১৯৭১ হলো বাংলাদেশের ভিত্তিভূমি আর ২০২৪ হলো চলার নতুন নিশানা। একটির সঙ্গে আরেকটির তুলনা হয় না। কিন্তু অনেকে তুলনা করছেন। তুলনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
Published : 16 Dec 2024, 09:31 AM
রাজনৈতিক বিবেচনায় ১৯৭১ এবং ২০২৪ এক নয়। দুটো আলাদা সত্তা, স্বতন্ত্র মহিমায় অস্তিত্বশীল। ১৯৭১ হলো বাংলাদেশের ভিত্তিভূমি আর ২০২৪ হলো চলার নতুন নিশানা। একটির সঙ্গে আরেকটির তুলনা হয় না। কিন্তু অনেকে তুলনা করছেন। তুলনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। কারণ, তুলনা ছাড়া অনেক বিষয় বা ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারি না আমরা।
প্রকৃত অর্থে, কোনো কিছুর সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর তুলনা হয় না। যোগাযোগের একটি থাম্ব রুল হলো– পৃথিবীর প্রতিটি প্রপঞ্চ আলাদা (এভরি ইউনিট ইজ ইউনিক ইন দ্য ওয়ার্ল্ড)। উদাহরণ হিসেবে বলা হয় প্রতিজন মানুষের হাতের আঙ্গুলের ছাপ এক রকম নয়। সুতরাং একাত্তর এবং চব্বিশ এক নয়। দুটো ঘটনাকে পড়তে হবে স্বতন্ত্র ধারায়। টমাস উলফের একটি বই রয়েছে ‘ইউ কান্ট গো ইউর হোম এগেইন’ (কেউ দ্বিতীয়বার তার ঘরে যেতে পারে না)। তিনি আরও বলেছেন, আমরা কখনো এক নদীতে দু-বার গোসল করতে পারি না। নদীর স্রোত যেমন পরিবর্তনশীল ঠিক মানুষও তেমন পরিবর্তনশীল। ওই অর্থে প্রতিটি ঘটনা মুহূর্ত স্বতন্ত্র।
আমাদের স্বাধীনতা একটাই যা অর্জিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। অন্যান্য সকল আন্দোলন, সংগ্রাম ও অর্জন তার বর্ধিত সংস্করণ। কিন্তু কোনো অর্থেই তা ১৬ ডিসেম্বরের সঙ্গে তুলনাযোগ্য নয়। এ ধরনের ব্যাখ্যার শানে নুযুল নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ আছে। তার অর্থ এ নয় যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ছোট করে দেখা হচ্ছে। এটিও আমাদের অত্যন্ত উঁচুমানের অর্জন। বাঙালি তার অধিকারের প্রশ্নে যে নিয়ত জেগে আছে– এ অভ্যুত্থান তা প্রমাণ করে।
চব্বিশকে বলা হচ্ছে দ্বিতীয় স্বাধীনতা এবং নতুন বাংলাদেশ। আন্দোলনের শুরুর দিকে মনে হতো হয়তো এটা রূপকার্থে বলা হচ্ছে। কিন্তু দিন যত গড়াচ্ছে পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তা বিশেষ অর্থারোপ করেই বলা হচ্ছে। একাত্তর-এর মহিমাকে কিছুটা ম্লান করে দেখার অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ শব্দটি যথেষ্ট গুরুত্ব ও সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধের মৌলআকাঙ্ক্ষা ছিল পাকিস্তানি শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে একটি নতুন দেশের ঠিকানা। একাত্তর হলো দেশের প্রশ্ন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন, মানচিত্রের প্রশ্ন। চব্বিশ হলো এক নিপীড়ক স্বৈরশাসকের উচ্ছেদের লড়াই।
পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, একাত্তরকে ছোট করতে না পারলে বা পেছনে ফেলতে না পারলে চব্বিশকে বড় করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ স্বকীয় ধারায় বহমান। সাদৃশ্য রয়েছে, তবে বৈসাদৃশ্য কম নয়। দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট সাদৃশ্য ও বৈশাদৃশ্যের আলোকে চিন্তা করতে শিখিয়েছিলেন।
এসব রাজনৈতিক আন্দোলন বা সংগ্রামকে পড়ার জন্য যে নির্মোহ মনোভঙ্গি দরকার তার সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সবকিছু ছোট-বড় বা তুলনাযোগ্য হয়ে উঠছে। সাত কোটি মানুষের আন্দোলন যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমন আঠারো কোটি মানুষের আন্দোলন সমান গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি একজন মানুষের আন্দোলন বা সংগ্রামও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ সমষ্টি হলো ব্যক্তির আধার। ব্যক্তি না বাঁচলে সমষ্টির বাঁচা সহজ নয়।
চরিত্রগতভাবে দুটো সংগ্রামের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের মুক্তির প্রশ্ন। দুটোই নিপীড়নমূলক শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ঠ মানুষের বাঁধ ভাঙ্গার গল্প। একটি নিপীড়নের বয়স ২৩ বছর আরেকটি বয়স ১৫। একাত্তর-এর শত্রু বাইরের আর চব্বিশ-এর শত্রু ঘরের। স্পিরিটের দিক থেকেও সাজুয্যতার জায়গা হলো একাত্তর মানে হলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারে আকুতি আর চব্বিশ হলো বৈষম্যবিরোধী স্বপ্নকল্প।
পশ্চিমবাংলার ভাষাতাত্ত্বিক কলিম খান ও রবি চক্রবর্তী তাদের বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ গ্রন্থে ‘দেশ’ শব্দের অর্থ নির্ধারণ করেছেন গন্তব্য বা নিশানা। ওই নিশানা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পন্ন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। কিন্তু বিগত ৫৩ বছরে বাংলাদেশ ওই নিশানায় হাঁটতে পারেনি। এ ব্যর্থতা রাজনৈতিক ব্যর্থতা। আমাদের সবার ব্যর্থতা। রাষ্ট্র জনগণের না হয়ে হয়ে উঠেছে শাসকগোষ্ঠী বা গুটিকয়েক মানুষের। রাষ্ট্রের যে বিমানবীকরণ সেটাই প্রধানতম সমস্যা। রাষ্ট্রকে মানবিক বা মানুষের উপযোগী করতে পারিনি। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি। দেশ বড় সময় সামরিক শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ঠ হয়েছে। আবার আরেকটা বড় সময় নির্বাচিত বা পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা শাসকগোষ্ঠীর স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের কৃষ্ণগহ্বরে পড়েছে। নিপীড়ন আর অধিকার বঞ্চনা এদেশের মানুষের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ চাচ্ছে মানবিক ও কার্যকরী রাষ্ট্র।
বড় কথা হলো– মানুষ হাল ছাড়েনি। তা ছাড়েনি ১৯৯০-এ এবং ২০২৪-এ এসেও। জনগণ সদা জাগ্রত রয়েছে। দেশের মানুষ প্রজা থেকে জনগণ হয়ে উঠতে চেষ্টা করছে। ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের মূল বিষয়টি হলো নিপীড়নমূলক শাসন পরিস্থিতিতে জনগণ রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বিচ্যুৎ হয়ে পড়েছিল। এই গণ-অভ্যুত্থান মূলত রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সংযুক্তির লড়াই।
বিগত শাসনামলে জনমনে এমন অনুভূতি জেগেছে যে শাসকগোষ্ঠীই রাষ্ট্রের সব, জনগণ কেবল বালির মতো এক দলা প্রাণহীন সত্তা। নব্বইয়ে জনগণ লড়েছে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য। চব্বিশে জনগণ লড়াই করেছে গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে গড়ে উঠা এক তীব্র স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে, সকল ধরনের বৈষম্য বিলোপের আশায়।
১৯৭১ সালে জনগণ স্বাধীনতা পেয়েছে, মুক্তি পায়নি। মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জনগণের কাছে সোনার পাথর বাটিকা হয়ে উঠেছে। নব্বই বা চব্বিশ-এর আন্দোলন স্বাধীনতার জন্য নয়, মুক্তির জন্য। সেই মুক্তি হলো বৈষম্য-শোষণ-নিপীড়ন থেকে মুক্তি এবং ব্যক্তিমর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের জন্য। এমন দেশ বিনির্মিত হলে অবশ্যই তাকে নতুন বাংলাদেশ বা রূপান্তরিত বাংলাদেশ বলব।
জনগণের যে মুক্তি এলো না তার পেছন কাজ করেছে মূলত রাজনৈতিক ব্যর্থতা। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো কাঠামো দাঁড় করানো গেল না। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা গেল না রাষ্ট্রের মৌলিক চরিত্র। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান জনআকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে পারল না! সংবিধান জনগণের সুরক্ষার চেয়ে শাসকগোষ্ঠীর রক্ষাকবচ হয়ে উঠল। অসৎ উদ্দেশ্যে সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করা হলো। কাটাছেঁড়া করা সংবিধান বাংলাদেশের বুকের ওপর টিউমার হয়ে দাঁড়াল– যা নিরাময়যোগ্য কীনা সেই প্রশ্ন আজ উঠছে?
সংবিধান আজ হয়ে উঠেছে উটকো দলিল। বাংলাদেশের শাসতান্ত্রিক সমস্যার শেকড় সংবিধানের ভাঁজে লুকিয়ে আছে। আরেকটি গুরুতর সমস্যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা ও শ্রদ্ধার অভাব। দেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ সংশয় আর আস্থাহীনতায় ভরা। এ পেছনে মূলত কাজ করে যেনতেনভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার মনোবাসনা। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে দায়িত্ব নেওয়ার চেয়ে ক্ষমতাবান হওয়াটাই মুখ্য। সেই অর্থে এখানে কোনো পরিশীলিত রাজনৈতিক চর্চা গড়ে উঠেনি যা হয় তা নিখাদ ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা বা অপচেষ্টা।
কথা হলো বাঙালি তার প্রতিশ্রুতি থেকে দ্রুত সরে আসে বারবার; যেমন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যুক্ত করা হয়েছে, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। একইভাবে চব্বিশ-পরবর্তী বৈষম্যবিরোধী ধারণা রূপান্তরিত হচ্ছে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণসহ বিভিন্ন ঘোরে। এ ঘোর আর কাটছে না। ঘোরের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছেন নীতিনির্ধারকেরা।
রাষ্ট্র একটি পার্থিব প্রতিষ্ঠান তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে না। রাষ্ট্র মানুষের যুথবদ্ধ সৃষ্টিশীল এক ক্ষমতাকাঠামোর নাম। এ কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে যাতে প্রতিটি মানুষের অধিকার সুরক্ষা, উন্নয়ন ও পরিপূর্ণতা পায়। রাষ্ট্রর শরীরে সর্বজনীন মূল্যবোধ সংযোজনের পরিবর্তে সংখ্যাধিক্যের মূল্যবোধ সংযুক্ত করতে অনেকে তৎপর হয়ে উঠেছেন। সংখ্যাধিক্যের মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র নির্মিত হলে সবার মুক্তি ঘটবে? রাষ্ট্র ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠান নয়, রাষ্ট্র হলো সবার। জনবান্ধব রাষ্ট্র নির্মাণের চেষ্টাটি বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে।
গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, ইসলাম, অন্তর্ভুক্তি, বাঙালি বা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ রাষ্ট্রনীতিতে এগুলোর স্পষ্টীকরণে দীর্ঘদিন ঘুরপাক খাচ্ছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কোনো বোঝাপড়া নেই। রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি কী হবে ওই বিভক্তি রাজনীতিতে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এর কোনো সমাধান দেখি না।
অনেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালিত্বের ধারণা পাঠ করেন হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি ও কলকাতাকেন্দ্রিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে। অনেকে ইসলামী মূল্যবোধ ও বাংলাদেশী চেতনাকে দেখেন ইসলাম ও পাকিস্তানের সঙ্গে সমান্তরাল প্রবাহে। তৃতীয় স্পেসটি এখানে গড়ে ওঠেনি– যা হতে পারত ৫৬ হাজার বর্গমাইলে নানা ভাষাভাষী মানুষের যুথবদ্ধজীবন বা রাষ্ট্রভাবনা নিয়ে আদিকল্প অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে। ইতিহাস বলছে, পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল ‘প্রকৃতিসভা’র মাধ্যমে একধরনের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তার উপরিস্তরে ছিল সীমাহীন নিপীড়ন, দুর্নীতি-অনিয়ম, গণতন্ত্রহীনতা। এগুলোর বিপরীতে ‘বৈষম্যবিরোধী’ পদবাচ্য চাবি শব্দ হয়ে ওঠে। শব্দটি আগুনের মতো স্পার্ক করে। কমবেশি সবাইকে কানেক্ট করে। একাত্তরে যেমন স্লোগান ও ভাষার ভিন্নতা তৈরি হয়েছিল চব্বিশেও নতুন ভাব-ভাষার সন্ধান পাওয়া গেল।
একাত্তর-এর মুক্তিযুদ্ধের গভীর স্তরে ছিল সার্বিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও জনসম্পৃক্ততা। আর চব্বিশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার সম্মিলন। ইসলামিক এলিমেন্ট ও ভারত বিরোধিতা এ আন্দোলনে বিশেষ রসায়ন হিসেবে কাজ করেছে।
মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগের একক সম্পত্তি নয়। মুক্তিযুদ্ধ মূলত জনযুদ্ধ। আওয়ামী লীগ চাইলেই মুক্তিযুদ্ধকে একক সম্পত্তি বানাতে পারে না। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী যখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছুটা নির্লিপ্ততা দেখা যাচ্ছে তখন প্রশ্ন জাগছে মুক্তিযুদ্ধকে কী আমরা জনযুদ্ধ হিসেবে দেখছি না? আমরাও কি এই জনযুদ্ধটিকে আওয়ামী লীগের একক সম্পত্তি হিসেবে দেখতে শুরু করেছি?
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার বিগত ১৫ বছরে দেশে সীমাহীন অনাচার ও ঘৃণিত কাজ করেছে যার প্রতিদান তিনি পেয়েছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে পুনঃপুন উপস্থাপনের মাধ্যমে তার অমিত ক্ষতি সাধন করেছেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী বঙ্গবন্ধু সরকারকে নিয়ে প্রচুর ক্রিটিক করা যায়, কিন্তু ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ পূর্ববর্তী তার বৈধ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব কী অস্বীকার করা যাবে?
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অনন্য ঘটনা যার মধ্য দিয়ে নতুন ঠিকানা ও পরিচয় নির্মিত হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মুক্তির নতুন স্বপ্ন ও অঙ্গীকার যা স্বমহিমায়, স্বচরিত্রে ভাস্বর। খোলা মনে দেখলে দুটির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন নয়। নির্মোহভাবে ইতিহাসকে দেখতে হবে।