Published : 14 Dec 2021, 08:08 PM
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার হৈমন্তী ছোট গল্পে লিখেছিলেন, "সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।" অনেকেই সম্পত্তি আর সম্পদকে গুলিয়ে ফেলেন, তাদের কাছে দুটোরই অর্থ একই। শব্দ দুটির অর্থ যে এক নয় তা কবিগুরু হৈমন্তী গল্পে পরিষ্কার করেছেন। অর্থ সম্পত্তি যে কেউ ছিনিয়ে নিতে পারে, কোনো না কোনোভাবে তা খরচ হয়ে যেতে পারে অথবা চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যে সম্পদ বঙ্গবন্ধুকন্যা অর্জন করেছেন তা হারানোর নয়। যতদিন বিশ্ব আছে তার সে সম্পদ নিয়ে অনেক গবেষণা-আলোচনা হবে। আর এ সম্পদের মাধ্যমে তিনি বেঁচে থাকবেন। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে সম্পদ নিয়ে আলোচনা করব তা হলো তার অর্জিত সম্মাননা ও পদকসমূহ।
সম্মানসূচক ডক্টরেট ও ফেলোশিপ:
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যত সম্মানসূচক ডিগ্রী অর্জন করেছেন, বিশ্বে তার নজীর খুবই কম। সমসাময়িক কালে আমরা আর কাউকে দেখি না যিনি তার মতো এত সম্মাননা পেয়েছেন। সর্বমোট ২০টি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সম্মাননা পেয়েছেন যেগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নীচে দেওয়া হল।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি। ম্যাসাচুসেট্সের বোস্টনে ১৮৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ২১ নম্বরে, আর সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ৭৪তম। ১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডক্টর অব ল প্রদান করে।
ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান
১৮৯২ সালের দিকে এটি একটি বৃত্তিমূলক বিদ্যালয় বা 'ওয়াসেদা স্কুল' নামে পরিচিত ছিল। একটি বৃত্তিমূলক স্কুল থেকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতির সাথে সাথে 'ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়' নামকরণ করা হয়েছিল ২ সেপ্টেম্বর, ১৯০২ সালে।
৪ জুলাই, ১৯৯৭, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ডক্টর অব ল সম্মাননা পান।
আবার্টে ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডি, স্কটল্যান্ড
স্কটল্যান্ডের ডান্ডি শহরের দুইটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আবার্টে বিশ্ববিদ্যালয় (পূর্বে আবার্টে ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়) একটি। ১৮৭২ সালে ডান্ডিতে একটি মেকানিক্স ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য উইল করা হয়েছিল। ১৮৮৮ সালে ডান্ডি ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯০২ সালে প্রতিষ্ঠানটি স্কটিশ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করে। আবার্টে বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯৭ সালে বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার গেমস ডিগ্রি চালু করে। ২০০৬ সাল থেকে আবার্টে বিশ্ববিদ্যালয় নীতিগত হ্যাকিংয়ে প্রথম ডিগ্রি দেওয়া শুরু করে।
১৯৯৭ সালের ২৫ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের আবার্টে ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডি বাংলাদেশের নির্ভীক জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিবারেল আর্টস-এ ভূষিত করে।
পল হ্যারিস ফেলোশিপ
রোটারি হলো ১ দশমিক ২ মিলিয়ন মানুষের একটি বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক। ১১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রোটারির সদস্যরা সর্বদা বিশ্বের উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক রোটারি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পল হ্যারিস ফেলোশিপ প্রদান করে।
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত
১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী ১৯৫১ সালে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে। দেশবিদেশ থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আসেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, অস্কার বিজয়ী চিত্র-পরিচালক সত্যজিৎ রায়, জয়পুরের রানী তথা কোচবিহারের রাজকন্যা গায়েত্রী দেবী।
২৪ জানুয়ারি, ১৯৯৯, ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ত্রিকালদর্শী নেত্রী শেখ হাসিনাকে দেসিকোত্তামা ডিগ্রি প্রদান করে।
অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়টি মূলত রাজধানী ক্যানবেরায় অবস্থিত একটি জাতীয় গবেষণা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকটি জাতীয় একাডেমি এবং ইন্সটিটিউট ছাড়াও সাতটি অধ্যাপনা ও গবেষণা কলেজ রয়েছে। ২০২১ কিউএস ওয়ার্ল্ড বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিয়ে অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ গোলার্ধে এক নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পেয়েছে। ২০২১-এ কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংয়ে এটি বিশ্বের ৩১তম স্থান অর্জন করেছে।
২০ অক্টোবর, ১৯৯৯, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রি লাভ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শুধু শিক্ষা নয় বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করে।
ব্রাসেলসের ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বেলজিয়াম
ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্রাসেলসে অবস্থিত একটি ফ্লেমিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৬৯ সালে এটি সেইন্ট অ্যালয়াসিয়াস কলেজের একটি অনুষদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নব্বই দশকের গোড়ার দিকে এটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০০, বেলজিয়ামের বিশ্বখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, সারা বিশ্বে প্রশংসিত জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার ও শান্তি রক্ষায় তার সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকার জন্য সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি 'ডক্টর হোনরিস কাউসা' প্রদান করে।
ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ব্রিজপোর্টে অবস্থিত ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি অলাভজনক ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ৪৫টিরও বেশি অঙ্গরাজ্য এবং ৮০টি দেশের শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান অন্বেষণে লিপ্ত।
৫ সেপ্টেম্বর, ২০০০, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব হিউম্যান লেটার লাভ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মানবতার মা শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
গাজীপুর জেলার সালনায় অবস্থিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের প্রেক্ষিতে ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। কৃষিবিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষার প্রসার এবং কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে উন্নত শিক্ষাদান, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও হস্তান্তর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য।
২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।
ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র
১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি উপকূলে ৪০ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দক্ষিণ ফ্লোরিডায় শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছিল। ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেছেন। তবে দিন তারিখের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।
আবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ড
স্কটল্যান্ডে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৪৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি স্কটল্যান্ডের তৃতীয় প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। আবারডিন ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের শীর্ষ ২০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান পেয়ে এসেছে এবং দ্য গার্ডিয়ান অনুসারে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান পেয়েছে।
আবারডিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেছেন। তবে এক্ষেত্রেও দিন তারিখের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।
পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়া
সোভিয়েত সরকারের সিদ্ধান্তে ১৯৬০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৬১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্যাট্রিক লুমুম্বার নামে নামকরণ করা হয়ে– যিনি ছিলেন আফ্রিকার জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রতীক। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২, রাশিয়া সরকারের সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়া।
২০০৫ সালের জুন মাসে রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ইস্পাত দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী শান্তির দূত শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। শান্তি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের জন্য তাকে ওই সম্মাননা দেওয়া হয়।
সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটি, রাশিয়া
সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় রাশিয়ার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। সম্রাট প্রথম পিটারের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় রাশিয়ার একমাত্র উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালে ৩০০তম বর্ষ উদযাপন করবে।
২৩ নভেম্বর, ২০১০, সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক উন্নয়নে অবদানের জন্য সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।
দউফিন বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্রান্স
প্যারিসে অবস্থিত দউফিন বিশ্ববিদ্যালয়টি মূলত একটি পাবলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এটি ফ্রান্সের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা একাধারে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় উভয়ই। ১৯৬৮ সালে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনা অনুষদ হিসাবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
দউফিন 'গ্র্যান্ড ইটাব্লিসেসমেন্ট' মর্যাদার অধিকারী একটি বিশ্ববিদ্যালয়। দউফিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের জাতীয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ নম্বর পেতে হয়। গুণগত মানের দিক দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ফ্রান্সে প্রথম স্থানে এবং সারা বিশ্বে প্রথম পঞ্চাশের মধ্যে।
২০১১ সালে, প্যারিসের দউফিন বিশ্ববিদ্যালয় আপসহীন নির্ভীক বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক স্বর্ণপদক এবং ডিপ্লোমা পুরস্কার প্রদান করে।
বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ
৩০ ডিসেম্বর, ২০১১, সালে বাংলা ভাষার ধারক ও বাহক হিসেবে বাংলা একাডেমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে।
ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়
ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষার সূচনা হয়েছিল, ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজ্যের প্রথম ডিগ্রি কলেজ মহারাজা বীর বিক্রম মহাবিদ্যালয়ের মাধ্যমে। এই মহাবিদ্যালয়টি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। এরপরে ১৯৫০ সালে রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়, ১৯৬৪ সালে বেলোনিয়া কলেজ এবং ১৯৬৭ সালে রামঠাকুর কলেজ, সবই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত ছিল। ১৯৮৭ সালে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
১২ জানুয়ারি, ২০১২, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি এবং উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য ভারতের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আধুনিক বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডক্টর অব লিটারেচার বা ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র
কর্নেল একটি বেসরকারিভাবে অনুমোদিত গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নিউ ইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির অংশীদার। ১৮৬৮ সালে কার্যক্রম শুরু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০০০ একরেরও বেশি জমিতে বিস্তৃত।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের আপোষহীন দৃঢ়চেতা আত্মবিশ্বাসী নেত্রী শেখ হাসিনাকে একটি সনদ প্রদান করে। খাদ্য উৎপাদনের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও আইসিটি উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য তাকে ওই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর দ্য বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইন্সটিটিউট নামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি এই অঞ্চলের প্রথম কৃষি শিক্ষা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ২০০১ সালের ১৫ জুলাই এই প্রতিষ্ঠানকে ইন্সটিটিউট থেকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়।
১৬ নভেম্বর, ২০১৫, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক 'ডক্টর অব দ্য ইউনিভার্সিটি' ডিগ্রি লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত
এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল মহানগরীর একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ভারতের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়েছে, যিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবিও।
২৬ মে, ২০১৮, পশ্চিমবঙ্গের কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক 'ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট)' সম্মানে ভূষিত হন শেখ হাসিনা।
উপরে উল্লেখিত বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিগ্রী ছাড়াও সামাজিক কর্মকাণ্ড, শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের কণ্ঠস্বর শেখ হাসিনাকে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা সম্মানিত করেছে। তার প্রাপ্ত সকল পুরস্কারের তথ্য দল আওয়ামী লীগ ও নেতাদের কাছে আছে বলে আমার সন্দেহ।
প্রধানমন্ত্রীর সম্মাননা ও পদক বিষয়ে অনেক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে কিছু অসঙ্গতি লক্ষ করে আমি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে গবেষণার সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও পুরো তালিকা পাইনি। বরং তাদের কেউ কেউ আমাকে 'গুগল' এ সার্চ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অনেক প্রতিকূলতার মাঝেও আমি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশের অধিকাংশ পত্রিকা লিখেছে. প্রধানমন্ত্রী ৩৭টি পদকে ভূষিত হয়েছেন। পত্রিকাগুলো নিজস্ব কোনো অনুসন্ধান চালিয়েছে বলে আমার মনে হয়নি। তারা শুধু সংবাদমাধ্যম যা জানিয়েছে তা হুবহু অনুলিপি করেছে। বাংলাদেশের কোনো পত্রিকায় এ খবরটি আমি দেখিনি, প্রধানমন্ত্রী মাদার তেরেইজা পুরস্কার দুই বার পেয়েছেন, ভারতের দুটি পৃথক সংগঠন থেকে। দ্বিতীয়বার যখন তিনি পুরস্কারটি পান তখন তিনি বিরোধী দলীয় নেত্রী ছিলেন। হয়তো সে কারণেই সে হিসাব রাখার দরকার মনে করেনি পত্রিকাগুলো। বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা যত পুরস্কার পেয়েছেন তার সব খবর রাখা কঠিনই বটে। আমার অনুসন্ধানে যা পেয়েছি তাতে শেখ হাসিনা ত্রিশটি পুরস্কার পেয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে। নিম্নে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনাসহ তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
'হুপে-বোয়ানি' শান্তি পুরস্কার
১৯৮৯ সালে ইউনেসকো ফেলিক্স হুপে-বোয়ানি শান্তি পুরস্কার (Félix Houphouët-Boigny-UNESCO Peace Prize) প্রতিষ্ঠা করেছিল। প্রতি বছর যারা জাতিসংঘের সনদ এবং ইউনেসকোর সংবিধানের সাথে সঙ্গতি রেখে শান্তির প্রচার, অনুসন্ধান, সুরক্ষা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে এমন জীবিত ব্যক্তি এবং সক্রিয় সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সর্বদা শান্তিতে অবিচল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
'মেডাল অব ডিসটিন্কশন' ও 'হেড অব স্টেট'
বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বঙ্গবন্ধুকন্যা আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাব কর্তৃক ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে 'মেডাল অব ডিসটিন্কশন' ও 'হেড অব স্টেট' পদক লাভ করেন।
মাদার তেরেইজা পুরস্কার ১৯৯৮
সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ ভারতীয় একটি সংস্থা যা মানুষের মধ্যে শান্তি, সংহতি ও বন্ধুত্বের প্রচার করে। এআইপিএসও ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সংস্থাটি ওয়ার্ল্ড পিস কাউন্সিলের সদস্য।
এআইপিএসও ১৯৯৮ সালে বর্তমান বিশ্বের শান্তির দূত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'মাদার তেরেইজা' পুরস্কারে সম্মানিত করে।
নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু স্মৃতি পদক
পশ্চিমবঙ্গ সর্বভারতীয় কংগ্রেস ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু স্মৃতি পদক প্রদান করে।
গান্ধী পুরস্কার
বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও গণতন্ত্র প্রসারে তার অবদানের জন্য নরওয়ের অসলোতে অবস্থিত মহাত্মা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ফাউন্ডেশন শান্তিদূত শেখ হাসিনাকে 'গান্ধী পদক' প্রদান করে। ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী এই পুরস্কার গ্রহণ করেন৷
দ্য সিরিস মেডেল
সিরিস বা সেরেস পদকটির নামকরণ করা হয়েছে রোমান কৃষিদেবীর নামে। ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবদান রেখেছেন এমন স্বনামধন্য নারীদের ১৯৭১-এর পর থেকে এই পদক দেওয়া হয়। এই পদক বিশ্ব নারী নেত্রীদের অবদানের জন্য দেওয়া সর্বোচ্চ পুরস্কার।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাদ্য সুরক্ষা ও কৃষিক্ষেত্রে তার দীর্ঘকালীন প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক আন্তর্জাতিক সিরিস পদক লাভ করেন ১৯৯৯ সালে।
পার্ল এস বাক পুরস্কার
ভার্জিনিয়ার অ্যাশল্যান্ডে রানডলপ কলেজ প্রথমে রানডলপ-ম্যাকন উইমেন্স কলেজ নামে ১৮৯১ সালে স্থাপিত হয়েছিল। এই মহাবিদ্যালয় সেইসব নারীদের 'পার্ল এস বাক পুরস্কার দিয়ে থাকে যারা বাকের আদর্শ, মূল্যবোধ এবং প্রতিশ্রুতি ধারণ করেন। বাক তার মানবিক কাজের জন্য এবং নাগরিক অধিকার, নারীর অধিকার, শিশুদের অধিকারের আজীবন কাজ করেছেন। শান্তিদূত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০০০ সালের ৯ এপ্রিল রানডলপ ম্যাকন উইমেন্স কলেজ পার্ল এস বাক পুরস্কার দেয়।
আফ্রো-এশিয়ান লয়ার্স ফেডারেশন সম্মাননা
এই ফেডারেশনের মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনকে প্রতিহত করা এবং আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই অধিকারগুলি সক্রিয় করা।
২০০০ সালে আফ্রো-এশিয়ান লয়ার্স ফেডারেশন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'পার্সন অব দ্য ইয়ার' উপাধিতে ভূষিত করে।
মাদার তেরেইজা পুরস্কার (দ্বিতীয়বার)
মাদার তেরেইজা অ্যাওয়ার্ডস যা মাদার তেরেইজা মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ডস অব সোশ্যাল জাস্টিস নামে পরিচিত। যে সকল ব্যক্তি ও সংস্থা শান্তি, সাম্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রচারণা চালায় ও তা প্রয়োগে কাজ করে এবং সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে উত্সাহিত করার লক্ষ্যে কাজ করে তাদেরকে প্রতিবছর মাদার তেরেইজা সম্মানে পুরস্কার দেওয়া হয়।
বঙ্গবন্ধুকন্যার এ পুরস্কারপ্রাপ্তির বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো পত্রিকা থেকে নূন্যতম কোনো তথ্য পাইনি। এমনকি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর পাতায়ও আমি কোনো তথ্য খুঁজে পাইনি। তবে 'জি নিউজ' নিশ্চিত করে ২৫ জুন, ২০০৬, রোববার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মাদার তেরেইজা আন্তর্জাতিক ও মিলেনিয়াম অ্যাওয়ার্ড ২০০৫ গ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধুকন্যা ১৯৯৮ সালে যে 'মাদার তেরেইজা' পুরস্কার পেয়েছেন সে পুরস্কারটি দিয়েছিল সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ, মাদার তেরেইজা অ্যাওয়ার্ড কমিটি না। এক্ষেত্রে বিষয়টি পরিষ্কার তিনি দুবার দুটি ভিন্ন সংস্থা থেকে মাদার তেরেসা পুরস্কার ১৯৯৮ ও ২০০৫ সালে পেয়েছেন। পরের পুরস্কারটি ছিল তার সারা জীবনের কর্মের জন্য। দ্বিতীয়বার পুরস্কার প্রাপ্তির খবর বাংলাদেশের পত্রিকায় না আসার কারণ একটাই হতে পারে তা হলো তিনি তখন বিরোধী দলীয় নেত্রী আর ক্ষমতায় ছিল বিএনপির জোট সরকার। তখন তার সব অর্জনকে ম্লান করতেই সংবাদ মাধ্যমকে প্রেরণা জোগানো হয়েছে।
এই পুরস্কার গ্রহণ করে মানবতার জননী বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, "বিখ্যাত মাদার তেরেসার নামে এই সম্মাননা পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি।" তিনি আরও বলেন, "আমি মনে করি মানবিক মূল্যবোধকে বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত।"
ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার
এশিয়াটিক সোসাইটি ১৯৮৪ সালের ১৭ নভেম্বর এই পুরস্কার প্রবর্তন করে। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'ইন্দিরা গান্ধী গোল্ড প্ল্যাক' পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি।
ইন্দিরা গান্ধীর স্নেহধন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি নয়াদিল্লীতে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিলের হাত থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন।
ব্রিটেনের গ্লোবাল ডাইভারসিটি পুরস্কার
ব্রিটিশ ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ডস সেই সকল ব্যক্তি, সংস্থা এবং নেপথ্যের নায়কদেরকে দেওয়া হয় যারা বিশ্বকে অন্যের জন্য উন্নত করতে সহায়তা করেন, এবং সমতা ও বৈচিত্র্যকে ধারণ করেন। ২৬ জানুয়ারি, ২০১১, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে 'গ্লোবাল ডাইভারসিটি' পুরস্কার পেয়েছেন। হাউজ অব কমন্সের স্পিকার জন বারকো এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার তুলে দেন বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার হাতে।
দ্য সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ডস
দ্য ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন (আইওএসএসসি) অ্যাওয়ার্ড জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিলের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। দক্ষিণের দেশগুলোর উন্নয়ন সংগঠন আইওএসএসসি মানবাধিকার, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক তৎপরতায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবছর এই পদক দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দুইবার মতান্তরে তিনবার এই পদকে ভূষিত হয়েছেন।
২০১১ সালে প্রথমবার স্বাস্থ্যখাতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার হ্রাসে অবদানের জন্য তিনি এ পুরস্কার পান। ২০১৩ সালে ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তাকে আবারও ওই সম্মাননা দেওয়া হয়।
এছাড়াও দুইটি সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা জয়ের জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভ করেন ৷ (তবে এ ব্যাপারে আমার কাছে সঠিক কোনো তথ্য নেই।)
ইউনেসকো পিস ট্রি অ্যাওয়ার্ড
নারী ও কন্যাশিশুদের শিক্ষা প্রসারের স্বীকৃতি হিসাবে ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইউনেসকো 'শান্তিবৃক্ষ' পুরস্কার পান বিদ্যোৎসাহী নেত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা নগরীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে 'শান্তিবৃক্ষ' স্মারক তুলে দেন ইউনেসকোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা। সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে 'সাহসী নারী' হিসেবে অভিহিত করেন৷ তিনি বলেন, 'নারী ও কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব মঞ্চের জোরালো এক কণ্ঠ'৷
বঙ্গবন্ধুকন্যা ইউনেসকোর এই পুরস্কার বিশ্বের সকল নারী ও শিশুদের উৎসর্গ করেছেন, বিশেষ করে বাংলাদেশের কন্যাশিশুদের৷ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, "আমি মনে করি, উপযুক্ত শিক্ষাই পারে একটি মেয়েকে সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে৷ যে কোন ধরনের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহসও শিক্ষাই দিতে পারে৷ আমরা সে কাজটিই করে যাচ্ছি৷"
গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড
রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষিণের দেশগুলোর উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ২০০৮ সালে জাতিসংঘে সাউথ সাউথ কো-অপারেশন কার্যালয় স্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় তার মা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে জাতিসংঘের "সাউথ-সাউথ সহযোগিতা ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড" গ্রহণ করেন। ২১ নভেম্বর ২০১৪, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত পাঁচ দিনের "গ্লোবাল সাউথ সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ সমাপ্তির শেষে, জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত ই পিং ঝু সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
রিজিওনাল লিডারশীপ পুরস্কার
উইমেন পলিটিক্যাল লিডারস (WPL) নারী রাজনীতিবিদদের একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক। এই সংগঠনের উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীদের সংখ্যা ও প্রভাব বৃদ্ধি করা। ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরাম নারীর ক্ষমতায়নের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কারে ভূষিত করে।
জাতিসংঘের 'আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার'
আইসিটি উন্নয়নের অগ্রগতিতে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমন একটি ভূমিকা যা বিশ্বকে গভীরভাবে সংযুক্ত হওয়ার ধারাকে প্রসারিত করে। প্রতিবছর, আইটিইউ বিশ্বব্যাপী সেই সকল নেতাদের স্বীকৃতি দেয় যারা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আইসিটি ব্যবহারকে উৎসাহিত করে।
২০১৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের মহাসচিব হাউলিন ঝাওয়ের কাছ থেকে 'আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার' গ্রহণ করেন।
চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট পরিবেশবাদীদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ২০০৫ সালে 'চ্যাম্পিয়নস অব দ্যা আর্থ' বার্ষিক পুরস্কার চালু করে।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তার দেশের উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনাইটেড নেশনস চ্যাম্পিয়নস অব আর্থ অ্যাওয়ার্ডের অন্যতম বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হয়।
'প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন' ও 'এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড'
প্রতিবছর জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন-উইম্যান-এর পক্ষ থেকে 'প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন' পুরস্কার প্রদান করা হয়। নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০১৬ সালে 'প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন' অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একই দিনে 'প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন' ও 'এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড' গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, জাতিসংঘ প্লাজায় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার হাতে 'এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড' তুলে দেয় গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম।
গ্লোবাল উমেন্স লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ডস
গ্লোবাল উইমেন রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন ইন্সটিটিউট (Global Women Research and Education Institute) যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত একটি অলাভজনক সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। WRI একটি পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ সংগঠন।
বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে অসামান্য নেতৃত্বদানে আজীবন কৃতিত্বের পুরস্কার হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। ২৭ এপ্রিল, ২০১৮, সিডনিতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থা 'দ্য ইন্টার প্রেস সার্ভিস' (আইপিএস)। সংস্থাটির সদর দপ্তর ইতালির রোমে। এই সংগঠনের মূল লক্ষ হলো সামাজিক, রাজনৈতিক, নাগরিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলি সম্পর্কে সংবাদ এবং বিশ্লেষণ। আইপিএস ১৯৬৪ সালে একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সমবায় সমিতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
আইপিএস রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় গতিশীল, দূরদর্শী নেতৃত্ব, রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে দায়িত্বশীল নীতি ও মানবিকতার জন্য বিশ্বনেত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০১৮ সালে সম্মানিত করার জন্য মনোনীত করে। সেই নিমিত্তে আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম-এর মহাপরিচালক উইলিয়াম লেসি সুইং জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে আইপিএস-র অত্যন্ত মর্যাদাশীল 'ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' প্রদান করেন।
স্পেশাল ডিস্টিংশন অ্যাওয়ার্ডস ফর লিডারশিপ
নিউইয়র্ক, জুরিখ ও হংকং ভিত্তিক তিনটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক হল গ্লোবাল হোপ।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের দায়িত্বশীল নীতি ও মানবিক সাহায্য প্রদান এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।
মেডাল অব ডিসটিন্কশন (দ্বিতীয়বার)
দরিদ্র অসহায় বিশেষ করে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মাদার অব হিউম্যানিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'মেডেল অব ডিসটিংকশনে' ভূষিত করেছে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল। ২৮ মার্চ, ২০১৮, বুধবার সকালে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট নরেশ আগরওয়াল গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মেডেল অব ডিসটিংকশনে ভূষিত করেন।
লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড
ইন্সটিটিউট অব সাউথ এশিয়ান উইমেন (আইএসএডব্লিউ) নয়াদিল্লীভিত্তিক একটি অলাভজনক বেসরকারি সংস্থা। আইএসএডব্লিউ ২০১২ সালে সার্ক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও এর সদস্যপদ ও কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।
২০১৯ সালের ৭ মার্চ বার্লিনে সিটি কিউব আইটিবি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাকে 'লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড'-এ ভূষিত করে, ইন্সটিটিউট অব সাউথ এশিয়ান উইমেন। জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এই পদক গ্রহণ করেন।
ভ্যাকসিন হিরো
গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনেশন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (GAVI) গ্যাভি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে সারা বিশ্বে কোটি কোটি শিশুর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির অনন্য সাফল্যের জন্য শেখ হাসিনাকে 'ভ্যাকসিন হিরো' সম্মাননায় ভূষিত করেছে। গ্যাভি দ্বিতীয়বারের মতো কাউকে এই পুরস্কারে ভূষিত করল। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা শেখ হাসিনাকে এই পুরস্কার দেয়।
ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড
ডেল ভিউ গ্রুপ 'ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড' প্রবর্তন করেছে এপিজে আবদুল কালামের আদর্শকে অমর করতে। এই পুরস্কারের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করা।
শেখ হাসিনা 'ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০১৯'-এর জন্য মনোনীত হন। ২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান উপদেষ্টা টি পি শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারপার্সন দীনা দাসও উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুর শান্তি পুরস্কার-২০১৮
কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটি আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে শেখ হাসিনার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ 'ঠাকুর শান্তি পুরস্কার-২০১৮' প্রদান করে। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ইশাহ মোহাম্মদ ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ভারতের রাজধানীতে হোটেল তাজমহলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকন্যার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
পুরস্কার গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তা দেশবাসীকে উৎসর্গ করে বলেন, 'বাংলাদেশের মানুষ এই সম্মান পাওয়ার উপযুক্ত'।
এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড
জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা ও সবার জন্যে শান্তি-সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণের সার্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার' দিয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জনের জন্য 'এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড' পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে (ভার্চুয়াল) এ পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ পুরস্কার গ্রহণ করে বাংলাদেশের জনগণকে এটি উৎসর্গ করছেন।'
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক শেখ হাসিনাকে 'জুয়েল ইন দ্য ক্রাউন অব দ্য ডে' হিসেবে তুলে ধরেন এবং বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী চলাকালেও এসডিজি প্রচারণা কার্যক্রম চালাতে তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'এ পুরস্কার হচ্ছে এসডিজি'র লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে জোরালো দায়িত্ব পালনের একটি প্রমাণপত্র।'