আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড. ইউনূসের যে সখ্য, ওই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান করতে পারবেন বলে অনেকেই বিশ্বাস করেন।
Published : 26 Sep 2024, 04:24 PM
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের বিষয়টি নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরে তিনি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে— যাকে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ বলে মনে করা হচ্ছে।
মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশের যে কোনো সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি মৌলিক পার্থক্য হলো আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও পরিচিতিতে। তিনি কোনো রাজনৈতিক নেতা না হলেও শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ হিসেবে সারাবিশ্বের মানুষ তাকে আলাদাভাবে চেনে। বিশেষ করে পৃথিবীর ‘সবচেয়ে ক্ষমতাধর’ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত। ফলে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার এই অংশগ্রহণকে শুধু একজন সরকারপ্রধানের সফর হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অন্তত বাংলাদেশে একটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত নতুন ধরনের সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্র সফর আরও অনেক কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ এবং ওই তাৎপর্য ও গুরুত্বের বিচারে রোহিঙ্গা সংকটের মতো একটি বিরাট সমস্যা মোকাবেলায় ব্যক্তি ইউনূসের ক্যরিশমা কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে কিনা— তা নিয়েও জনপরিসরে আলোচনা আছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো তথ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে উচ্চ-পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। এতে মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বিএসএস-এর খবর বলছে, এই বৈঠকে রোহিঙ্গা সংট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেছেন, ‘আমাদের সতর্ক হতে হবে, এই সংকটের সমাধান না হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র অঞ্চল সমস্যায় পড়বে।’ তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নতুন করে ভাবার প্রস্তাব দেন। বলেন, ‘প্রথমত আমরা চাই জাতিসংঘ মহাসচিব যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সকল পক্ষের উপস্থিতিতে একটি সম্মেলনের আয়োজন করুক। সম্মেলনে সংকটের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনাপূর্বক নতুন এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সমাধানের উপায় কী হতে পারে, তেমন প্রস্তাব আসতে হবে।’ তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন।
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো অথবা অন্য কোনো দেশে পুনর্বাসন ইস্যুতে বৈঠকে সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়েছে কিনা, তা জানা না গেলেও গণমাধ্যমের খবর বলছে, রোহিঙ্গাদের জন্য আরও ২০ কোটি ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ৮০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে খাদ্যপণ্য কিনে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে বিতরণ করবে ইউএসএইড। এর আগে মার্কিন সরকার ২০১৭ সালের অগাস্টে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২৫০ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ২১০ কোটি ডলার। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চলের সংকটপীড়িত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অন্যান্য দাতাগোষ্ঠীকে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জীবনধারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আরও একাধিক দেশ ও সংস্থা সহায়তা দিয়ে থাকে। কিন্তু এটি রোহিঙ্গা সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। আর নয় বলেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড. ইউনূসের যে সখ্য, ওই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান করতে পারবেন বলে অনেকেই বিশ্বাস করেন।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কী? স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমস্যার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান হচ্ছে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মিয়ানমার সরকার সেটি করবে না। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে যে মিয়ানমারকে বাধ্য করা যাবে, তারও সম্ভাবনা কম। কেননা এই চেষ্টা বহুবার হয়েছে। খোদ জাতিসংঘও এই ইস্যুতে নানা চেষ্টা চালিয়েছে। তাতে সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। বরং এখনও মাঝেমধ্যেই মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। অর্থাৎ মিয়ানমার রাখাইন অঞ্চলে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রাখে যাতে সেখানে কোনোভাবেই এই মুসলিম জনগোষ্ঠী শান্তিতে বসবাস করতে না পারে এবং জীবন নিয়ে পালিয়ে যায়।
মিয়ানমার সরকার কেন এটি পারে বা কেন তারা আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করেও টিকে থাকে— তা নিয়ে নানা আলোচনা আছে। কিংবা জাতিসংঘ অথবা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক ফোরাম কেন তাদেরকে বাধ্য করতে পারে না, ওই আলোচনাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এরকম বাস্তবতায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বাইরে তৃতীয় কোনো দেশ বা দেশসমূহে পুনর্বাসনই একটি উত্তম বিকল্প হতে পারে বলে অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছে। কেননা বাংলাদেশ যে অনন্তকাল ১২-১৩ লাখ বিদেশিকে আশ্রয় দিয়ে রাখবে, সেটি বাস্তবসম্মত নয়। তাহলে এই বিশাল জনগোষ্ঠী কোথায় যাবে বা তাদের ভবিষ্যৎ কী— সেটি অন্তত মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বিরাট প্রশ্ন।
রোহিঙ্গাদের ধর্মীয় পরিচয় ‘মুসলিম’ হওয়ায় অনেকের ধারণা ছিল সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া এমনকি এই অঞ্চল থেকে বেশ দূরে আয়তনে বিশাল কাজাখস্তানের মতো মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোয় রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া কিছু রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও সেটি মোট জনগোষ্ঠীর তুলনায় যথেষ্ট কম। আবার তাদের পরিচয় মুসলিম হওয়ায় খ্রিস্টানঅধ্যুষিত ইউরোপ-আমেরিকার বড় ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলো তাদের আশ্রয় দিতে চাইবে কিনা; কোনো দেশের সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলেও অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়বে কিনা— ওই প্রশ্নও আছে।
এখানেই আসছে ড. ইউনূসের ক্যারিশমার প্রশ্ন। পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে তার যে সম্পর্ক এবং বিশ্বের নোবেলজয়ীদের সঙ্গে তার যে সখ্য, সেটি কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনে একটি কার্যকর উদ্যোগ তিনি নিতে পারেন বলে অনেকেই বিশ্বাস করেন।
তবে এও ঠিক যে, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হিসেবে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন একটি সম্ভাব্য বিকল্প হলেও এটি সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়। কেননা ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া যে কোনো দেশের জন্যই কঠিন। তাছাড়া প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা রয়েছে। যারা শরণার্থী হিসেবে মানুষকে আশ্রয় দেয়, তাদের কিছু নীতিমালাও রয়েছে। শরণার্থী হিসেবে আশ্রিতদের নানাবিধ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হয়। তাদেরকে যদি ওই দেশের মূল স্রোতধারায় মিশিয়ে দিয়ে কাজের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, সেটি একটি ভালো সমাধান হতে পারে। কিন্তু এখানে সংকট হলো বিশ্বাস ও সংস্কৃতির।
রোহিঙ্গাদের যে বিশ্বাস, সংস্কৃতি, রীতি ও অভ্যাস— তার সঙ্গে ইউরোপ-আমেরিকার সমাজের অনেক পার্থক্য। ফলে তাদেরকে শুধু শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দিয়ে ক্যাম্পে রাখা হবে নাকি মূল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে একত্র করা হবে, সেটিও বিরাট প্রশ্ন। সম্ভবত এ কারণে আয়তনে বৃহৎ এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অনেক দেশও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসনের বিষয়ে খুব আন্তরিক নয়। অর্থাৎ কোনো নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার আগে তারা নিজ দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়।
মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক স্বার্থের বৈচিত্র্য রয়েছে। এ কারণে কিছু দেশ শরণার্থী পুনর্বাসনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় না, কারণ এতে তাদের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও সরাসরি পুনর্বাসনের কোনো বড় উদ্যোগ না নিলেও সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ সহায়তা দিয়েছে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তুলনায় সেটি খুব নগণ্য।
যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে কিছু রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে যখন প্রথম ধাপে ২৪ জনের একটি দল সেখানে গেল, তখন এই প্রশ্ন উঠেছিল যে, ১২ লাখ শরণার্থীর মধ্যে মাত্র ২৪ জনকে আশ্রয় দেওয়া পুরো সংকট সমাধানে আদৌ কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা? তখন বলা হয়েছিল, এর একটি প্রতীকী মূল্য রয়েছে। অর্থাৎ এই ধারাবাহিকতায় আয়তনে বড় এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী পাশ্চাত্যের দেশগুলো এমনকি সচ্ছল মুসলিম দেশগুলোও যদি রোহিঙ্গাদেরকে তাদের দেশে আশ্রয় দেয় তাহলে এই রাষ্ট্রহীন জাতির মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৫ বছর পূর্তিতে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন, মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বড় একটা সংখ্যাকে তারা আশ্রয় দেবেন। একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জাপানও। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন পর্যন্ত এক লাখ রোহিঙ্গাকেও তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন করা সম্ভব হয়নি।
মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে তুরস্ক রোহিঙ্গাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালোভাবে কথা বলেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়েছে। তারা মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু এই ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ঐক্য অনুপস্থিত। মুসলিম দেশগুলো যদি রোহিঙ্গদের জন্য মানবিক সংহতিভিত্তিক একটি দীর্ঘমেয়াদী নীতি গ্রহণ করে, তাহলে এই সেটি সংকট সমাধানে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হয়।
এক্ষেত্রে ড. ইউনূস ইউরোপ-আমেরিকার বাইরে মুসলিম দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারেন। তিনি চাইলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের প্রভাবশালী অনেক মুসলিম দেশের প্রধানদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনেরও উদ্যোগ নিতে পারেন। এই ইস্যুতে তিনি কাজে লাগাতে পারেন তার নোবেলজয়ী বন্ধুদের— যারা রোহিঙ্গাদের ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে একটি রাষ্ট্রহীন জাতির মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করবেন।