০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সে চলে গেছে, এ তো ভাবা যায় না

‘সে চলে গেছে, এ তো ভাবা যায় না’—বিবিসি থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাথে দীর্ঘ কাজের স্মৃতি ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ভিত গড়ার অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন আফসান চৌধুরী।

আফসান চৌধুরী আফসান চৌধুরী

Published : 02 Oct 2026, 10:32 PM

Updated : 02 Oct 2026, 10:41 PM

আমার জন্য তো এটা একটা ভয়াবহ সংবাদ। আমার তো বিশ্বাস হয়নি; বস্তুত, আমার বিশ্বাস হচ্ছেও না। আমি জানতাম সে অসুস্থ ছিল, চোখের সমস্যা ছিল; আর কোনো অসুখের কথা আমি জানতামও না। তৌফিকের সঙ্গে যে আমার কতদিনের সম্পর্ক, দিন-তারিখ হিসাব করে বলতে পারব না। তবে নিশ্চিতভাবেই অনেক দিনের। আমি এবং তৌফিক একসঙ্গে বহু জায়গায় কাজ করেছি। আমি যখন বিবিসিতে ছিলাম, সেও তখন বিবিসিতে ছিল।

তৌফিক যেভাবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দাঁড় করিয়েছে, সেটা আর কারো পক্ষে সম্ভব হতো না; কিন্তু সে তা করে দেখিয়েছে। আমি যখন কানাডায় চলে গেলাম, তারপরও আমি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরে লিখে গেছি। এরপর কানাডা থেকে আমি চলে এলাম ২০১২ সালে, এবং প্রথমেই জয়েন করেছি এক্সিকিউটিভ এডিটর হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরে। পরে যখন আমি অন্য জায়গায় চলে যাই, তৌফিক খুব কষ্ট পেয়েছিল। কিন্তু কী আর করা, আমি তো নানা দিকে ঘুরে বেড়াই!

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম… প্রতিদিন আমি প্রথম এটি পড়ি। এটি যে কত বড় একটা অর্জন, চিন্তা করা যায় না। একসময় হয়তো এটি এককভাবে অনলাইন মিডিয়া হিসেবে ছিল এবং সেই কারণে এটি এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা—আজকের এই আধুনিক ডিজিটাল মিডিয়া, এটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরই প্রথম করেছে এবং সফলভাবে করেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর যে বড় অর্জন, সেটি হচ্ছে—এর আগে যারা ছিল, তারা কিন্তু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে ওভাবে সামাল দিতে পারেনি। তৌফিক এসে সেটা করেছিল; প্রচুর মানুষকে, অসংখ্য মানুষকে সে সংযুক্ত করতে পেরেছিল। ওই সময় যখন আমি জয়েন করেছিলাম, তখন বহু পরিকল্পনা হচ্ছিল। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে তখন মানুষকে ডিজিটাল মিডিয়ার বিষয়টি সহজে বোঝানো যেত না। তৌফিক ও আমি গিয়ে বোঝাতাম এবং ক্রমে তা খুব সফল হয়ে উঠেছিল।

রাজনৈতিক কারণে প্রতিবেদনে অনেক তারতম্য ঘটে; কিন্তু আজও আমি সংবাদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করি বিডিনিউজকে। আজও এত বছর পরেও যদি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরে প্রতিবেদনটি না দেখি, অন্য পত্রিকায় দেখে সেটা বিশ্বাস করতে পারি না।

তৌফিক যে জিনিসটা অনেকখানি করতে পেরেছিল, সেটা হচ্ছে—নৈর্ব্যক্তিকভাবে সংবাদ করা। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, যা অন্যরা পারে না। অন্যরা সংবাদের ভালো-মন্দের অংশীদার বা পক্ষভুক্ত হয়ে যায়; কিন্তু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের সংবাদ উপস্থাপন সবসময় বস্তুনিষ্ঠ ছিল।

আর কলাম যারা লিখত, সেটা তো অন্য কথা। আমিও লিখেছি, আরও অসংখ্য মানুষ লিখেছে এবং আমাদের লেখার যে পাঠকপ্রিয়তা বা ‘ভিউ’ হতো, তা চিন্তা করা যায় না—আজ থেকে পোনেরো বছর আগের কথা! তবে আমি যেটা মনে করি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো—নিউজকে কোনোদিন বস্তুনিষ্ঠতার বাইরে যেতে দেয়নি তৌফিক।

পরে কী হয়েছে, আমি অতটা বলতে পারব না; কিন্তু আমি পুরোপুরি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে বিশ্বাস করে এখনও নিউজ পড়ে যাচ্ছি। এটি একটা বিশাল ব্যাপার।

তবে এটি তো আমি বোঝাতে পারব না—আমার কেমন লাগছে! এই মানুষটাকে আমি খুব কাছ থেকে চিনতাম। সে চলে গেছে, এ তো ভাবা যায় না! আমি কিছুতেই মনকে মানাতে পারছি না; আর কিছু বলার নেই।

আফসান চৌধুরী: কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও সাংবাদিক।