Published : 05 Aug 2026, 01:23 PM
ইতিহাস আমাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন অথবা বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন কখনোই হুট করে ঘটে না। কোনো এক দিনের সিদ্ধান্ত, হঠাৎ ঘটা ঘটনা অথবা গোপন চক্রান্তের ফল হিসেবে এই পরিবর্তনকে দেখা ভুল। মূলত দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও ধারাবাহিক ঘটনাক্রমেরই চূড়ান্ত রূপ হলো এমন গণপরিবর্তন।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জনঅসন্তোষ, রাষ্ট্র পরিচালনার দুর্বলতা, জবাবদিহির অভাব, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, নাগরিক প্রত্যাশার অপূর্ণতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সম্মিলিত প্রভাবে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যেখানে আপাতদৃষ্টিতে সীমিত কোনো ঘটনাও বৃহত্তর পরিবর্তনের অনুঘটকে পরিণত হতে পারে। তিউনিসিয়ায় মোহাম্মদ বুয়াজিজির আত্মাহুতি, মিশরে খালেদ সাঈদের মৃত্যু কিংবা রোমানিয়ার টিমিশোয়ার প্রতিবাদ এই বাস্তবতারই ভিন্ন ভিন্ন উদাহরণ। স্থান, কাল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও একটি শিক্ষা সর্বত্র অভিন্ন—রাষ্ট্র যখন দীর্ঘ সময় ধরে নাগরিকের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন একটি ছোট স্ফুলিঙ্গও ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে।
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা লক্ষ করা যায়। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দিয়ে এর সূচনা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এটি কেবল নিয়োগনীতির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আন্দোলন ধীরে ধীরে কর্মসংস্থানের সংকট, বৈষম্য, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রতীকে পরিণত হয়। ফলে ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত। অধিকতর গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো, এটি দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চিত রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি দৃশ্যমান পরিণতি।
এই ঘটনাপ্রবাহ বুঝতে হলে কেবল জুলাইয়ের ঘটনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এর পেছনের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় নিতে হবে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে পরবর্তী এক দশকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, কার্যকর বিরোধী রাজনীতি, সংসদীয় জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে ধারাবাহিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, গবেষক এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোও নির্বাচন ব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে বিভিন্ন সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব বিতর্ক রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করেছে এবং জনগণের বৃহত্তর অংশের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার সংকট গভীর করেছে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহির ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে কত বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। যখন রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভারসাম্য দুর্বল হয়ে পড়ে, বিরোধী মতকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, শত্রু হিসেবে দেখা হয়, প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশে পরিণত করা হয় কিংবা সমালোচনাকে রাষ্ট্রবিরোধিতার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়, তখন সমাজে নীরব ক্ষোভ জমতে থাকে। সেই ক্ষোভ প্রতিদিন দৃশ্যমান হয় না; অনেক সময় বছরের পর বছর চাপা থাকে। কিন্তু অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে সেটিই দ্রুত বিস্ফোরিত হতে পারে।
এ কারণেই জুলাই আন্দোলনকে কেবল কোটা সংস্কারের আন্দোলন হিসেবে ব্যাখ্যা করলে এর প্রকৃত তাৎপর্য ধরা পড়ে না। শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক দাবি ছিল নিয়োগব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করা। কিন্তু ক্রমে সেই দাবির সঙ্গে যুক্ত হয় তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সংকুচিত সুযোগ এবং নাগরিক মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা। ফলস্বরূপ আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে রাজপথে, রাজপথ থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনায় ছড়িয়ে পড়ে। এই বিস্তারই প্রমাণ করে যে অসন্তোষ বহুদিনের ছিল; কোটা ছিল তার দৃশ্যমান উপলক্ষ।
এমন প্রেক্ষাপটে আন্দোলনের চরিত্র নিয়ে দুটি বিপরীত ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। এক পক্ষ পুরো ঘটনাকে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখার চেষ্টা করেছে, অন্য পক্ষ একে সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বাস্তবতা সম্ভবত এই দুই চরম অবস্থানের মাঝামাঝি। বড় রাজনৈতিক আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি, নাগরিক উদ্যোগ কিংবা কৌশলগত সমন্বয় থাকতেই পারে। কিন্তু কোনো পরিকল্পনা তখনই কার্যকর হয়, যখন সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি আগে থেকেই তৈরি থাকে। মানুষের মধ্যে যদি ক্ষোভ, হতাশা ও আস্থাহীনতা না থাকে, তাহলে কেবল পরিকল্পনার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষকে রাজপথে নামানো সম্ভব নয়। ইতিহাসের অধিকাংশ গণআন্দোলনই এই বাস্তবতার সাক্ষ্য বহন করে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও একই শিক্ষা দেয়। তিউনিসিয়ার মোহাম্মদ বুয়াজিজি কোনো রাজনৈতিক বিপ্লবের নকশা নিয়ে আত্মাহুতি দেননি। প্রশাসনিক হয়রানি, অপমান ও অর্থনৈতিক হতাশার বিরুদ্ধে তার ব্যক্তিগত প্রতিবাদই ২০১০ সালের জেসমিন বিপ্লবের সূচনাবিন্দু হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই বিস্ফোরণের পেছনে বহু বছরের জনঅসন্তোষ কাজ করেছিল। একইভাবে মিশরে খালেদ সাঈদের মৃত্যু পুলিশি নির্যাতনের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা জনমত পরবর্তী গণআন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। অর্থাৎ দৃশ্যমান ঘটনা ছিল উপলক্ষ, কিন্তু পরিবর্তনের শক্তি এসেছিল দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সংকট থেকে।
বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত নেটওয়ার্ক এবং মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি পরস্পরকে শক্তিশালী করেছে। আধুনিক যুগে গণআন্দোলনের সংগঠন ও বিস্তারে এ ধরনের সমন্বয় অস্বাভাবিক নয়। কোনো আন্দোলন সুসংগঠিত হলেই তাকে ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না। বরং তার গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে সমাজে আগে থেকেই বিদ্যমান অসন্তোষ, ক্ষোভ এবং আস্থাহীনতার মাত্রার ওপর।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াও যে রাজনৈতিক সংকটের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, ইতিহাস তারও অসংখ্য উদাহরণ বহন করে। সংলাপের পরিবর্তে বলপ্রয়োগ, কঠোর দমননীতি কিংবা নাগরিক স্বাধীনতার ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ অনেক সময় সংকট নিরসনের পরিবর্তে তাকে আরও গভীর করে তোলে। বাংলাদেশেও জুলাই আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, কারফিউ, ইন্টারনেট ও মোবাইল ডেটা সীমিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অভিযান এবং প্রাণহানির ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে। এসব পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এগুলো জনঅসন্তোষ প্রশমিত করার পরিবর্তে বিস্তৃত করেছে—এমন মূল্যায়ন অস্বাভাবিক নয়।
রোমানিয়ার ১৯৮৯ সালের টিমিশোয়ার ঘটনাও একই শিক্ষা দেয়। একটি সীমিত স্থানীয় প্রতিবাদ খুব অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত নিকোলায় চাউশেস্কুর দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে। এই অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দেয় যে দৃশ্যমান কোনো ঘটনা খুব কম ক্ষেত্রেই একক কারণ হিসেবে কাজ করে; তার পেছনে সাধারণত দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষ সক্রিয় থাকে। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনও সেই অর্থে ব্যতিক্রম নয়।
এই কারণেই ৫ অগাস্ট ২০২৪-কে কেবল একটি তারিখ হিসেবে দেখলে তার ঐতিহাসিক তাৎপর্য পুরোপুরি উপলব্ধি করা যায় না। এর আগে টানা আন্দোলন, প্রাণহানি, প্রশাসনিক সংকট এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের অবনতি পরিস্থিতিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যায়, যেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তন বাস্তবে রূপ নেয়। অর্থাৎ ৫ অগাস্টকে বুঝতে হলে জুলাইকে বুঝতে হবে, আর জুলাইকে বুঝতে হলে তারও আগে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নিতে হবে।
এই অভিজ্ঞতা শুধু একটি সরকারের জন্য নয়, বাংলাদেশের সমগ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, যদি জবাবদিহি দুর্বল হয়, সমালোচনার পরিসর সংকুচিত হয়, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং নাগরিকের ন্যায্য প্রত্যাশা দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকে, তাহলে একই ধরনের সংকট আবারও সৃষ্টি হতে পারে। রাজনৈতিক দলের নাম পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মৌলিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয় না।
দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা যেকোনো সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আত্মসমালোচনার সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা। যখন একটি রাজনৈতিক দল বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তার সিদ্ধান্তই একমাত্র সঠিক, বিরোধিতা মানেই ষড়যন্ত্র এবং সমালোচনা মানেই শত্রুতা, তখন নীতিনির্ধারণে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এর ফলেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়মুক্তির সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করে, অন্যায়ের প্রতিকার দুর্বল হয়ে পড়ে, বৈষম্য বাড়ে এবং জনগণের আস্থা ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। রাজনৈতিক ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এই আস্থাহীনতাই একসময় বড় সংকটের ভিত্তি তৈরি করে।
এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের জন্য যেমন আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি অন্য সব রাজনৈতিক দলের জন্যও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আওয়ামী লীগের সামনে প্রশ্ন হলো, কেন তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ রাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ল এবং কেন একটি সীমিত প্রশাসনিক দাবির আন্দোলন বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের রূপ নিল। অন্যদিকে বাকি দলগুলোরও উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, প্রশাসনের দলীয়করণ কিংবা আইনের অসম প্রয়োগ কোনো দলের জন্যই দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনে না। ইতিহাসে এমন উদাহরণ বিরল, যেখানে অন্যায়ের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক আধিপত্য স্থায়ী হয়েছে।
একই সঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তন নিজেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দেয় না। টেকসই গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক সংস্কার, কার্যকর বিচারব্যবস্থা, সুশাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, কার্যকর সংসদ এবং স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। পরিবর্তনের পর যদি অতীতের ভুল নতুন রূপে ফিরে আসে, তাহলে ইতিহাসও নতুন আঙ্গিকে নিজেকে পুনরাবৃত্ত করতে পারে।
মোটকথা, জুলাই থেকে ৫ অগাস্টের ঘটনাপ্রবাহকে কেবল ষড়যন্ত্র কিংবা কেবল আকস্মিক গণঅভ্যুত্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করলে বাস্তবতার একটি অংশই ধরা পড়ে। অধিকতর গ্রহণযোগ্য বিশ্লেষণ হলো, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক সংকট এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে একটি সীমিত দাবি বৃহত্তর জনআন্দোলনে রূপ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক শক্তির জন্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, যদি মনে করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী, জবাবদিহি অপ্রয়োজনীয়, বিরোধী মত দমনযোগ্য এবং রাষ্ট্রকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য, তাহলে একসময় সেই রাজনীতির মূল্য দিতেই হয়। ইতিহাসের ধারাবাহিক শিক্ষা এ কথাই বলে। তাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে ক্ষমতার প্রকৃত উৎস জনগণ, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান জবাবদিহির আওতায় থাকবে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা পরিচালিত হবে গণতান্ত্রিক নিয়ম ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া গেলে তবেই অধিক ন্যায়ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র নির্মাণের পথ আরও সুদৃঢ় হবে।
খালিদুর রহমান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক। ই-মেইল: khalid_sust@yahoo.com