলমতি শিশুদের মনন বিকাশের অনন্য প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়।

Image

প্রায় দুই দশক ধরে শত শত শিশুকে তিনি কেবল পুঁথিগত বিদ্যাই দিচ্ছেন না, পা দিয়ে বোর্ডে লিখে পড়াচ্ছেন সহানুভূতি, সম্মান ও মানবিকতার পাঠ।

Image

দুখু মিয়া তার ব্যক্তিগত বঞ্চনা ও সংগ্রামকে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে কাজে লাগিয়েছেন।

Image

‘প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেনে’ এখন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়, শিক্ষার্থী সংখ্যা দেড়শ। দুখু মিয়ার স্বপ্ন স্কুলটিকে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করা।

Image

দুখু মিয়ার স্কুলে আরও নয়জন শিক্ষক আছেন। সবার বেতন মেটাতে হিমশিম খেতে হয় দুখুকে।

Image

দুখু মিয়ার ছেলে মোমেনুল ইসলামও পড়াশোনা শেষে একটি ভালো চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তা না হওয়ায় তিনিও শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন বাবার স্কুলে।