১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তেলেঙ্গানায় কারখানা বিস্ফোরণে মৃত্যু বেড়ে ৪৪

ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক নিহতের পরিবার পাবে ১ কোটি রুপি; গুরুতর আহত ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ পাবেন ১০ লাখ রুপি।

তেলেঙ্গানায় কারখানা বিস্ফোরণে মৃত্যু বেড়ে ৪৪
তেলেঙ্গানার এ ওষুধ কারখানায় মাইক্রোক্রিস্টালাইন সেলুলোজ উৎপাদন হচ্ছিল। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jul 2025, 05:41 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:18 PM

ভারতের তেলেঙ্গানায় ওষুধ কারখানায় বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। তাদের মধ্যে ১৫ জন রাতে হাসপাতালে মারা যান।

সোমবার সকালে সাঙ্গারেড্ডি জেলার পাসামাইলারাম শিল্প এলাকায় সিগাচি ইন্ডাস্ট্রিজের এ ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলটি হায়দরাবাদ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে।

মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্ত রেড্ডির মঙ্গলবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, এর আগে রাজ্য এমন বেদনাদায়ক ঘটনার সাক্ষী হয়নি। 

তিনি নিহতদের পরিবারকে এক লাখ রুপি করে এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক নিহতের পরিবার পাবে ১ কোটি রুপি; গুরুতর আহত ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন ১০ লাখ রুপি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দমোদর রাজা নারসিমহা ইতোমধ্যে আহতদের হাতে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা তুলে দিতে শুরু করেছেন।

এনডিটিভি লিখেছে, এ দুর্ঘটনা তেলেঙ্গানার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার একটি। বিস্ফোরণে তিনতলা একটি ভবন ধসে পড়ে। সেখানে এখনো উদ্ধার কাজ চলায় মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে।

বিস্ফোরণটি ঘটে মাইক্রোক্রিস্টালাইন সেলুলোজ শুকানোর ইউনিটে, যেখানে ৩৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এখনো ১২ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন।

রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), হায়দরাবাদ ডিজাস্টার রেসপন্স অ্যান্ড অ্যাসেট প্রোটেকশন এজেন্সি, রাজস্ব বিভাগ ও পুলিশ যৌথভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছে।

হায়দরাবাদ থেকে ৫০ কিমি দূরের এ ওষুধ কারখানায় সোমবার সকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ছবি: হিন্দু

হায়দরাবাদ থেকে ৫০ কিমি দূরের এ ওষুধ কারখানায় সোমবার সকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে

নিহতদের বেশিরভাগই বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও উড়িষ্যা থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিক।

হিন্দু লিখেছে, বিস্ফোরণের সময় কারখানায় মোট ১৪৩ জন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এই বিস্ফোরণের আওয়াজ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়। বিস্ফোরণের ফলে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়, সেই আগুন নেভাতে ১৫টি দমকল ইউনিট ব্যবহার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেক শ্রমিক ছিটকে গিয়ে কয়েক মিটার দূরে পড়েন।

বিস্ফোরণে অনেকের দেহ ছিন্নভিন্ন হওয়ায় বা আগুনে পুড়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এখন ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী দমোদর রাজা নারসিমহা সোমবার জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সঠিক কারণ জানা যায়নি। 

তিনি বলেন, প্রায় ৪০-৪৫ বছরের পুরনো ওই কোম্পানি মাইক্রোক্রিস্টালাইন সেলুলোজ উৎপাদন করে।

শ্রমমন্ত্রী জি বিবেক বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি কোনো রিঅ্যাক্টরের বিস্ফোরণ নয়। এয়ার ড্রায়ার সিস্টেমে কোনো সমস্যার কারণেই বিস্ফোরণ ও আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, এই কমিটি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশও করবে। এই কমিটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশও তুলে ধরবে।